এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে।
কর বর্ষ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীদের মোট সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তাদের সম্পদ কত ছিল, তার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকাশিত বিবরণীতে আর্থিক সম্পদ, নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ, বিদেশে থাকা সম্পদ, এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ টাকা, যা এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকায়।
প্রধান উপদেষ্টার বিদেশে থাকা সম্পদ থাকলেও কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায় নেই।
এক বছরের ব্যবধানে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদও ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৬ টাকা বেড়েছে।
২০২৪ সালের ৩০ জুন আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৪ টাকা, যা এক বছর পর বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল সরকারে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বিষয়টিও সামনে আসে।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে একটি খসড়া নীতিমালা অনুমোদন করে।
ওই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার শেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে।
এতদিন প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেননি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুই দিন আগে এবারই প্রথম তাদের সম্পদ বিবরণীর তথ্য প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রধান উপদেষ্টার আর্থিক সম্পদ ছিল ১০ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা, যা এক বছর পর বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৩ টাকায়।
আর্থিক বর্হিভূত সম্পদের ক্ষেত্রে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন বেড়ে হয় ২ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
তার বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকা।
অন্যদিকে, আফরোজী ইউনূসের বিদেশে থাকা কোনো সম্পদ বা ব্যক্তিগত/ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
তালিকায় দেখা যায়, কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায় যুক্ত হয়নি, অর্থাৎ দায়ের অঙ্ক অপরিবর্তিত থাকায় সম্পদ বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি মোট সম্পদে প্রতিফলিত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্তব্যে বলা হয়েছে,
“সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানত বৃদ্ধি, উত্তারিধকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারসহ বিভিন্ন কারণে মোট সম্পদের বৃদ্ধি হয়েছে।”
২০২৪ ও ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টার নতুন দায় যুক্ত হয়নি, ফলে আয় ও সম্পদের যে বৃদ্ধি হয়েছে, তা সরাসরি মোট সম্পদে যুক্ত হয়েছে।
-
ভোটের ফল যাই হোক, জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহবান প্রধান উপদেষ্টার
-
যে কোনো সময় ‘সরে দাঁড়াতে’ চান ঢাবির উপাচার্য
-
কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন
-
বিএনপির সময়ে দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’: নির্বাচনি ইশতেহারে ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক
-
রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ