ঢাকা ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-‘আমরা নারী’ সমঝোতা : শিক্ষা-গবেষণায় কাজ করবে কাঁদছেন কৃষকরা, ১৬০০ খরচ করে ৬০০ টাকায় ধান বিক্রি রোমানিয়ায় অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সুখবর ইতালিতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি কর্মীর বিএনপি–জামায়াত পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: কেবলই রাজনীতি? ফজলুরের বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত: ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’ প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা, নাপোলিতে সফল কনসুলার ক্যাম্প নতুন মুসলিমদের পাশে ইস্ট লন্ডন মসজিদ, চালু হলো নিউ মুসলিম হাব মাস্টারশেফ ইউকে-তে নজর কাড়লেন বাংলাদেশের সাবিনা যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য বিয়ে : এক বাংলাদেশি-ব্রিটিশ নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ টিম যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, বৃষ্টিও বেঁচে নেই হোয়াইট হাউজের নৈশভোজে গুলি, ঘটনা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প লন্ডনে প্রদর্শিত হবে 'মামুন: ইন প্রেইজ অফ শ্যাডোস (ছায়াবন্দনা)' নারী এমপি শিক্ষা, সম্পদে কে এগিয়ে? ১ মের ‘ডেডলাইন’: ট্রাম্প থামবেন? নাকি যুদ্ধ চলবে? যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: একজনের দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার কথাকলি সিলেটের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন: নীলাঞ্জন সভাপতি, আমিরুল সম্পাদক গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত রমফোর্ড রাইডার্সের নতুন জার্সি উন্মোচন বাবার কোলে চাদরে মোড়ানো সন্তানের লাশ, মানুষকে কেন কাঁদাচ্ছে? তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, রিমান্ডে সাবেক সেনা সদস্য, বিচার কেন আটকে ছিল? লন্ডনে সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে'র নতুন কমিটির অভিষেক পেপ্যাল আসছে বাংলাদেশে, ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন আইডি কার্ড: তারেক রহমান চীন কি ইরানকে গোপনে অস্ত্র দিচ্ছে? ইরানকে সময় দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ট্রাম্প, নৌ অবরোধ চলবে যুক্তরাজ্যের ‘ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ৪ বাংলাদেশি বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট, সারা দেশে সেচ পাম্প বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৩৬ পিএম

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করাটা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেছেন, “এটা ভয়ংকর মিথ্যাচার। ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া মানুষের অধিকাংশই ছিলেন ধার্মিক মুসলমান। সুতরাং তাদের হত্যাকারীদের বিচারকে ইসলামবিরোধী বলা মানে ইসলামেরই অবমাননা করা।

“যুদ্ধাপরাধবিরোধী আলাপকে যারা ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করেন, তারা ভয়ংকর অপরাধী। যারা ইতিহাস বিকৃত করছে, বৈষম্য–নিপীড়নের রাজনীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

শনিবার (৩১ মে ২০২৫) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নাগরিক সংহতি সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়ত-শিবিরকে উদ্দেশ করে আনু মুহম্মদ বলেন, “তাদের বর্তমান তরুণ কর্মীদের অনেকেই একাত্তর সালে জন্মাননি। তারা যুদ্ধাপরাধ করেননি ঠিকই, কিন্তু তারা যদি সেই রাজনীতি ধারণ করেন, তবে সেই অপরাধের দায় থেকে তারাও মুক্ত থাকতে পারেন না।

“যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি যত দিন থাকবে, তত দিন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই চলবে। আর সেই লড়াই হবে বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশের পথচলার ভিত্তি।”

এ টি এম আজহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, “তিনি ১৯৭১ সালে একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা দলিল-প্রমাণসহ ছিল। আদালত যদি কোনো ত্রুটির কারণে আগের রায় বাতিলও করে, তাহলেও যুদ্ধাপরাধের সত্যতা তো মুছে ফেলা যায় না। যে ব্যক্তি ইতিহাসের বিবেচনায় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, তাকে নির্দোষ ঘোষণার মাধ্যমে ইতিহাসকেই বিকৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে একাত্তরে শহীদ, নির্যাতিত নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, “ধীরে ধীরে বাস্তবতা প্রত্যাশা ভঙ্গের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সামাজিকভাবে বল প্রয়োগের শক্তি তৈরি হচ্ছে, যারা মিথ্যা, কুৎসা ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে নব্য ফ্যাসিবাদকে জানান দিচ্ছে। বিপরীতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে সমাজে নানা বর্গের নিপীড়নের বাস্তবতায়। বিভিন্ন ধরনের বিভাজনের রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত পুনঃস্থাপিত হচ্ছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, “অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের ভূমিকা নির্লিপ্ত, কোথাও তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। বরং হামলা-নির্যাতনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নারী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, শিক্ষকসহ যেকোনো স্তরের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বলেন, তখনই তাদের ওপর হামলা হয়। আর যারা হামলা করে, তারা রক্ষা পায়, কারণ সরকারের ভেতরেই তাদের মদদদাতা রয়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দায়মুক্তি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলার প্রতিবাদে’ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন, “জুলাইয়ের ঐক্য কীভাবে ভাঙছে জামাত-শিবির, তা আজ দেখার বিষয়। জুলাইয়ে ছাত্রলীগের হাতে আহত হয়ে মাথায় পাঁচটি সেলাই নিয়ে বেঁচে যাওয়া শ্রীকান্তের মাথায় শিবিরের হামলায় ছয়টি সেলাই পড়েছে।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা রিতু, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা, সাবেক ছাত্রনেতা মতিন সরকার, শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, মানস নন্দী, বাংলাদেশ উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চাকমা।