শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


লড়ছে দেশ মানুষ বাঁচানোর প্রত্যয়ে



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আবারো তছনছ হচ্ছে ব্রিটেন। মৃত্যু যেন ঠেকাতে পারছে না ইউরোপের দেশগুলো। করোনার দ্বিতীয় আঘাতে পর্যদস্ত ব্রিটিশ সরকার। ৬৯৬ জন মানুষ মারা গেছেন গত সপ্তাহের একটা মাত্র দিনে। শত শত মারা যাচ্ছেন প্রতিদিন। সারাদেশে লকডাউন শেষ হয়েও ইতি টানতে পারছে না। এক জায়গায় কমে তো অন্য জায়গায় বৃদ্ধি পায়। সরকারি হিসেবে একটা শহর কিছুটা শিথিল হলে অন্য জায়গায় বাড়ে। সুতরাং লকডাউনও ভিন্নমাত্রা পাচ্ছে। টিয়ার ১ ২ ৩ এ বিভক্ত করা হয়েছে অঞ্চলগুলো। অর্থাৎ ভাইরাসের সংক্রমণকে মারাত্মক জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই সংখ্যাগুলো দিয়ে।

অথচ ব্রিটেন কেন যেন থমকে নেই। মানুষের মাঝে নেই কোনো আতঙ্ক। আগের মতোই গাড়ি চলে। রাস্তা খাঁ খাঁ করে না। সুপার স্টোরগুলোতে সেই আগের ভিড়। লম্বা লাইন নেই। নেই মালামাল ক্রয়ের হুড়োহুড়ি। হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের আছে ত্রস্থ পদচারণা। শুধু ডাক্তারের সার্জারিতে নেই সেই আগের ব্যস্ততা। খুব বেশি জরুরি না হলে মানুষ এখন ডাক্তারের কাছে যেতেও চায় না, যদি কোভিড-১৯ এর মার্কা পড়ে যায়। মানুষও বসে নেই। শুধু রেস্টুরেন্ট-পানশালা আর নৃত্য করার জায়গাগুলো বন্ধ থাকায় থমকে গেছে বাহ্যিক মাতলামো। অর্থনীতির একটা বড় ধরনের প্রবাহ থেমে গেছে এতে। সেজন্য তরুণরা খেদ করে কথা বলে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশই এ রোগটাকে পাত্তাই দিতে চায় না। যেহেতু কিশোর-তরুণদের মাঝে এ রোগটা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না, তাই তারা বিশ্বাসই যেন করতে চায় না। তাদের মতোই মধ্যবয়সী এমনকি অনেক প্রৌঢ়রাও সরকারের লকডাউন প্রক্রিয়ার পক্ষে নেই। অথচ এ করোনার মিছিলে সংযুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, এ পর্যন্ত ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এই মরণব্যাধিতে। বাঙালি কমিউনিটিতেও প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

সরকারও একদিকে লকডাউনের নতুন নতুন নিয়মে সারাদেশটাকে সতর্ক করছে ঠিকই, কিন্তু মানুষকে কাজ করতে খুব একটা নিরুৎসাহিত করছে না। নাগরিকদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার নতুন করে, আবার অন্যদিকে কাজ করাতে সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থনও আছে। এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা আছে যেন সরকারের। কিংবা কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, তা-ও যেন ঠিক করতে পারছে না। এ নিয়ে জনমনে আছে সংক্ষুব্ধতা, কারণ রেসটিকশন কিংবা বিধিনিষেধের হিসেব মেলাতে পারছে না মানুষ। ২ ডিসেম্বর সারাদেশের লকডাউন উঠছে ঠিকই, কিন্তু ‘টিয়ারে’র মাঝে মানুষ ঘুরপাক খাচ্ছে, অর্থাৎ বিধিনিষেধের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে নিয়ে আসা হয়েছে আগের মতোই। লন্ডনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ম্যানচেস্টারের চেয়ে বেশি। রেট অনুযায়ী গত সপ্তাহে লন্ডনে ‘আর’ রেট ১ থেকে ১.২ অথচ লন্ডন টিয়ার ২-এর আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশেষত রেস্টুরেন্ট-পাব খুলে দেয়া হয়েছে, রাত্রিকালীন অর্থনীতি সেখানে প্রবহমান রাখা হচ্ছে, অথচ গ্রেটার ম্যানচেস্টারে রেট ০.৮ থেকে ১ এর মধ্যে, তবুও সেখানে ‘টিয়ার ৩’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরকম কিছু সিদ্ধান্তে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষগুলো চরমভাবে ক্ষুব্ধ, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও কেন্দ্রীয় সরকারের এই ব্যবস্থাকে ‘চাপ’ হিসেবে মনে করছে। সেজন্য লন্ডনের বাইরে নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামের সাধারণ মানুষ স্থানীয় এমপিসহ এমনকি জনপ্রতিনিধিরা এ নিয়ে জোর সমালোচনা করছে সরকারের। ওল্ডহ্যামের এমপি শ্যাডো ট্রান্সপোর্ট সেক্রেটারি সরকারের এরকমের সিদ্ধান্তকে আবারো ভাবতে বলেছেন গণমাধ্যমে এসে। শুধু ওল্ডহ্যাম নয়, উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সব ক’টা শহরের সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধিই সরকারের এ নীতিকে মেনে নিতে পারছে না। এমনকি সরকারদলীয় এমপিরাও এ নিয়ে সমালোচনা করছেন। বিরোধিতা আছে প্রবল। বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধে এমনকি ভ্যাকসিনবিরোধী বিক্ষোভও করেছে কতিপয় মানুষ। কেন জানি এরা সত্যকে মেনে নিতে পারছে না। আতঙ্ককে আমল দিচ্ছে না।

এরকম আতঙ্কের মাঝেও স্কুল-কলেজগুলো চলছে স্বাভাবিকভাবে। স্কুল বন্ধ রাখার জন্য সরকারের ওপর চাপ দেয়া হলেও পাত্তাই দেয়নি সরকার। করোনার সংক্রমণকে ধারণায় রেখেই স্কুলগুলোতে কিছু নিয়ম-কানুন প্রয়োগ করায় দেখা যাচ্ছে, স্কুলগুলো থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি খুলে দেয়া না হলেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যাচ্ছে। এই জায়গাটাতে সরকার চাচ্ছে শিশু-কিশোর-তরুণরা যেন হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। শিক্ষাঙ্গনগুলো শুধুই একাডেমিক শিক্ষার জায়গা নয়, এই অঙ্গন সামাজিক একটা যোগাযোগের মাধ্যমও। এমনিতেই শিক্ষার্থীরা আইপ্যাড, মোবাইল প্রভৃতি গাজেট নিয়ে পড়ে থাকে। তার ওপর অনলাইন শিক্ষা ছাত্রছাত্রীদের শুধু একাডেমিক নির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, অর্থাৎ একটা সার্টিফিকেটের জন্যই এই অনলাইন ক্লাসগুলো চালানো হচ্ছিল।

এই সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে নিয়ে আসতে পেরেছে ব্রিটিশ সরকার। সেজন্য কিশোর-তরুণ এমনকি শিশুরাও স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত থাকার মধ্য দিয়ে হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে করোনাকে শিক্ষার্থীরা খুব একটা আতঙ্কের মাঝেও নিচ্ছে না এখন। অভিভাবকদের একটা বড় অংশ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছেন, তাদের স্কুল-কলেজগামী সন্তানদের নিয়ে তারাও খুব একটা শঙ্কিত নন। ব্রিটেনে দ্বিতীয় দফা লকডাউন-পরবর্তী সময়ে মৃত্যু কিছুটা ভাটার দিকে, আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে গত দুতিন দিন। আর এ সময়েই ব্রিটেনের দরজায় কড়া নাড়ছে খ্রিস্টমাস বা বড়দিন। অন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মতোই এ এক বিশাল আয়োজন দেশব্যাপী। এ সময়টাকে তারা উৎসবে মেতে উঠতে চায়। এই উৎসব আয়োজন কমিয়ে আনা হয়েছে, আইন করেই। যে ব্যাপারটা পরিলক্ষিত হয়েছিল এমনকি মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ঈদের সময়েও, এই করোনাকালে। সুতরাং দেশটার সরকার কি চাইছে, কিংবা কি করছে না, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবেই জিইয়ে রাখছে এই ‘কোভিড গেম’ কিংবা সিদ্ধান্তহীনতার মধ্য দিয়েই কি পার করছে এ কঠিন সময়; এরকম অনেক প্রশ্ন দেশটির নাগরিক তুলতেই পারে, ক্ষোভ-সন্দেহ-অবিশ্বাস থাকতেই পারে, কিন্তু সরকার ওই নাগরিকদেরই সুরক্ষা দিতে এই সময়টাতে কোভিড-১৯ কেই গুরুত্ব দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কোভিড থেকে নাগরিক তথা দেশটাতে মুক্ত করতে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে দেশটা এগিয়ে থাকলেও আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছে, অন্তত চার কোটি মানুষকে যেন আগেভাগেই ভ্যাকসিনাইজেশনের আওতায় নিয়ে নিতে পারে। আশা করা যাচ্ছে ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

একটা সরকারের কনসেপ্ট যদি হয় জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতি, তাহলে ব্রিটেনের সরকার সে জায়গায় তার সর্বোচ্চ দিচ্ছে, এটা বলতেই হবে। ‘টিয়ার’র বিধিনিষেধে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ থমকে আছে যদিও, সেজন্য সমালোচনা চলছে সরকারের অতি কড়াকড়ির। কিন্তু সত্যি কথাটা হলো, গালভরা বুলি কিংবা ফাঁকা আওয়াজ নয়, শত সমালোচনার মাঝে ব্রিটেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে তার দেশের নাগরিকদের। নাগরিকদের কল্যাণেই, দেশের মানুষকে বাঁচানোর প্রত্যয়টাই পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বোপরি।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক