ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের তিন দিকে পাঁচ বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 48
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত পাঁচটি বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে এমন সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যখন সম্প্রতি দেশটির নেতারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মন্তব্য করে যাচ্ছেন। যদিও ভারতের সরকারি সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত- তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগের কিছু নেই। এই ঘাঁটির ব্যবহার কেবল জাতীয় প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর জন্য নয়। তবুও ভারত বিষয়টি নিয়ে অগ্রহনযোগ্য অবস্থানই নিয়েছে।

শুধু বিমানঘাঁটিই নয়- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষে সেনা উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশনগঞ্জ ও আসামের ধুবরিতে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন করে যেসব এয়ারস্ট্রিপ সংস্কারের আওতায় আনা হচ্ছে, সেগুলো হলো- জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পানগা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদার ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসি বিমানঘাঁটি এরই মধ্যেই কার্যকর রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এয়ারস্ট্রিপগুলো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এএআই) রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভারতের লক্ষ্য হলো রানওয়েগুলোকে অন্তত ব্যবহারযোগ্য ও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধাপে ধাপে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

এক প্রতিরক্ষা সূত্র বলেন, “অনেক এয়ারস্ট্রিপে ঝোপঝাড়ে ঢাকা, ভাঙাচোরা অবস্থা এবং আশপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে, ফলে বড় ধরনের বিমান চলাচলের জন্য এগুলো উপযোগী নয়। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার কিংবা ছোট বিমান নামানোর মতো করে ন্যূনতম সংস্কার কাজ করা হতে পারে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

বাংলাদেশের তিন দিকে পাঁচ বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত পাঁচটি বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে এমন সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যখন সম্প্রতি দেশটির নেতারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মন্তব্য করে যাচ্ছেন। যদিও ভারতের সরকারি সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত- তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগের কিছু নেই। এই ঘাঁটির ব্যবহার কেবল জাতীয় প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর জন্য নয়। তবুও ভারত বিষয়টি নিয়ে অগ্রহনযোগ্য অবস্থানই নিয়েছে।

শুধু বিমানঘাঁটিই নয়- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষে সেনা উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশনগঞ্জ ও আসামের ধুবরিতে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন করে যেসব এয়ারস্ট্রিপ সংস্কারের আওতায় আনা হচ্ছে, সেগুলো হলো- জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পানগা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদার ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসি বিমানঘাঁটি এরই মধ্যেই কার্যকর রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এয়ারস্ট্রিপগুলো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এএআই) রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভারতের লক্ষ্য হলো রানওয়েগুলোকে অন্তত ব্যবহারযোগ্য ও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধাপে ধাপে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

এক প্রতিরক্ষা সূত্র বলেন, “অনেক এয়ারস্ট্রিপে ঝোপঝাড়ে ঢাকা, ভাঙাচোরা অবস্থা এবং আশপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে, ফলে বড় ধরনের বিমান চলাচলের জন্য এগুলো উপযোগী নয়। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার কিংবা ছোট বিমান নামানোর মতো করে ন্যূনতম সংস্কার কাজ করা হতে পারে।”