ঢাকা ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
ফজলুরের বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত: ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’ প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা, নাপোলিতে সফল কনসুলার ক্যাম্প নতুন মুসলিমদের পাশে ইস্ট লন্ডন মসজিদ, চালু হলো নিউ মুসলিম হাব মাস্টারশেফ ইউকে-তে নজর কাড়লেন বাংলাদেশের সাবিনা যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য বিয়ে : এক বাংলাদেশি-ব্রিটিশ নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ টিম যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, বৃষ্টিও বেঁচে নেই হোয়াইট হাউজের নৈশভোজে গুলি, ঘটনা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প লন্ডনে প্রদর্শিত হবে 'মামুন: ইন প্রেইজ অফ শ্যাডোস (ছায়াবন্দনা)' নারী এমপি শিক্ষা, সম্পদে কে এগিয়ে? ১ মের ‘ডেডলাইন’: ট্রাম্প থামবেন? নাকি যুদ্ধ চলবে? যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: একজনের দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার কথাকলি সিলেটের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন: নীলাঞ্জন সভাপতি, আমিরুল সম্পাদক গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত রমফোর্ড রাইডার্সের নতুন জার্সি উন্মোচন বাবার কোলে চাদরে মোড়ানো সন্তানের লাশ, মানুষকে কেন কাঁদাচ্ছে? তনু হত্যা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, রিমান্ডে সাবেক সেনা সদস্য, বিচার কেন আটকে ছিল? লন্ডনে সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে'র নতুন কমিটির অভিষেক পেপ্যাল আসছে বাংলাদেশে, ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন আইডি কার্ড: তারেক রহমান চীন কি ইরানকে গোপনে অস্ত্র দিচ্ছে? ইরানকে সময় দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ট্রাম্প, নৌ অবরোধ চলবে যুক্তরাজ্যের ‘ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ৪ বাংলাদেশি বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট, সারা দেশে সেচ পাম্প বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার মার্কিন অবরোধ তুলতে পাকিস্তানের উদ্যোগ, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ইরানের বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহামের নতুন কমিটি: সভাপতি জিয়া, সম্পাদক আতিকুর মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির এমপি হলেন যারা ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান

জুলাই সনদ নিয়ে হাসি ও আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৩ এএম

জুলাই সনদ নিয়ে হাসি ও আতঙ্ক
মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু দলিলের খসড়াটি পড়ে শুরুতে হাসি সংবরণ করতে পারছিলাম না। খবরের কাগজের প্রতিবেদনের মত কি কি ঘটেছে তার একটি বিবরণ। তা-ও একতরফা। গত ৫ই আগস্ট ঘোষিত জুলাই ঘোষনাপত্র অবশ্য এর চেয়ে রদ্দি ছিল। খসড়া জুলাই সনদটিতে ১৯৭১-এর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা ও স্বাধীনতার মহান ঘোষণাপত্র সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছিল, কোনো নেতা বা নেতৃত্ব ছিল না। ইতিহাস ব্যক্তির ভূমিকা ছাড়া হয়ে যায় কিভাবে আমাদের জানা নেই। পাকিস্তান, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দেশেরই স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও জাতির পিতারা আছেন। আমাদের শুধু থাকবে না! ইতিমধ্যে সরকারি দলিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম-নিশানা মুছে ফেলার, সরকারি দপ্তর থেকে ছবি সরানোর সব আয়োজন হয়েছে। সনদের খসড়ায় অবশ্য প্রথম প্যারা থেকেই পরে একাধিকবার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নাম আছে। ইউনূসের সরকার গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন, কমিশনের কার্যক্রম বর্ণনার পর সংবিধানের ৪৮টিসহ মোট ৮৪টি সংস্কারের উল্লেখ। দীর্ঘ আলোচনায় অনুষ্ঠিত বৈঠক ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ ও ৩২-এর উল্লেখ আছে। স্কুলছাত্রের রচনার মতো এইসব বিবরণসহ দলিলটি নাকি সংবিধানের তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হবে! যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সংসদে নির্বাচিত হওয়ার সামর্থ্য নাই সেগুলোর সম্মতি-অসম্মতির উল্লেখ সংবিধানে ঢুকবে কেন? একটি জাতির সংবিধান কি সেরেসতাদানের খাতা? ব্রিটেনের তো লিখিত সংবিধানই নাই। ওদের ইতিহাস কি সমৃদ্ধ নয়, রাষ্ট্র কি দুর্বল? কিছু কিছু সংস্কার, বিশেষত কাঠামোগত ও প্রশাসনিক, সেগুলো কাঙ্খিত ও জনগণের কাছে গৃহীত হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু মৌলিক নীতিগত সংস্কার প্রস্তাবগুলি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-বিরোধী। কৌশলে সংবিধানের মৌলিক চার নীতি অপসারিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর এই সংস্কার কিভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে শেষ মুহূর্তেও যেসব বাহাস চলছে তাতে আতঙ্ক উপস্থিত হয় বৈ কি। একমাত্র বিএনপি সাংবিধানিক প্রশ্নে জনগণের নির্বাচিত জাতীয় সংসদের একান্ত এখতিয়ারকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। অন্যেরা কোনো নিয়মকানুন মানতে প্রস্তুত নয়। কেউ বলে সনদ সংবিধানের উপরে স্থান পাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নাকি 'সংবিধানিক আদেশ' সই করে সেটা চালু করবেন। কোন্ এখতিয়ারবলে? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ইতিহাসে একমাত্র সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান 'সাংবিধানিক আদেশ' জারি করেছিলেন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি ভিত্তি তৈরির জন্য। সামরিক শাসকরা ফরমানবলে সংবিধান বাতিল, স্থগিত, পুনরুজ্জীবন ইত্যাদি করেছেন। কিন্তু ইয়াহিয়া ছাড়া আর কেউ সাংবিধানিক আদেশ জারি করেননি। এখন নতুন সনদবলে যে সংশোধিত সংবিধান হবে তা নাকি '২০২৬-এর সংবিধান' বলে পরিচিত হবে। রিসেট বাটনে ১৯৭২ মুছে যাবে। সংবিধান কোন সালে রচিত ও বলবৎ হয়েছিল তা ধর্তব্য কিন্তু বছর দিয়ে সংবিধানের নামকরণ হয় না। পরবর্তীগুলো সবই সংশোধনী। দেশের সংবিধান একটাই, যদি না বাতিল হয়ে নতুন সংবিধান হয়। এখন আবদার করা হচ্ছে যে বলতে হবে 'সংবিধান ২০২৬'। যা হচ্ছে, ইতিহাসে এমনসব রাজনৈতিক মামাবাড়ির আবদর বা রাজনৈতিক সার্কাসের নজির আছে কি?? মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদক।