মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো "চুক্তি" না হলে বা হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের ওপর "দোজখের আগুন" নেমে আসবে।
আগের সময়সীমা থেকে বর্তমান আল্টিমেটাম
চলমান এই যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। গত ২৭শে মার্চ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে ১০ দিনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মূলত সেই সময়সীমার চূড়ান্ত ধাপ।
২১ মার্চের ঘোষণা: বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি
২১শে মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে, তাহলে দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা "নিশ্চিহ্ন" করে দেওয়া হবে।
২৩ মার্চ: কিছুটা নরম সুর
২৩শে মার্চ ট্রাম্প জানান, দুই দেশের মধ্যে "খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা" হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে জ্বালানি অবকাঠামোয় সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
২৭ মার্চ: ইরানের অনুরোধে সময় বাড়ানো
পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরকারের অনুরোধে জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয় ৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
৪ এপ্রিল: চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
৪ এপ্রিল ট্রাম্প আবারও তার নির্ধারিত সময়সীমার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় রয়েছে, এরপরই তাদের ওপর "ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ" বা "জাহান্নাম" নেমে আসবে।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান ইরানের
তেহরানের সাফ ‘না’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে যুদ্ধ শেষের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
আল জাজিরার প্রতিবেদন ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই আল্টিমেটামকে ‘উদ্বিগ্ন ও অসহায়’ ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সামরিক বাহিনীর পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেছেন,
“যদি আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুরা আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরা অবিরাম ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবো।”
‘পুরো অঞ্চল নরক হয়ে উঠবে’
সদরদপ্তরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাগরি সতর্ক করে বলেন,
“যদি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বিস্তৃত হয় তাহলে তোমাদের জন্য পুরো অঞ্চল নরক হয়ে উঠবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত হামলার হুমকি
ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানে হামলা জোরদার করে, তাহলে ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন ঘাঁটি ও বিনিয়োগ থাকা মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর স্থাপনাগুলোতেও একই ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে—এমন হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ইরান দাবি করেছে, এ ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই তারা আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রমাণ দেখিয়েছে।