ঢাকা ১০ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ১০ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, রিমান্ডে সাবেক সেনা সদস্য, বিচার কেন আটকে ছিল?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ এএম

তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, রিমান্ডে সাবেক সেনা সদস্য, বিচার কেন আটকে ছিল?
সোহাগী জাহান তনু।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক দশক পর অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মামলায় এটিই প্রথম গ্রেপ্তার। পরে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশে আলোচিত হলেও সেনা সদস্যদের সম্পৃক্ততার কারণে সে সময়ে তদন্ত কিংবা বিচারের অগ্রগতি হয়নি হয়নি বলে ধারণা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা Police Bureau of Investigation (পিবিআই)-এর ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (এপ্রিল) বিকেলে বলেন, “গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার। তিনি তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে দায়িত্বরত ছিলেন।

“আসামিকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মো. মুমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”

এদিকে বিকাল ৫টার দিকে সোহাগী জাহান তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল আদালতে উপস্থিত হন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে সম্প্রতি আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার আবেদন করেন, যা বিচারক মঞ্জুর করেন।

তবে ওই দিন কার ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর মামলায় প্রথম গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে আসে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং এরপর Criminal Investigation Department (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চালালেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।

প্রায় চার বছর ধরে মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।