যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটনকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও বিষয়টি জানা দুই সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে তোলা হবে। “পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত থাকবে,”—এমন বক্তব্য ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্থান-এর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান।
তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো চুক্তি হলে এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হলে, “তেহরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগ করতে এবং অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে আর কোনো বাস্তব সুবিধা থাকবে না”—বলে উল্লেখ করেছে অ্যাক্সিওস।
কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi শনিবার Islamabad থেকে Oman সফরে যান। সফর শেষে রোববার সন্ধ্যায় তিনি আবার পাকিস্তানের রাজধানীতে ফিরে আসেন।
Tasnim News Agency-এর তথ্যমতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি ইসলামাবাদে ফেরেন।
এর আগে শুক্রবারও তিনি ইসলামাবাদে অবস্থান করেন এবং শনিবার দিনভর পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং তেহরানের আপত্তিগুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ইরানের ‘রেড লাইন’ এবং সম্ভাব্য আপসের জায়গাগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় কী ছিল, কী ছিল না
তাসনিমের ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আরাকচির মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের শর্তগুলো পাকিস্তানের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া।
ইরানের প্রধান শর্তগুলো
ইরানের প্রস্তাবে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—
- হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন আইনি কাঠামো আরোপ
- ক্ষতিপূরণ গ্রহণ
- ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা
- মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার