ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
সিডনির সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নুরহায়াতি, লাইফ সাপোর্টে বাংলাদেশি মাহবুবুল প্যারিসে জেমসের কনসার্ট : এক টুকরো বাংলাদেশ আমিরাতে ৯৮৫ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল : তালিকা পাঠাল দূতাবাস প্রবাসজীবনের চাপ : মালদ্বীপে ১০ দিনে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু টাঙ্গুয়ার হাওরের একাংশে নৌযান নিষিদ্ধ, কত দূর যেতে পারবেন পর্যটকরা? সিডনির মঞ্চ মাতালেন রুনা লায়লা নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্ট: তারার মেলায় সেরা যারা লন্ডনে ব্রিক লেইন জামে মসজিদের ৫০ বছর: দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠান সেপ্টেম্বরে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ যাত্রা, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী ‘প্রতারণা’: নিউ জার্সিতে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার স্ত্রীকে মারধর, ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিস্কার আরব আমিরাতে কড়াকড়ি, কারা পড়ছেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়? প্রবাসীদের টাকা নিয়ে উধাও ‘ইয়েপবিট’ ও ‘বনচ্যাট’ মার্কিন ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের ২০ হাজার ডলার বন্ড আর লাগবে না ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সেনাবাহিনীতে বিক্রি, ইউক্রেনে যুদ্ধবন্দি ৩ বাংলাদেশি জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই, জিতলেন যারা স্পেনে ঢুকে পড়েছে ৬০ হাজার অভিভাসী, কঠিন সংকটে ইউরোপের দেশগুলো জীবিকার খোঁজে বিদেশে গিয়ে মৃত্যু: মালদ্বীপে বাংলাদেশির করুণ পরিণতি লন্ডনের হোটেলে শ ম রেজাউল করিমকে ঘিরে ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, বাদ পড়ছেন আওয়ামী লীগপন্থীরা বার্লিনে হচ্ছে ‘গ্রীষ্ম উৎসব’, গাইবেন জলের গানের রাহুল আনন্দ ইরানজুড়ে নতুন করে মার্কিন হামলা হঠাৎ ভিসা বাতিল করছে আমিরাত, উৎকণ্ঠায় প্রবাসীরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে যা বলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে গান গাইবেন রুনা লায়লা ব্রাজিল জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেন নেইমার পেপ্যাল সেবা চালু হচ্ছে বাংলাদেশে, অর্থ স্থানান্তর সহজ হবে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন, ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে শিক্ষকের ভিডিও ঘিরে যা ঘটেছে গ্রিসের ক্রিটে অভিবাসী ঢল, ৭ দিনে ৪১৯ জন আটক ও উদ্ধার

সুলতান মনসুর এবং মোকাব্বির খান কি করবেন

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:৫৬ পিএম

সুলতান মনসুর এবং মোকাব্বির খান কি করবেন
একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। বিজয়ী দল আওয়ামী লীগ ও তার শরীক দলগুলো এ বিজয়কে ঐতিহাসিক হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। ভোট বিবেচনায় নিয়ে যে কোন এঙ্গেল থেকে বিবেচনা করলে এ বিজয়কে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। কিন্তু এই ‘ঐতিহাসিক’র বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না বিরোধী দলগুলো। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নেয়া দলগুলো এ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন হিসাবে উল্লেখ করেছে। এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেছে, ‘নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সহায়তার আওয়ামী লীগের কর্মী ও সন্ত্রাসী বাহিনী ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে’। এর আগে ঐদিন বৃহস্পতিবারই দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদে যোগ দিচ্ছে না বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তখন তিনি বলেন, ‘শপথ তো পার হয়ে গেছে, শপথ নেব কোথায়? প্রত্যাখ্যান করলে আবার শপথ থাকে নাকি? আমরা শপথ নিচ্ছি না।’ তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের নামে নিষ্ঠুর প্রতারণা ও প্রহসন করা হয়েছে। এ কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানাচ্ছে।’ ঠিক একইভাবে বামজোটও এ নির্বাচনকে প্রত্যাখান করেছে। তারা আবার নির্বাচনের দাবীতে ইতিমধ্যে গত ৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচী পালন করেছে। মুখে কালো কাপড় বেঁধে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হওয়া নির্বাচনকে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি আখ্যা দিয়ে তা বাতিল ও পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বামজোটের কেউ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে নি। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই তাদের আন্দোলনে সংসদের সদস্যপদ হিসেবে শপথ নেয়ার কোন প্রশ্ন আসছে না। এবং সে হিসেবে ভোটাররাও এতে খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। আন্দোলনকারী একটা জোট কিংবা দল হিসেবে তারা রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা তাদের রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। বর্তমান বাংলাদেশের সংসদমুখী রাজনীতির ঢামাঢোলে তা কতটুকু গুরুত্ব নিয়ে আসবে, তা এখনই বলা মুশকিল। তাছাড়া বিরোধীদল যেভাবে তাদের উপর হামলা-মামলার কথা বলছে, তাতে বামজোট কিংবা কমিউনিস্ট পার্টির মতো দল রাজপথে কতটুক প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে তোলতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় উড়িয়ে দেয়া যাবে না। কিন্তু আসল রাজনৈতিক প্রশ্ন কিংবা গুরুত্বটা আসতে পারে ঐক্যফ্রন্টের কাছ থেকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিজয় পেয়েছেন মাত্র সাতজন । তিন তিন বার দেশের শাষন ক্ষমতায় থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের এ ফলাফল নিঃসন্দেহে অপ্রত্যাশিত, অন্তত তাদের কাছে। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিজয়ী জোট এ নির্বাচনকে একটা সুষ্টু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে আগামীর পাঁচ বছরে তাদের উন্নয়নের ধারাবহিকতায় বাংলাদেশের জনগনের সহযোগীতা কামনা করেছেন মহাজোটের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্বাচন নিয়ে তাদের কোন সংশয নেই, নেই কোন অভিযোগ। মাত্র ৭টি আসন ছাড়া সব আসনেই জোটের এ বিজয়ে রাশিয়া চীন ভারতসহ অনেক দেশ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষনকারী দুএকটা সংস্থা, বিবিসিসহ কিছু বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের সত্যতা তোলে ধরলেও আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার সরকারকে যে খুব একটা সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে, তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তারপরেও কথা থেকে যায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাত্র ৭টি আসন এখন উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে । এই ৭ জন ছাড়া বৃহস্পতিবার নির্বাচিত সাংসদরা শপথ নিয়েছেন। শপথ নেননি ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন। অবশ্য না জানা কারনে এদিন হো মো এরশাদও শপথ নেননি। ঐক্যফ্রন্ট যুক্তি দেখিয়েছে, এ নির্বাচন তামাশা। মির্জা ফখরুর বলেছেন, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে সংসদে শপথ নেয়ার সুযোগ নেই। তার একথাটা পুরো স্বীকার না করেও বলা যায়, তবুও সংসদে যাওয়া যায়। কারন নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত তারাতো মাঠেই ছিলেন, নির্বাচন আওয়ামী লীগের একচেটিয়া দখলে প্রমাণ করানোর জন্যেই হয়ত তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেছেন। বাংলাদেশের জনগনের একটা বৃহৎ অংশ কিংবা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের সবাই এ নির্বাচনকে ভ’য়া হিসেবে উল্লেখ করলেও এটাই সত্য যে, সদ্য নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন করবে। যেহেতু নির্বাচনে বিজয় পাওয়া ৭ জনও ছিলেন নির্বাচনের অংশ, এরা শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে ছিলেন এবং জনগণের একটা বিরাট অংশ তাদের ভোটও দিয়েছে। সে হিসেবে সংসদে যদি এরা শপথ না নেন, তাহলে জনতার রায়কে তারা উপেক্ষাই করবেন। অন্যদিকে হয়ত বলা যেতে পারে প্রহসনের এ সংসদে গিয়ে তাঁরা তাঁদের সংসদীয় এলাকার জন্য কিছু করতেও পারবেন না। কিন্তু কথা হলো, তাঁদের অনুপস্থিতির কারণেও সংসদ কিংবা সরকারের কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। যেহেতু জাতীয় পার্টি এখানে থাকবে, সেহেতু তারা আগের মতোই বিরোধী দলের ভ’মিকাই পালন করবে। অন্য নির্বাচনী এলকার চিত্র যা-ই হোক না কেন, মৌলভীবাজারঃ ২ এবং সিলেটঃ ২ এর চিত্র ছিলো এ নির্বাচনে ভিন্ন। কুলাউড়ার আপামর মানুষ সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে ভোট দিয়েছে। সেখানে মহাজোটের দখল ছিলো না, সেখানে নির্বাচন একচেটিয়া হয় নাই। সিলেট ২ এ-ও ছিলো ‘ইলিয়াস আলী আবেগ’। সুলতান-ইলিয়াস একই সময়ের, দুজনই সাড়া জাগানো কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা। এলাকায়ও এরা জনপ্রীয় নেতা হিসেবেই নিজেদেরকে তোলে ধরতে পেরেছিলেন। আর এই আবেগই এবারেও কাজ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সুলতান মনসুর নিজে উপস্থিত থেকে জনগণের সে সহানুভ’তির জায়গাটা স্পর্শ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে হারিযে যাওয়া ‘ইলিয়াস আলী আবেগ’র কারনেই গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান সেখানে বিজয় নিয়ে আসতে পেরেছেন। জনগণ সেখানে শতস্ফুর্ত ছিলো, এবং তাঁদের বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ মহাজোট সেখানেও কাবু করতে পারে নি। যেহেতু সুলতান মনসুর কিংবা মোকাব্বির খান জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েছেন, সেহেতু তারা এই শতস্ফুর্ত ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করবেন কিভাবে ? যদি তারা ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নেন,তাহলে আসন শূন্য হবে। আবারো নির্বাচন হবে। যথানয়িমে আওয়ামী লীগ জোটের কেউ এখানে আবারো নির্বাচিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই কুলাউড়া কিংবা বিশ্বনাথ-ওসমানিনগরের মানুষ আশাহত হবে। সকল ভোটার কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের নন। এ এলাকাগুলোতে আবেগ কাজ করেছে। তারা ভোট দিয়েছে একজন সুলতানকে। কিংবা একজন মোকাব্বির খানকে। এই আবেগের জায়গাটা ধরে রাখতে হবে তাঁদের। আর সেকারনে আবারও তাঁদের দুজনকেই ভাবতে হবে। তারা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলেও তাদের নিজস্ব কারনেই জাতীয় এবং স্থানীয়ভাবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁরা বিজয় নিয়ে এসেছেন। সেকারনেই এলাকার মানুষের আবেগ বিবেচনায় নিয়েই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁদের। স্থানীয়ভাবেতো বটে, জাতীয়ভাবেও এই সিদ্ধান্ত তাদের আগামী নেতৃত্বের জায়গটাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি। ইতিহাস বলে, স্বাধীনতা পরবর্তী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একসময় একাই লড়েছিলেন,সরগরম রেখেছিলেন জাতীয় সংসদ। ফারুক যোশী : কলামিস্ট, প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডট কম।