রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «   পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীবাদের প্রতিবন্ধকতা  » «   রিষি সুনাক এশিয়ান বংশদ্ভোত, কনজারভেটিভ এবং ধনীদের বন্ধু  » «   গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান  » «   স্পেনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সিলেটে পরাজয় তবুও জনমনে সংশয়



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বরিশালের মেয়র প্রার্থী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর ভোটের দিনের একটা ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে তিনি সকাল নয়টায় একটা ভোটকেন্দ্রের চিত্র তোলে ধরেছিলেন এবং একে একে ব্যালট পেপারে নৌকার প্রতীকে সীল মারাটা দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। একজন প্রিসাইডিং অফিসার তার সামনে অসহায়ের মত দাঁড়িয়েছিলেন আর মনীষা উচ্চারণ করেছিলেনআপনারা শিক্ষিত মানুষসকাল নয়টায় কোন ভোটার নেই, কিচ্ছু নেই অথচ এতো এতো ভোট কিভাবে সিলমারা অবস্থায় এখানে পড়ে আছে।‘ এই সত্যটুকু দেখছিলাম আর মনে হচ্ছিল মনিষা আপনার কপালে শনি ভর করেছে। দিনের শেষ বেলায় দেখেছি তার কপাল ভাল আছে, তবে তাঁর হাতটা ভাল নেই। তাঁর এই হাতটার উপর ব্যান্ডেজ যে বা যারা পরিয়েছেন, তারা হয়ত তাঁর মতো আরেক ডাক্তারই। কেন এটা হয়েছে, তা আমাদের জানা আছে। আমরা কি বলতে পারবো, কারা সেই মানুষগুলো? বলতে গেলে আবারও হাতুড়ি, আবারও সন্ত্রাস। 

 

গত সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ভোটারবিহীন। যুক্তি আছে। বিরোধী দল নির্বাচনে আসে নি, অতএব গনতান্ত্রিক পদ্ধতিকেতো মাঝপথে আটকানো যাবে না। তাই সংবিধানের বিধান মেনে নিয়েছিল দেশের অধিকাংশ মানুষই। যদিও ঢেঁকি গিলেছিলো জনগণ। কিন্তু তিন নগরের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের যে বার্তাগুলো আমরা পাচ্ছি, তাতে তো এটাই ধরে নেয়া যেতে পারে, আগামীর নির্বাচন নিয়ে শুরু হচ্ছে ধ্রুমজাল। নির্বাচন কমিশন থেকে আগেই বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সাল। মাত্র দু-তিন দিন আগে তিনটি শহরে যে রিহার্সেল হলো, এতে কি মনে হয় এই কমিশনের অধীনে সুষ্ট নির্বাচন হবে ? আর তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে আবারও কি সংবিধান সামনে আসবে আমাদের। সংবিধানের জুজু দেখিয়ে এবার কি আরও অধিক সংখ্যক আসন পাকাপোক্ত হবে নির্বাচনবিহীন। 

 

বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো সরাসরি নির্বাচনে না আসার কথা বলছে না। তবে বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসে সে রকম পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে। রাজনীতির আকাশ এরকম মেঘাচ্ছন্ন কিংবা আগুনের মত ভয়াবহ থাকলে স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচনে আসবে না। শুধুমাত্র ক্ষমতার আশপাশে থেকে মধু সংগ্রহের জন্যে কিছু নামমাত্র সাইনবোর্ড সর্বস্ব বৈজ্ঞানিক তত্বের রাজনীতিবিদরা এরকম নির্বাচনকেও গনতন্ত্রের অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে এতে অংশ নেবেন। এখনও যাদের দায়িত্বই হলো তাদের মন্ত্রণালয়ের কথা না বলে শুধু প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়া কিংবা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলা। কিংবা মাঝে মাঝে জঙ্গী জঙ্গী শব্দ উচ্চারণ করে এদের প্রতিহত করার কথা বলা; কার্যত তারা কিছুই করেন না। এবং সেজন্য এদের সংগে নিয়ে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে যথা নিয়মেই। সরকার একটা শক্ত অবস্থানে আছে। পুলিশর‌্যাব কিংবা তাদের ছাত্রদের সাংগঠনিক শক্তির কারণেই। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করা যেখানে যাবে না, সেখানে নির্বাচন অনেকটা অনিবার্যই হয়ে যাবে। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তবুও নির্বাচনকে আন্দোলনের শক্তি হিসেবেই জনগণের সামনে নিয়ে আসার ধারণা থাকতে পারে কোন রাজনৈতিক দলের। কারণ নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই জনগণের সামনে যাবার একটা বিরাট মাধ্যম। সে মাধ্যমকে কাজে লাগাতেই পারে আন্দোলনকামী শক্তি। 

 

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে প্রায় সবকটা আসনে জিতিয়ে দিলেও এই নির্বাচন ব্যাপক সমালোচনা নিয়ে এসেছে দেশেবিদেশের মিডিয়ায়। সরকারের গণতন্ত্রের উচ্চারণটা আরও হাস্যকর হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তবুও আগামীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়াটাই যৌক্তিক। কারণ যেহেতু নির্বাচনে অংশ না নিলে সংবিধানের দোহাই থাকবে, সাধারণ মানুষকে বোঝানোর একটা আবেদন থাকবে, সুতরাং নির্বাচনকে অন্তত আন্দোলনের মাঠ হিসেবে নিয়েও রাস্তায় থাকতে হবে। ধারণায় রাখতেই হবে, জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়েও দেড় শতাধিক আসনসহ একটা সংসদ গত টার্ম উন্নয়নের কথা বলে চালিয়ে নেয়া হয়েছে। 

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন কামরান বিজয়ী হতে পারেন নি ( যদিও দুটি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল এখনও অমীমাংসিত)। এসেছেন বিএনপি আরিফুল হক। আপাত দৃষ্টিতে বিএনপি এটাকে বিজয় হিসেবে ধরে নিলেও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। ভোট কারচুপি, ব্যালটে সীল মারা প্রভৃতি ছিল। একাত্তর টিভিতে লাইভই দেখানো হয়েছে একেক জন তরুণ একাই কিভাবে একটার পর একটা ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের ফলাফল নিয়ে বিএনপি খোশমেজাজে আছে। কারণ তারা জয়ী হয়েছে। কিন্তু তারা কি বলতে পারছেন নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। পারছে না। মধ্য দুপুরেই আরিফ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে ছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা না করলেও তারা যে তাদের পরাজয়ে ব্যর্থতা দেখছেন, তা তারা বুঝাচ্ছেন। সেজন্যেই কিছু কিছু কেন্দ্রে আবারও নির্বাচনের মৃদু দাবী উচ্চারিত হয়েছেও, নিস্প্রাণ ভাবে। 

 

ভোটের মাঠে বিএনপি সিলেটে কেন্দ্র দখল করতে পেরেছে কিনা, কিংবা ভোটে তারা কারচুপি করার সুযোগ পেয়েছে কিনা সে প্রসঙ্গটা আসছে না। সচেতনভাবেই আওয়ামী লীগের কর্মীসমর্থকরা ব্যাপারটা এড়িয়ে চলছেন। কারণ এটা মেনে নিলে দুটো দূর্বলতা তাদের সামনে আসে, এক: পেশীতে সিলেটে তারা বিএনপি তুলনায় খুব একটা সবল নন। দুই: প্রমাণ হয়ে যাবে নির্বাচন কমিশন এমনকি স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করতেও ব্যর্থ হয়েছে, যা সরকারের ইমেজকে আরও নামিয়ে দিতে সহায়তা করবে। তাই হয়ত তারা বিষয়টাকে সামনে আনছেন না। তবে একটা প্রসংগ খুব ভালভাবেই আসছে, আওয়ামী লীগ আত্ন- সমালোচনা করছে। মাত্র পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানের কারণে এখন তারা তাদের কতিপয় নেতাকর্মীর বিশ্বসঘাতকতার কথাটি প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। আকারে ঈঙ্গিতে তারা তাদের কালপ্রিটদের স্যোসাল মিডিয়ায় এমনকি জনগণের সামনে পরিস্কার করার চেষ্টা করছেন। এবং তারা কেউ কেউ শুধু এটাকেই নির্বাচনে হারার প্রধান কারণ হিসেবে জনগনের সামনে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা করছেন। কিন্তু বিষয়টা কি আদৌ তাই। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, ব্যালট পেপারে আগেই সীল মারাও হয়েছে। কিন্তু পেশী এখানে যে মজবুত হয়ে উঠে নি, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে জামাতের সাথে বিএনপি অনৈক্যকে কেন্দ্র করে জামাতের প্রার্থী এবং তার নেতাকর্মীরা নির্বাচনে কোন সমস্যার সম্মুখীন না হওয়ায় জনমনে আওয়ামী লীগের জামাতপ্রীতির ব্যাপারটাও জনসমক্ষে উঠে এসেছে। এবং আওয়ামীলীগের কর্মীসমর্থকদের অনেকেই প্রীতির সমালোচনায় উচ্চকন্ঠ। রাজনৈতিকভাবে ব্যাপারটা কোনভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্যে ভাল কোন প্রপাগান্ডা নয়।  

 

এক অদ্ভুদ অন্ধকার গ্রাস করছে ক্রমশ গোটা দেশটাকে। তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কি বার্তা দিয়ে গেল। এখানে বার্তা আছে কয়েকটি। আছে জনগনের জন্যে বার্তা। আছে শাসকদের জন্য সংবাদ। আছে আগামীর শাসকদের জন্যও কিছু খবর। সকাল নয়টায় মনীষা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বরিশালে কি ঘঠতে যাচ্ছে। সরকারের গুডবুকে থাকা একাত্তর টিভি পর্যন্ত নির্বাচনের কারচুপি  নিয়ে লাইভ করেছে। ডাঃ মনিষা আক্রান্ত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে ভোট ডাকাতি হয়েছে। সব মিলে মনে করা হচ্ছে নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেয়া যায় না। যে কথাটা উচ্চারণ করেছেন বরিশালের মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীও। বিভিন্নভাবে পত্রিকার রিপোর্ট এসেছে কিংবা স্যোসাল মিডিয়ার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে ভোটের অনিয়মগুলো। তা দেখার পর নির্বাচন কমিশন যদি বলে নির্বাচন সুষ্ট হয়েছে, এবং এটাকেই বলে জাতিয় নির্বাচনের রিহার্সেল, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে মানুষ পাপেট বললে দোষ দেবার কিছু থাকবে না। রিহার্সেলের চুড়ান্ত রুপ যদি হয় আগামী নির্বাচন তাহলে সেটা হবে আসলেই রিহার্সেলের পর সারা দেশব্যাপি খন্ড খন্ড নাটক। গণতন্ত্রের যাত্রাপথে আগামীর এই নাটক মঞ্চায়নের চিত্র যদি চোখ বুজে দেখে মানুষ, তাহলে সংশয় শুধুই বাড়তে থাকবে।  

ফারুক যোশী: কলামিস্ট, প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভিডটকম


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক