ঢাকা ৩ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৩ বৈশাখ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যদের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে কুপিয়ে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি 'আওয়ামী লীগ বাঁচাতে' শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে তৃণমূল কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন? হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫ জাহাজ যেতে দেবে ইরান, ট্রাম্পের ক্ষোভ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধ্যাপকসহ ৩০জনেরই সাজা যুদ্ধবিরতির একদিন পরও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ মাসেই ‘লক্ষাধিক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, কোন পক্ষ কী বলছে বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় ১৩ দেশের কড়া বার্তা: দালাল এড়িয়ে চলুন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন ৭ মে দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মারা গেছেন বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব ইউকে-র এজিএম ও দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা, নারী আটক : ‘নিকৃষ্ট আচরণ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বললো জামায়াত লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি তরুণের মরদেহ উদ্ধার ১৭ মাস কোথায় ছিলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন? গ্রেপ্তারের খবর দিল ডিবি সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতি নজরুল-সম্পাদক মজিবুর

জুলাই সনদ নিয়ে হাসি ও আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৩ এএম

জুলাই সনদ নিয়ে হাসি ও আতঙ্ক
মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু দলিলের খসড়াটি পড়ে শুরুতে হাসি সংবরণ করতে পারছিলাম না। খবরের কাগজের প্রতিবেদনের মত কি কি ঘটেছে তার একটি বিবরণ। তা-ও একতরফা। গত ৫ই আগস্ট ঘোষিত জুলাই ঘোষনাপত্র অবশ্য এর চেয়ে রদ্দি ছিল। খসড়া জুলাই সনদটিতে ১৯৭১-এর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা ও স্বাধীনতার মহান ঘোষণাপত্র সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছিল, কোনো নেতা বা নেতৃত্ব ছিল না। ইতিহাস ব্যক্তির ভূমিকা ছাড়া হয়ে যায় কিভাবে আমাদের জানা নেই। পাকিস্তান, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দেশেরই স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও জাতির পিতারা আছেন। আমাদের শুধু থাকবে না! ইতিমধ্যে সরকারি দলিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম-নিশানা মুছে ফেলার, সরকারি দপ্তর থেকে ছবি সরানোর সব আয়োজন হয়েছে। সনদের খসড়ায় অবশ্য প্রথম প্যারা থেকেই পরে একাধিকবার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নাম আছে। ইউনূসের সরকার গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন, কমিশনের কার্যক্রম বর্ণনার পর সংবিধানের ৪৮টিসহ মোট ৮৪টি সংস্কারের উল্লেখ। দীর্ঘ আলোচনায় অনুষ্ঠিত বৈঠক ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ ও ৩২-এর উল্লেখ আছে। স্কুলছাত্রের রচনার মতো এইসব বিবরণসহ দলিলটি নাকি সংবিধানের তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হবে! যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সংসদে নির্বাচিত হওয়ার সামর্থ্য নাই সেগুলোর সম্মতি-অসম্মতির উল্লেখ সংবিধানে ঢুকবে কেন? একটি জাতির সংবিধান কি সেরেসতাদানের খাতা? ব্রিটেনের তো লিখিত সংবিধানই নাই। ওদের ইতিহাস কি সমৃদ্ধ নয়, রাষ্ট্র কি দুর্বল? কিছু কিছু সংস্কার, বিশেষত কাঠামোগত ও প্রশাসনিক, সেগুলো কাঙ্খিত ও জনগণের কাছে গৃহীত হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু মৌলিক নীতিগত সংস্কার প্রস্তাবগুলি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-বিরোধী। কৌশলে সংবিধানের মৌলিক চার নীতি অপসারিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর এই সংস্কার কিভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে শেষ মুহূর্তেও যেসব বাহাস চলছে তাতে আতঙ্ক উপস্থিত হয় বৈ কি। একমাত্র বিএনপি সাংবিধানিক প্রশ্নে জনগণের নির্বাচিত জাতীয় সংসদের একান্ত এখতিয়ারকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। অন্যেরা কোনো নিয়মকানুন মানতে প্রস্তুত নয়। কেউ বলে সনদ সংবিধানের উপরে স্থান পাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নাকি 'সংবিধানিক আদেশ' সই করে সেটা চালু করবেন। কোন্ এখতিয়ারবলে? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ইতিহাসে একমাত্র সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান 'সাংবিধানিক আদেশ' জারি করেছিলেন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি ভিত্তি তৈরির জন্য। সামরিক শাসকরা ফরমানবলে সংবিধান বাতিল, স্থগিত, পুনরুজ্জীবন ইত্যাদি করেছেন। কিন্তু ইয়াহিয়া ছাড়া আর কেউ সাংবিধানিক আদেশ জারি করেননি। এখন নতুন সনদবলে যে সংশোধিত সংবিধান হবে তা নাকি '২০২৬-এর সংবিধান' বলে পরিচিত হবে। রিসেট বাটনে ১৯৭২ মুছে যাবে। সংবিধান কোন সালে রচিত ও বলবৎ হয়েছিল তা ধর্তব্য কিন্তু বছর দিয়ে সংবিধানের নামকরণ হয় না। পরবর্তীগুলো সবই সংশোধনী। দেশের সংবিধান একটাই, যদি না বাতিল হয়ে নতুন সংবিধান হয়। এখন আবদার করা হচ্ছে যে বলতে হবে 'সংবিধান ২০২৬'। যা হচ্ছে, ইতিহাসে এমনসব রাজনৈতিক মামাবাড়ির আবদর বা রাজনৈতিক সার্কাসের নজির আছে কি?? মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদক।