মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই‘র ইন্তেকাল  » «   ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিয়ানীবাজারে পথচারী ও রোগীদের মধ্যে ইফতার উপহার  » «   ইস্টহ্যান্ডসের রামাদান ফুড প্যাক ডেলিভারী সম্পন্ন  » «   বিসিএ রেস্টুরেন্ট কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনএইচএস এর ‘টকিং থেরাপিস’ সার্ভিস ক্যাম্পেইন করবে  » «   গ্রেটার বড়লেখা এসোশিয়েশন ইউকে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে কাজ করবে  » «   স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল  » «   কানাডা যাত্রায়  ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনা এড়াতে সচেতন হোন  » «   ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটন ক্যানসারে আক্রান্ত  » «   যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজাবাসীদের সাহায্যার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের অনুদান  » «   বড়লেখায় পাহাড়ি রাস্তা সম্প্রসারণে বেরিয়ে এলো শিলাখণ্ড  » «   মাইল এন্ড পার্কে ট্রিস ফর সিটিস এর কমিউনিটি বৃক্ষরোপণ  » «   রয়েল টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন  » «   গোলাপগঞ্জ স্যোশাল এন্ড কালচারাল ট্রাস্ট ইউকে’র সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন  » «   যুক্তরাজ্যবাসি  সাংবা‌দিক সাইদুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহিদের ইন্তেকাল  » «   ইউকে বাংলা রিপোটার্স ইউনিটি‘র নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

যোদ্ধা-বীরাঙ্গনা প্রভারাণী



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

যে যুদ্ধ করে আর যে যুদ্ধের বয়ান তৈরি করে- এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের প্রজন্ম, তারা তৈরি করা বয়ান দিয়েই তো যুদ্ধ, যোদ্ধা, ইতিহাসকে চিনেছি। তাহলে এই ফারাকটা ভরাটের পথ কী?

ঠিক এই জায়গাটা থেকেই একসময় ভাবি, যোদ্ধার প্রকৃত বয়ানটাই বোধহয় সেই ফারাকটা ভরাট করে দিতে পারে। একসময় যোদ্ধার বয়ান শোনা শুরু করি। সত্যিকার অর্থেই তখন অন্য এক যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করি যোদ্ধার চোখে। সেই ঘোর আজও কাটেনি।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ, সময়ের ব্যবধানে সেও নিজেকে যে পাল্টে ফেলেনি- তাই বা কে বলবে! তবু আজও মুক্তিযোদ্ধার, বীরাঙ্গণার, শরণার্থীর গল্প শুনি ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথার মতো সরলতা, মুগ্ধতা আর শিহরণ নিয়েই।

সেই অচেনা, অজানা, অখ্যাত যোদ্ধা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা এই উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে শুনাতে চাই ৫২বাংলায়।

প্রভারাণীর জীবনের কোনোকিছুই তার নিজের মতো করে হয়নি। শিশু বয়সে মাত্র ৫০০ টাকার লোভে বোনজামাই তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করেছিলো। গরিব মায়ের মেয়ে প্রভার বয়স তখন ১৪/১৫; আর স্বামীর বয়স তখন ৬৫ থেকে ৭০। এ বিয়ে প্রভা চাননি।

বিয়ের মাত্র নয় মাসের মাথায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়েছিলো প্রভাকে। স্বামীর ঘরে থাকা অবস্থায় যুদ্ধের পর তাঁর প্রথম সন্তান কাজলের জন্ম। সেই কাজল ছোটবেলা থেকে মানুষের কাছে শুনে এসেছে সে ‘পাঞ্জাবীর সন্তান’। তাঁকে প্রতিটি মুহূর্ত একটি প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে, সে কার সন্তান? একদিনের জন্যও এটা বন্ধ হয়নি। এটাই সমাজ, বাস্তবতা। কিন্তু প্রভা এটা চাননি।

প্রথমবার পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে প্রভারাণী চলে যান দূরে বোনের গ্রামে। সেখান থেকে একদিন সন্ধ্যায় হানা দিয়ে আরো অনেকের সঙ্গে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় হানাদাররা। শমসেরনগর ডাক বাংলোতে সারারাত ধরে নির্যাতন চলে তাঁর উপর। একপর্যায়ে প্রভা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কাকডাকা ভোরের দিকে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু তিনি মরার মতো করে পড়ে থাকেন। পাকিস্তানিরা তাঁর মাথা তুলে দেখে তিনি মরে গেছেন কি না। একপর্যায়ে তারা ভাবে প্রভা বোধহয় মরে গেছে।

প্রভাকে বাড়ি ফিরতে দেখে বোন ও ভগ্নিপতি খুবই অবাক হয়। তাঁরা রাতে গুলির শব্দ শুনেছে। তাদের ধারণা, তখন প্রভাকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বেঁচে থাকার এমন জীবনবাস্তবতা চাননি প্রভারাণী।

সমাজের বিশ্বাস-মান্যতা-লোকলজ্জার চিরাচরিত বয়ানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আমার সামনে কথা বলে যাচ্ছেন প্রভারাণী।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার প্রভারাণীর গ্রামের বাড়িতে এই সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। ছবি: চন্দন সাহা রায়


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন