গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারালেও, দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল ইংল্যান্ড। ফলে শেষ ম্যাচের আগে কিছুটা চাপেই ছিল দলটি। পানামার বিরুদ্ধে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না তাদের সামনে।
অবশেষে স্বস্তি ফিরল ইংল্যান্ড শিবিরে। পানামার বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয়ে গ্রুপ ‘L’-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল থ্রি লায়ন্সরা।
হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামরা বারবার আক্রমণে উঠলেও পানামার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। বলের দখল বেশি থাকলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে একেবারে ভিন্ন এক ইংল্যান্ড। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে শুরু থেকেই পানামার উপর চাপ তৈরি করে তারা। কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলে ম্যাচের ৬২ মিনিটে। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে জুড বেলিংহ্যাম নিখুঁত ফিনিশে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একবার আঘাত হানে থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যারি কেনের ১১তম গোল। এই গোলের হাত ধরে তিনি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন একক ভাবে নিজের করে নিয়েছেন কেন।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কোনও ফুটবলার হ্যারি কেনের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি। ফলে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবেও নতুন ইতিহাস গড়লেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
এর পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি পানামা।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। এই জয়ে শুধু নকআউট পর্বের টিকিটই নিশ্চিত হয়নি, গ্রুপসেরা হিসেবেও শেষ করেছে তারা।
প্রথমার্ধে কিছুটা ধীরগতির ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আসল শক্তির পরিচয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউট পর্বে পা রাখল থ্রি লায়ন্সরা।