ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা উচ্চপর্যায়ের নিবিড় আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।
পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে সমঝোতা না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৮ মিনিটে ইসলামাবাদে তিনি সরকারি বিমানে ওঠেন। ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর এপি’র।
দুই দিনের আলোচনা
রোববার (১২ এপ্রিল) জেডি ভ্যান্স জানান, ২১ ঘণ্টা ধরে ‘সারগর্ভ আলোচনার’ পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
শনিবার বিকেলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়, যা রোববার পর্যন্ত গড়ায়।
ভ্যান্সের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, “আমরা এখন ২১ ঘণ্টা ধরে এর মধ্যে আছি। আর আমরা বেশকিছু সারগর্ভ আলোচনা করেছি যা ভালো খবর। খারাপ খবর হল, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি। আমাদের রেড লাইন কোনগুলো সেগুলো আমরা বেশ পরিষ্কার করে জানিয়েছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে মিটমাট করতে ইচ্ছুক আর কোন কোন বিষয়গুলোতে কোনো আপোষ হবে না।”
তিনি জানান, ইরানি প্রতিনিধিরা ‘আমাদের শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা
ইরান ঠিক কোন বিষয় প্রত্যাখ্যান করেছে—এ প্রশ্নে ভ্যান্স বলেন, “আমি সব বিস্তারিত বলবো না। ২১ ঘণ্টা ধরে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করার পর আমি জনসমক্ষে আলোচনা করতে চাই না। তবে সহজ করে বললে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না আর দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে তাদের সক্ষম করবে এরকম উপায়গুলোর সন্ধান তারা করবে না এমন ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেখতে চেয়েছিলাম আমরা।”
তিনি আরও বলেন, “এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল আর এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা এটিই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।”
দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ভ্যান্স বলেন, “ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। তারপর সাধারণ প্রশ্ন হচ্ছে: ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, শুধু এখন না, এখন থেকে দুই বছর পরেও না বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য; আমরা এমন ইচ্ছার কোনো মূলগত প্রতিশ্রুতি দেখতে পাই কি?”
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাগায়ি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “ইসলামাবাদে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিনিধি দলের জন্য এটি একটি ব্যস্ত ও দীর্ঘ দিন ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বহু বার্তা ও টেক্সট আদান-প্রদান হয়েছে।
“গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলো নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক সমস্যা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরান ও এই অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করা।”
তিনি আরও লিখেছেন,
“এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা, অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধে থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর।”
মতপার্থক্যের জায়গা
তাসনিম নিউজের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাত্রাতিরিক্ত দাবি’ আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।
যুদ্ধ থেকে আলোচনায়
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর আলোচনায় বসে দুই দেশ।
গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান।