🕊️ যুদ্ধের ১৯তম দিনে বিতর্ক
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধের’ ১৯তম দিন আজ। শান্তি আলোচনা চলমান অবস্থায় তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অপ্রত্যাশিত আগ্রাসনে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। খোদ মার্কিন প্রশাসনেই এই উদ্যোগের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন অনেক।
⚠️ পদত্যাগের খবর
সম্প্রতি এই অযৌক্তিক যুদ্ধের প্রতিবাদে এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার (১৮ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
👤 কে পদত্যাগ করলেন
চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।
❗ কেন পদত্যাগ
তার দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো হুমকির কারণ ছিল না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেন জো কেন্ট।
সেখানে তিনি বলেন,
“আমি একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানাতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির কারণ ছিল না। এটা স্পষ্ট যে আমরা ইসরায়েল ও তার শক্তিশালী লবির চাপে পড়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছি।”
📊 বিশেষজ্ঞদের মত
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ালেই শুধু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন যৌক্তিক হতো।
সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই যুদ্ধ শুরু করতে পারতো ওয়াশিংটন।
🏛️ হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
কেন্টের চিঠির জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বিবৃতি দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, কেন্টের চিঠিতে কিছু বিষয়ে ‘মিথ্যা দাবির’ উল্লেখ আছে।
লেভিট বলেন,
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ও বিস্তারিত আকারে জানিয়েছেন, তার কাছে শক্তিশালী ও অকাট্য প্রমাণ আছে যে ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগে হামলা শুরু করতে যাচ্ছিল।”
“বিভিন্ন উৎস ও প্রসঙ্গকে বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রমাণ সমন্বিত করা হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
🧠 গোয়েন্দা মহলের অবস্থান
ওই কার্যালয়টি সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের দেখভাল করে থাকে।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড-এর সঙ্গে কেন্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়।
ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে চুপচাপ থাকলেও অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার মুখ খোলেন তিনি।
তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্পের সুরে লেখেন যে তিনি তার সামনে থাকা তথ্য নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় হুমকি’ এবং তাৎক্ষণিকভাবেই এর মোকাবিলা করা প্রয়োজন ছিল।
🏛️ কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তা হলেন ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তিনি জো কেন্টের সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
তিনি মত দেন, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে কেন্ট যোগ্য ব্যক্তি নন এবং তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া ‘ঠিক নয়’।
তবে কেন্টের পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেন।
ওয়ার্নার বলেন,
“কিন্তু এ বিষয়ে তিনি ঠিক আছেন। এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে আমরা বলতে পারি ইরান একটি তাৎক্ষণিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধে জড়ানো জরুরি ছিল।”
📌 আরেক পদত্যাগ
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান সামিরাহ মুনসি। ঘটনা ১৫ মার্চের।
পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থি বোর্ড সদস্য ক্যারি প্রিজান বোলারের অপসারণের প্রতিবাদও করেন এই সাবেক উপদেষ্টা।