ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা হয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পথ দিয়ে চলাচলে কঠোর শর্ত ও সতর্কতা মেনে চলতে হবে এবং আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।
দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ চলাচলের অনুমতি
ইরান ঘোষণা করেছে, প্রণালি খুললেও সীমাহীন জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে না। দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে এক ইরানি কর্মকর্তা রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-কে এ তথ্য জানান।
ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ইরান “নিম্নমানের” ও “অসম্মানজনক” আচরণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত বাজেভাবে কাজ করছে। অনেকে একে অসম্মানজনক আচরণও বলতে পারেন।”
এছাড়া তিনি আরও বলেন, “আমাদের মধ্যে এমন কোনও চুক্তি হয়নি!”
কড়া শর্ত ও আইআরজিসি নিয়ন্ত্রণ
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে হলে জাহাজগুলোকে আগে অনুমতি নিতে হবে এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে চলতে হবে। বর্তমানে দিনে ১৫টির কম জাহাজকেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে।
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে
ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই জলপথে জাহাজ চলাচল দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না। অথচ এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অশোধিত তেল পরিবহন হয়।
যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি সংকট
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।
ট্রাম্পের হুমকি ও অবস্থান পরিবর্তন
হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
নতুন রুট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
আইআরজিসি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের প্রচলিত পথ বাদ দিয়ে ইরান উপকূলের কাছ দিয়ে চলতে বলা হয়েছে। কারণ, মূল ট্রাফিক জোনে জাহাজ বিধ্বংসী মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
টোল আরোপের পরিকল্পনা
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার টোল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রতি ব্যারেল তেলে ১ ডলার হারে টোল নেওয়া হতে পারে। এই অর্থ যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে এবং ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হতে পারে।
-
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, কোন পক্ষ কী বলছে
-
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি তরুণের মরদেহ উদ্ধার
-
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতি নজরুল-সম্পাদক মজিবুর
-
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ধসে পড়ল ভবন
-
মার্কিন ক্রু উদ্ধারের প্রশংসায় ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প