ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
 কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন পৃথিবীতে জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা পুরস্কার ঘোষণা করে কী লাভ হলো? লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে, নির্বাচন ঘিরে ‘বাড়তি উদ্বেগ’ পে স্কেল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্যে’ রেকর্ডসংখ্যক মানুষ, তালিকায় বাংলাদেশিরাও ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৪ লাখ প্রবাসী প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা ‘বেস্ট অনলাইন নিউজ রিপোর্টার ইন লন্ডন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি

প্রবাসীরাও নজরদারিতে দেশে ফিরলেই গ্রেফতার

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৮
  • / 2319
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ফেসবুক, ইউটিউবে তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কী প্রচার করা হচ্ছে, তা নজরে রাখা হচ্ছে।বাংলাদেশের ডিজিটাল আইনে তা কি গুজব ছড়ানোর দোষে দুষ্ট হচ্ছে, এরকম সন্দেহ দেখা দিলে তাদের ব্যাপারে তদন্তের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ছয়টি দেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশের বাইরে থেকে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কাজে জড়িয়ে না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজরদারি রয়েছে সিআইডির।

সিআইডি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ‘গুজব’ ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের দায়ে সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার কয়েকজন প্রবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সংখ্যা কমপক্ষে ১২।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার (৮ নভেম্বর) পর সৌদি আরবে অবস্থানরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে । দুজনের বিরুদ্ধে ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সিআইডি কার্যালয় থেকে দেশের একটা শির্ষ স্থানীয় দৈনিককে জাননো হয়েছে, যেসব দেশ থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে (কিছু প্রবাসী), সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ইন্টারপোলের এনসিবি বাংলাদেশ শাখাকেও (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রবাসীরা গুজব ছড়িয়ে ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনসিবিকে চিঠি দিয়েছে সিআইডি।  এ পর্যন্ত প্রায় ১২ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। দেশে ফিরলেই অভিবাসন পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার  করবে।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা বিদেশে বসে এসব করছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’ ঠিক কোন কাজটিকে সিআইডি গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধ বলে মনে করছে বা অভিযুক্তদের অপরাধ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিথ্যা খবর প্রচার করা, উসকানিমূলক তথ্য প্রচার, সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশ্লীল-মানহানিকর মন্তব্য ও ছবির বিকৃতি করা।

তফসিল ঘোষণার পর যত প্রবাসী গুজব ছড়ানোর ঘটনায় শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অশ্লীল প্রচার, নির্বাচন কমিশন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও নির্বাচন নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য বা ছবি পোস্ট করেছেন বলে জানায় সিআইডি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ায়।

গুজব প্রতিরোধে সিআইডি ছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি’ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ কাজ করছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশ ও বিদেশ থেকে ফেসবুক, ইউটিউবে নির্বাচন নিয়ে কী প্রচার করা হচ্ছে, তা নজর রাখছেন সারা দেশে পুলিশের সব শাখার কর্মকর্তারা। ঢাকার সাইবার অপরাধ দমন বিভাগও নিবিড়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেয়াল রাখছে। কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ৫৪টি সাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে আট সদস্যের একটি পর্যবেক্ষণ টিম (কমিটি) গঠন করেছে ইসি। এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা এই কমিটি ফেসবুকসহ যেকোনো মাধ্যমে নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব রোধে কাজ করবে। এ ছাড়া তারা অপপ্রচারও খতিয়ে দেখবে।

ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেছেন, পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান করা হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলামকে। অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাব, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের একজন করে প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা (সিনিয়র মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার) রয়েছেন। এই কমিটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুজব, প্রোপাগান্ডা যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, এমন কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রবাসীরাও নজরদারিতে দেশে ফিরলেই গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

 

ফেসবুক, ইউটিউবে তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কী প্রচার করা হচ্ছে, তা নজরে রাখা হচ্ছে।বাংলাদেশের ডিজিটাল আইনে তা কি গুজব ছড়ানোর দোষে দুষ্ট হচ্ছে, এরকম সন্দেহ দেখা দিলে তাদের ব্যাপারে তদন্তের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ছয়টি দেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশের বাইরে থেকে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কাজে জড়িয়ে না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজরদারি রয়েছে সিআইডির।

সিআইডি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ‘গুজব’ ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের দায়ে সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার কয়েকজন প্রবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সংখ্যা কমপক্ষে ১২।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার (৮ নভেম্বর) পর সৌদি আরবে অবস্থানরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে । দুজনের বিরুদ্ধে ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সিআইডি কার্যালয় থেকে দেশের একটা শির্ষ স্থানীয় দৈনিককে জাননো হয়েছে, যেসব দেশ থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে (কিছু প্রবাসী), সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ইন্টারপোলের এনসিবি বাংলাদেশ শাখাকেও (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রবাসীরা গুজব ছড়িয়ে ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনসিবিকে চিঠি দিয়েছে সিআইডি।  এ পর্যন্ত প্রায় ১২ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। দেশে ফিরলেই অভিবাসন পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার  করবে।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা বিদেশে বসে এসব করছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’ ঠিক কোন কাজটিকে সিআইডি গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধ বলে মনে করছে বা অভিযুক্তদের অপরাধ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিথ্যা খবর প্রচার করা, উসকানিমূলক তথ্য প্রচার, সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশ্লীল-মানহানিকর মন্তব্য ও ছবির বিকৃতি করা।

তফসিল ঘোষণার পর যত প্রবাসী গুজব ছড়ানোর ঘটনায় শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অশ্লীল প্রচার, নির্বাচন কমিশন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও নির্বাচন নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য বা ছবি পোস্ট করেছেন বলে জানায় সিআইডি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ায়।

গুজব প্রতিরোধে সিআইডি ছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি’ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ কাজ করছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশ ও বিদেশ থেকে ফেসবুক, ইউটিউবে নির্বাচন নিয়ে কী প্রচার করা হচ্ছে, তা নজর রাখছেন সারা দেশে পুলিশের সব শাখার কর্মকর্তারা। ঢাকার সাইবার অপরাধ দমন বিভাগও নিবিড়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেয়াল রাখছে। কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ৫৪টি সাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে আট সদস্যের একটি পর্যবেক্ষণ টিম (কমিটি) গঠন করেছে ইসি। এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা এই কমিটি ফেসবুকসহ যেকোনো মাধ্যমে নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব রোধে কাজ করবে। এ ছাড়া তারা অপপ্রচারও খতিয়ে দেখবে।

ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেছেন, পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান করা হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলামকে। অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাব, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের একজন করে প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা (সিনিয়র মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার) রয়েছেন। এই কমিটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুজব, প্রোপাগান্ডা যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, এমন কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করবে।