ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ১০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এর সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
BBC জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে রাজি হয়েছে। তবে তারা শর্ত দিয়েছে, ‘লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে’ এবং ‘ইসরায়েলি বাহিনীকে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া যাবে না’।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় তাদের কথিত ‘নিরাপত্তা জোনে’ অবস্থান করবে। তবে এটি হিজবুল্লাহর দাবি—ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার—এর বিপরীত অবস্থান।
Reuters জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পেরিয়ে মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এর বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন শুরু হয়। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় আধ ঘণ্টা পর উদযাপনের অংশ হিসেবে রকেটও ছোড়া হয়।
তবে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সহিংসতা থামলেও পরিস্থিতি এখনও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার ভোরে লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করেছে এবং বিরতি দিয়ে দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণ চালিয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে তারা জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েও তাদের বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইসরায়েলি বাহিনীর আরবিভাষী মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দাবি করেন, ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ‘জঙ্গি তৎপরতা’ অব্যাহত থাকায় প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সেখানে তাদের বাহিনী রাখা হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ এক দীর্ঘ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার সারাদিনের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, তারা স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শেষ হামলা চালায়—যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে।
পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমার আশা, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হিজবুল্লাহ ভালো আচরণ করবে। যদি তারা তা করে, তবে সেটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে। আর কোনো হত্যা নয়—অবশেষে শান্তি চাই!”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত রাখতে লেবানন সরকারকে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে হবে। পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকতে হবে।
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল রকেট লঞ্চার, সদর দপ্তর এবং হিজবুল্লাহর সদস্যরা।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের নেতাদের হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।