ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬
ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
পদত্যাগ করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী? লন্ডনে হাসনা‌ত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট, প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, নিরাপদ থাকুন সিলেটে মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে শিয়া মুসলিম হওয়ায় চাকরিচ্যুত হচ্ছেন প্রবাসীরা, জব্দ হচ্ছে ব্যাংক হিসাব বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের ১২০ কোটি পাউন্ড ঋণ, উন্নয়ন প্রকল্পেই ক্ষতি ১ কোটি পাউন্ড সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬১, মোট মৃত্যু ৭২ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে? রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা হত্যা : প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীরাও ধরা পড়ছে না গোল্ডেন ভিসা পেলেও চাকরি ছাড়তে হবে না, জানাল ইউএই ইউএইতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সৌদির নতুন ভিসা কড়াকড়ি রোনালদো কি পর্তুগালের বোঝা হয়ে উঠছেন? গণমাধ্যম ও বিনোদনে অভিবাসনপন্থী প্রচারে কোটি পাউন্ড ব্যয়, দাবি টেলিগ্রাফের ‘আজকে সংসদ নাই? সংসদে যান’- সিলেটে পৌঁছে এমপিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী রোনালদোর যে দুই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি নেইমার ফিরলেন অনুশীলনে: ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা: দুই বছর পর জাবির ১২ শিক্ষককে শাস্তি দিল্লি বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ডা. জাহেদ উর রহমান ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তি নিয়ে অস্বস্তিতে ইসরায়েল, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্রাজিলের দুঃসংবাদ: গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিশ্বকাপ ঘিরেও বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা সহায়তা, মিলবে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: কী পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ কেমন খেলল ব্রাজিল : মরক্কোর কাছে হোঁচট, ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ট্রাম্পের দাবি আজই চুক্তি সই, ইরানের ভিন্ন সুর আর্জেন্টিনার খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র

প্রথম মুসলিম মেয়র পেতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক : কে এই জোহরান মামদানি?

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৫, ১১:৫৫ এএম

প্রথম মুসলিম মেয়র পেতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক : কে এই জোহরান মামদানি?

নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে জয়ের পথে রয়েছেন তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানি। অভিজ্ঞ ও কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে পেছনে ফেলে নিজের বিজয় ঘোষণা করেছেন তিনি। যদিও ভোট গণনা পদ্ধতির কারণে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, তবে মঙ্গলবারের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ৩৩ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থীই যে মূল নির্বাচনে দলের প্রার্থী হচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানি একজন মুসলিম। নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন এ শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র।

সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মামদানি বলেন, “আজ রাতে আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি। আমিই হতে চলেছি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে আপনাদের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী।”

৯৩ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি মামদানি পেয়েছেন ৪৩.৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, ক্যুমোর ঝুলিতে গেছে ৩৬.৪ শতাংশ।

পরাজয় স্বীকার করে ক্যুমো বলেছেন, “(মামদানি) সত্যিই একটি বুদ্ধিদীপ্ত, ভালো এবং প্রভাবশালী প্রচারণা চালিয়েছে। আজকের রাতটি তার। এই জয় তার প্রাপ্য।”

নিউইয়র্কে ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস’ বা পছন্দের ক্রমানুসারে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তৃতীয় স্থানে থাকা প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারের ভোটগুলো মামদানির পক্ষেই বেশি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মামদানির এই উত্থানকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্যুমোর পেছনে বিল ক্লিনটনের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন এবং বড় অংকের তহবিল থাকলেও মামদানি তরুণদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন।

ক্যুমো জানিয়েছেন, তিনি মামদানিকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথাও ভাবছেন।

যদি প্রাইমারির এই ফল চূড়ান্ত হয়, তাহলে ৪ নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কে মামদানিই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হবেন এবং শহরের ১১১তম মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

কে এই জোহরান মামদানি? নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে জোহরান মামদানি। ৩৩ বছর বয়সী মামদানির মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক দুই লাখ থেকে তিন লাখ ডলারের মধ্যে।

মামদানির জন্ম উগান্ডায়। সাত বছর বয়সে বাবা–মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন তিনি। তাঁর বাবা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানি—হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। জন্মগতভাবে ভারতীয়। মা মীরা নায়ার, একজন খ্যাতনামা ভারতীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা।

মামদানি ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কুইন্স এলাকা থেকে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। মাত্র চার বছর তিনি সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমো পরপর তিন দফায় এ রাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হন। বিভিন্ন অনিয়ম ও তাঁর অধীনস্থ একাধিক নারীকে যৌন লাঞ্ছনার অভিযোগে ২০২১ সালে পদত্যাগের আগে কুমোকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মেয়র পদে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি মার্কিন রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।

মামদানির অভাবিত বিজয়, যাকে এককথায় একটি ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ বলা যায়। এটি ২০০৮ সালে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনকে মনে করিয়ে দিয়েছে। দেশের প্রথাগত রাজনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রধানত অশ্বেতাঙ্গ, বহিরাগত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সমর্থনে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ওবামা।

মামদানির প্রার্থিতা নিউইয়র্কের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দক্ষিণ এশীয় মানুষদের মধ্যে বিপুল আলোড়ন তোলে। সে কথা মাথায় রেখে মামদানি এবং এ শহরের একমাত্র নির্বাচিত বাঙালি কাউন্সিলর শাহানা হানিফ যৌথভাবে বাংলায় একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন।

ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন’ জোহরান মামদানি ইকোনমিক টাইমস-এর মতে, নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে জোহরান মামদানির উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা টানা শুরু হয়ে গেছে। এর কারণ শুধু তাঁদের বিপরীতমুখী আদর্শের জন্য নয়, বরং মামদানি নিজেই তাঁর প্রচারকে ট্রাম্পের ধারার রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

মামদানি ঘোষণা করেছেন, ‘আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন—একজন প্রগতিশীল মুসলিম অভিবাসী, যে সত্যিকারের বিশ্বাস থেকে লড়ে।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে মামদানির প্রার্থিতা ট্রাম্পের রাজনীতির প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, যা গত কয়েক বছরে জাতীয় ও নগর রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই তুলনাটা কেবল কথার তুলনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মামদানির জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তৃণমূলভিত্তিক প্রচারাভিযান প্রচলিত ধারাকে ভেঙে দিয়েছে। ট্রাম্পও এভাবে প্রচলিত ধারাকে ভেঙেছিলেন, তবে মামদানির বার্তা ও সমর্থক জোট ট্রাম্পের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।