আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, চীন থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি সন্দেহজনক ‘উপহার’ বহনকারী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জব্দ করেছে।
ট্রাম্পের দাবি
মঙ্গলবার CNBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আটক জাহাজটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে চীন থেকে পাঠানো একটি ‘উপহার’ ছিল।
তার ভাষায়, জাহাজটিতে এমন কিছু ছিল যা ‘খুব একটা ভালো নয়’, অর্থাৎ এটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বোঝাপড়া প্রসঙ্গ
ট্রাম্প আরও জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে আগে একটি সমঝোতা ছিল—বেইজিং ইরানে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করবে না।
এই ঘটনার পর তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি তাকে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে অবাক করেছে’।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যে থেকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের ধারণা।
ফলে সন্দেহজনক যেকোনো সরবরাহ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
অস্ত্র নাকি ‘ডুয়েল-ইউজ’ সামগ্রী?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি সমর্থন করেনি।
Reuters জানিয়েছে, আটক জাহাজে সরাসরি অস্ত্র থাকার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বরং এতে ‘ডুয়েল-ইউজ’ বা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম থাকতে পারে—যেগুলো বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
ডুয়েল-ইউজ সামগ্রীর উদাহরণ
এ ধরনের পণ্যের মধ্যে থাকতে পারে—
- উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ
- শিল্প-গ্রেড মেশিনারি
- ড্রোন প্রযুক্তি
- যোগাযোগ সরঞ্জাম
এসব সামগ্রী সাধারণ ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক কাজে লাগতে পারে, ফলে এগুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
The Wall Street Journal এবং South China Morning Post-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
তারা ট্রাম্পের বক্তব্য তুলে ধরলেও সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং ঘটনাটিকে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক সন্দেহ বা কৌশলগত ব্যাখ্যা হিসেবে দেখছে।
চীনের প্রতিক্রিয়া
চীন বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করে।
তাদের মতে, এমন অভিযোগ অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থাকে।
চীন ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানি, অবকাঠামো ও বাণিজ্যে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। তবে সামরিক সহযোগিতা সবসময়ই সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় থাকে।
-
মার্কিন অবরোধ তুলতে পাকিস্তানের উদ্যোগ, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ইরানের
-
ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান
-
ইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের
-
এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
-
আমেরিকার নজর ইরানে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া