ঢাকা ২৯ চৈত্র ১৪৩২, রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ২৯ চৈত্র ১৪৩২, রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন?

ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নির্ধারিত বৈঠকের আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৩০ হারকিউলিস, জ্বালানিবাহী আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার এবং ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্স) বিমানও সেখানে পাঠানো হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা এখনও তীব্র।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের আলোচক দলকে নিরাপদে ইসলামাবাদে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে পাকিস্তান।

এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে তেহরান থেকে ইসলামাবাদে যাত্রাপথে ইরানি প্রতিনিধিদল কোনো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে না পড়ে।

একই সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে কড়া সামরিক পাহারার—‘আয়রন এসকর্ট’—ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ঠেকাতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের বন্দর আব্বাস সংলগ্ন আকাশে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই এসব যুদ্ধবিমান পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আকাশসীমায় নজরদারি চালাচ্ছে।

শুধু ইরানের আকাশসীমাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের আকাশসীমার কাছাকাছিও এসব বিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং চীনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান।

এই যুদ্ধবিরতির শর্ত ও মেয়াদ নির্ধারণে শনিবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসবে দুই দেশ।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। তার সঙ্গে থাকবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকে কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

বৈঠকের প্রথম পর্বে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার অংশ নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই বৈঠকের ফলাফল কোন দিকে যায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ বিরাজ করছে—আলোচনা সফল হবে, নাকি ভেস্তে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।