নির্বাচনের ইচ্ছা শেষ আসিফের, গেলেন এনসিপি-তে; এনসিপিকে মাহফুজের না
- আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 142
বৈষম্যবিরোধী ছা্ত্র আন্দোলন থেকে চব্বিশের অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচন করার ইচ্ছা অপূর্ণই থাকবে। তিনি প্রথমে নিজের এলাকা কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে এবং পরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে এসে তিনি নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেন। নির্বাচন করার ষোষণা দিয়েই সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অবশেষে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে (এনসিপি) যোগ দিলেন। দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন সেটি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। সেই জায়গা থেকে আজকে যোগদান করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে আসিফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা নির্বাচন করবেন না তাদেরকে নিয়ে তিনি এই গুরু দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, আসিফ আগেই পদত্যাগ করেছেন সরকার থেকে। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দিলেন। “আমরা আশা করব আসিফ মাহমুদের সাথে আমাদের এই পথচলা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।”
আরেক ছাত্র উপদেষ্টা, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। মাহফুজ আলম বলেছেন, ”আমি তো শুরু থেকেই বলে আসছি যে, নির্বাচন করব না। এই কারণে আমি সরকার থেকে সরে যেতে চাইনি। কিন্তু সরকার মনে করেছে, ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে নির্বাচনের সময় প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে আমি সরে গেছি। কিন্তু নির্বাচন করব না, সেটা আমার আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল।”
ভোটের তফসিল ঘোষণার আগের দিন, গত ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।
সেদিন পদত্যাগের কারণ হিসেবে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বললেও মাহফুজ আলম এ নিয়ে এতদিন কোনো বক্তব্য দেননি। তবে লহ্মীপুর-১ আসন থেকে মাহফুজ আলমের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তার ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমও ওই আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছেন।
ভাইয়ের নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তিনি এনসিপির নেতা, তার নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার কিছু নেই।”
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরে যাওয়ার পর আসিফ ও মাহফুজ কোন দলে ভিড়ছেন, সেই আলোচনা শুরু হয় রাজনীতিতে। জুলাই আন্দোলনের এই দুই নেতা এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন, সেই গুঞ্জনও ছিল।
এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গড়ার আলোচনার মধ্যে এনসিপি থেকে সরে দাঁড়ান তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের মতো নেত্রী। এছাড়া জামায়াতের জোটে না ভিড়তে আহ্বায়ককে চিঠি লেখেন এনসিপির ৩০ নেতা। তবে এসব উপেক্ষা করে সোমবার জামায়াতে ইসলামীর আট দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদের এ ঘোষণার পরেই ফেইসবুক একটি পোস্ট দেন মাহফুজ আলম, যেখানে তিনি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি লেখেন, “বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু আমি এই এনসিপির অংশ হচ্ছি না।”
তিনি বলেন, “আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোনো একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে আমার লং স্টান্ডিং পজিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পান।
এর মধ্যে মাহফুজ আলম প্রথমে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পান। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম।



















