অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে ইতালি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় দেশটির পুলিশ। ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল গোরিৎসিয়ানো এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আদালতের গোপনীয়তা রক্ষার নীতি অনুযায়ী পুলিশ ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করলেও স্থানীয় প্রবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার চল্লাবাজে।
তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মাসুম মিয়া তার স্ত্রীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার মতো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
গোরিৎসিয়া আদালত ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। পরে Trieste Court of Appeal-ও এই সাজা বহাল রাখে।
আদালতের রায়ের পর জননিরাপত্তার স্বার্থে ইতালীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গোরিৎসিয়া পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগ ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের সুরক্ষার জন্য একটি ‘অ্যান্টি-ভায়োলেন্স সেন্টারে’ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে।
একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ কমিশনার মাসুম মিয়ার ইতালিতে বসবাসের অনুমতি (permit of stay) বাতিল করেন। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। মঙ্গলবার পুলিশি পাহারায় তাকে ভেনিস বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মর্যাদা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের আমাদের দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।”
মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসান এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পরিবারের ভেতর নারী নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চান, তাদের অবশ্যই আমাদের আইন ও সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।”
এ বিষয়ে মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসন এই বহিষ্কারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।