ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
 কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন পৃথিবীতে জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা পুরস্কার ঘোষণা করে কী লাভ হলো? লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে, নির্বাচন ঘিরে ‘বাড়তি উদ্বেগ’ পে স্কেল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্যে’ রেকর্ডসংখ্যক মানুষ, তালিকায় বাংলাদেশিরাও ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৪ লাখ প্রবাসী প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা ‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কতটা?

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 72
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বিসিবি বলছে, তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সূচিতে কোনো পরিবর্তন কার্যত সম্ভব নয়—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে আইসিসি।

আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। সে কারণে এই আসরে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্টদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেই বিসিবি, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল, যা ডলারের হিসাবে প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার।

আর সেরা ১২ দলের মধ্যে থাকতে পারলে কোনো দল পেত সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি টাকা, ডলারে যার পরিমাণ প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ হারাবেন তারা। ফলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এতে ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও। আইসিসির কাছ থেকে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ফি পাওয়ার কথা ছিল, যা আর পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা—বোর্ডের জন্য যা বড় আর্থিক ধাক্কা।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম লাভজনক টুর্নামেন্ট। এই আসরে অংশ না নিতে পারলে খেলোয়াড় ও বোর্ড—উভয়ের ক্ষেত্রেই আর্থিক প্রভাব হবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ অংশ না নিলে সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপ আয়েও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সাধারণত ভালো টেলিভিশন দর্শক টানে। এসব ম্যাচ না হলে টিআরপি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে।

সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররা ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের ম্যাচ কম হলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ম্যাচপ্রতি ন্যূনতম আড়াই লাখ টাকা আয় করেন।

২০২৪ সালের আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নবম আসরের এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি ভেন্যুতে ২৮ দিনে ২০টি দল অংশ নিয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত এটিকে সবচেয়ে বড় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরিণত করেছিল।

এই আসরে রানার্সআপ দল পেয়েছিল অন্তত ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পেয়েছিল সাত লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। যারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি, তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছিল তিন লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলার।

নবম থেকে দ্বাদশ স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। আর ত্রয়োদশ থেকে বিংশ অবস্থানে থাকা প্রতিটি দল পেয়েছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার করে পেয়েছিল।

আইসিসির ক্ষতি কতটা?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন আইসিসির জন্যও ক্ষতিকর। তাঁর মতে, এতে প্রায় ২০ কোটি দর্শক হারাতে পারে এই টুর্নামেন্ট।

তবে এসব ইভেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে আইসিসির তুলনায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনদাতারা।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত–বাংলাদেশ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র খেলা দেখতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ থাকত না।

বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে।

এদিকে ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিবেচনায়’ কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারের প্রশ্ন—যেখানে একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে বাকি ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিসিবি জানায়, ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ দল।

এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তারা আইসিসির প্রতি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার—বাংলাদেশ দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না।

তিনি বলেন, “আমরা আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন মেনে নেবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তিনি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন বলেও জানান।

নিরাপত্তা আশঙ্কা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, এই উদ্বেগ কল্পনাপ্রসূত নয়; এটি বাস্তব ঘটনা থেকেই এসেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। সেখানে ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এই প্রশ্ন থেকেই যায়।”

অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে তারা গর্বিত হলেও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা যখন কমছে, তখন প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশকে এভাবে উপেক্ষা করা হতাশাজনক।”

তবে হাল ছাড়ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আবারও আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা ভারতে খেলতে চাই না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।”

বাংলাদেশের এই অবস্থানের ফলে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এর আগে বুধবার বোর্ড সভায় ভোট শেষে আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। বাংলাদেশ না গেলে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অন্য একটি দল অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়।

পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া ম্যাচ স্থানান্তর করলে তা ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

আইসিসি আরও জানায়, সংকট সমাধানে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। এ সময় টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, “ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণ করা হয় নিরপেক্ষ নিরাপত্তা মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে, যা ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। নিরাপত্তা ঝুঁকির স্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।”

গত ২৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন।

তখন বিসিসিআই নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশে কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসা এবং তা নিয়ে ভারতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ওই সিদ্ধান্ত আসে।

দেবজিত সাইকিয়া বলেন, “সর্বত্র চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের দলে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।”

ওই দিনই আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনা আমি দিয়েছি।”
স্ট্যাটাসের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “গোলামির দিন শেষ।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মোস্তাফিজুর ইস্যুতে দুই দেশের পদক্ষেপেই ক্রিকেটীয় কূটনীতির চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এরপর বিসিবির আবেদনের পাশাপাশি ইমেইল ও ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে।

আইসিসি সদস্যদের ভোটের পর সংস্থাটি স্পষ্ট করে দেয়—বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর পর এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

অতীতে কী করেছে আইসিসি

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও তখন যৌথ আয়োজক ছিল। কলকাতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নিরাপত্তার কারণে তারা শ্রীলঙ্কায় দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড এবং কেনিয়ায় যায়নি নিউজিল্যান্ড।

সেসব ক্ষেত্রে আইসিসি প্রতিপক্ষ দলকে ওয়াকওভার বা পূর্ণ পয়েন্ট দিয়েছিল।

২০০৯ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ানোয় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কতটা?

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বিসিবি বলছে, তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সূচিতে কোনো পরিবর্তন কার্যত সম্ভব নয়—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে আইসিসি।

আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। সে কারণে এই আসরে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্টদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেই বিসিবি, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল, যা ডলারের হিসাবে প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার।

আর সেরা ১২ দলের মধ্যে থাকতে পারলে কোনো দল পেত সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি টাকা, ডলারে যার পরিমাণ প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ হারাবেন তারা। ফলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এতে ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও। আইসিসির কাছ থেকে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ফি পাওয়ার কথা ছিল, যা আর পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা—বোর্ডের জন্য যা বড় আর্থিক ধাক্কা।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম লাভজনক টুর্নামেন্ট। এই আসরে অংশ না নিতে পারলে খেলোয়াড় ও বোর্ড—উভয়ের ক্ষেত্রেই আর্থিক প্রভাব হবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ অংশ না নিলে সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপ আয়েও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সাধারণত ভালো টেলিভিশন দর্শক টানে। এসব ম্যাচ না হলে টিআরপি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে।

সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররা ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের ম্যাচ কম হলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ম্যাচপ্রতি ন্যূনতম আড়াই লাখ টাকা আয় করেন।

২০২৪ সালের আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নবম আসরের এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি ভেন্যুতে ২৮ দিনে ২০টি দল অংশ নিয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত এটিকে সবচেয়ে বড় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরিণত করেছিল।

এই আসরে রানার্সআপ দল পেয়েছিল অন্তত ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পেয়েছিল সাত লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। যারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি, তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছিল তিন লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলার।

নবম থেকে দ্বাদশ স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। আর ত্রয়োদশ থেকে বিংশ অবস্থানে থাকা প্রতিটি দল পেয়েছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার করে পেয়েছিল।

আইসিসির ক্ষতি কতটা?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন আইসিসির জন্যও ক্ষতিকর। তাঁর মতে, এতে প্রায় ২০ কোটি দর্শক হারাতে পারে এই টুর্নামেন্ট।

তবে এসব ইভেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে আইসিসির তুলনায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনদাতারা।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত–বাংলাদেশ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র খেলা দেখতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ থাকত না।

বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে।

এদিকে ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিবেচনায়’ কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারের প্রশ্ন—যেখানে একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে বাকি ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিসিবি জানায়, ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ দল।

এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তারা আইসিসির প্রতি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার—বাংলাদেশ দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না।

তিনি বলেন, “আমরা আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন মেনে নেবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তিনি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন বলেও জানান।

নিরাপত্তা আশঙ্কা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, এই উদ্বেগ কল্পনাপ্রসূত নয়; এটি বাস্তব ঘটনা থেকেই এসেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। সেখানে ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এই প্রশ্ন থেকেই যায়।”

অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে তারা গর্বিত হলেও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা যখন কমছে, তখন প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশকে এভাবে উপেক্ষা করা হতাশাজনক।”

তবে হাল ছাড়ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আবারও আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা ভারতে খেলতে চাই না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।”

বাংলাদেশের এই অবস্থানের ফলে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এর আগে বুধবার বোর্ড সভায় ভোট শেষে আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। বাংলাদেশ না গেলে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অন্য একটি দল অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়।

পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া ম্যাচ স্থানান্তর করলে তা ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

আইসিসি আরও জানায়, সংকট সমাধানে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। এ সময় টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, “ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণ করা হয় নিরপেক্ষ নিরাপত্তা মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে, যা ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। নিরাপত্তা ঝুঁকির স্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।”

গত ২৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন।

তখন বিসিসিআই নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশে কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসা এবং তা নিয়ে ভারতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ওই সিদ্ধান্ত আসে।

দেবজিত সাইকিয়া বলেন, “সর্বত্র চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের দলে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।”

ওই দিনই আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনা আমি দিয়েছি।”
স্ট্যাটাসের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “গোলামির দিন শেষ।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মোস্তাফিজুর ইস্যুতে দুই দেশের পদক্ষেপেই ক্রিকেটীয় কূটনীতির চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এরপর বিসিবির আবেদনের পাশাপাশি ইমেইল ও ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে।

আইসিসি সদস্যদের ভোটের পর সংস্থাটি স্পষ্ট করে দেয়—বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর পর এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

অতীতে কী করেছে আইসিসি

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও তখন যৌথ আয়োজক ছিল। কলকাতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নিরাপত্তার কারণে তারা শ্রীলঙ্কায় দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড এবং কেনিয়ায় যায়নি নিউজিল্যান্ড।

সেসব ক্ষেত্রে আইসিসি প্রতিপক্ষ দলকে ওয়াকওভার বা পূর্ণ পয়েন্ট দিয়েছিল।

২০০৯ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ানোয় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি।