যুক্তরাজ্যে বিদেশ থেকে সরাসরি সেবা প্রদানকারী কর্মী ও স্বনির্ভর পেশাজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি ভিসা ক্যাটাগরি চালু রয়েছে, যার নাম "সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা"।
যুক্তরাজ্য সরকারের অভিবাসন নীতিমালার আওতাধীন এই ভিসা মূলত তাদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের কোনো ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেবা প্রদানের চুক্তি রয়েছে-হয় বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে, অথবা স্বনির্ভর পেশাজীবী হিসেবে।
- কারা আবেদনের যোগ্য
এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কোনো বিদেশভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী হতে হবে। অথবা বিদেশে অবস্থানরত স্বনির্ভর সেবাদাতা হতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা কোনো চুক্তির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেবা প্রদান করতে হবে।
আবেদনকারীর পেশা যোগ্য তালিকাভুক্ত হতে হবে; তবে পেশা তালিকাভুক্ত না হলেও প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের স্পনসরের কাছ থেকে একটি "সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ" থাকা আবশ্যক, যেখানে কাজের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।
কর্মীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাইরে নিজ নিয়োগকর্তার অধীনে কমপক্ষে ১২ মাস কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, আর স্বনির্ভর সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে অন্তত ১২ মাসের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত নির্ভর করে আবেদনকারীর পেশার ওপর।
- কতদিন থাকা যাবে যুক্তরাজ্যে
এই ভিসায় অবস্থানের মেয়াদ নির্ভর করে কোন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সেবা প্রদান করা হচ্ছে তার ওপর। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ ৬ মাস অথবা ১২ মাস হতে পারে।
এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, এবং সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপে উল্লেখিত মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৪ দিন যোগ করে যেটি পাওয়া যায়-এই দুইয়ের মধ্যে যেটি সংক্ষিপ্ত, সেটিই কার্যকর হবে। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তির ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা যাবে এই ভিসায়।
যারা আগে থেকেই সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা বা এই সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভিসায় যুক্তরাজ্যে সময় কাটিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইন্ট্রা-কোম্পানি গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ভিসা, ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার ভিসা, গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ক্যাটাগরির অধীনে থাকা গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ভিসা, সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা, সিনিয়র বা স্পেশালিস্ট ওয়ার্কার ভিসা, সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা এবং ইউকে এক্সপানশন ওয়ার্কার ভিসা-এই ভিসাগুলোর যেকোনোটিতে সময় কাটানো ব্যক্তিরা যেকোনো ৬ বছরের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্তই যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।
- আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে
আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। আবেদনকারী যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে নতুন করে আসছেন, নাকি ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অবস্থায় বিদ্যমান ভিসার মেয়াদ বাড়াতে চাইছেন, নাকি অন্য কোনো ভিসা থেকে এই ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করতে চাইছেন-তার ওপর নির্ভর করে আবেদন প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হবে।
চাকরি বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই ভিসা হালনাগাদের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গী ও সন্তানরাও যোগ্য হলে "নির্ভরশীল" হিসেবে যুক্তরাজ্যে আসার বা থাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- খরচ কেমন
আবেদনকারী নিজে, তার সঙ্গী কিংবা সন্তান-প্রত্যেককেই পৃথকভাবে আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে। এর পাশাপাশি অবস্থানের প্রতি বছরের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জও দিতে হবে। আবেদনকারীকে এটাও প্রমাণ করতে হবে যে তার হাতে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সঞ্চয় রয়েছে।
- সিদ্ধান্ত পেতে কতদিন লাগে
সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপে উল্লেখিত কাজ শুরুর তারিখের সর্বোচ্চ ৩ মাস আগে থেকে ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচয় প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়, যার জন্য কখনো কখনো অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে-আবেদন শুরুর পরই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
অনলাইনে আবেদন, পরিচয় যাচাই ও নথিপত্র জমাদানের পর সাধারণত যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদনকারীরা ৩ সপ্তাহের মধ্যে এবং যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদনকারীরা ৮ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত পেয়ে থাকেন।
অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে পাঠানো ইমেইলে জানানো হবে, কীভাবে অভিবাসন মর্যাদা প্রমাণ করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে কী করণীয়।
- যা করা যাবে, যা যাবে না
এই ভিসায় থাকা অবস্থায় আবেদনকারী তার স্পনসরের অধীনে সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপে উল্লেখিত নির্দিষ্ট কাজটি করতে পারবেন, পড়াশোনা করতে পারবেন, যোগ্য সঙ্গী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন, বিদেশ ভ্রমণ করে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে পারবেন, এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজও করতে পারবেন।
তবে এই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ অবশ্যই বিনা পারিশ্রমিকে হতে হবে এবং তা করতে হবে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তহবিল সংগ্রহকারী সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা, অথবা কোনো সরকার-নিযুক্ত সংস্থার (যেমন হিস্টোরিক ইংল্যান্ড) হয়ে।
অন্যদিকে, এই ভিসাধারীরা অধিকাংশ সরকারি সুযোগ-সুবিধা (পাবলিক ফান্ডস) বা স্টেট পেনশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ভিসা হালনাগাদ না করে চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন না। যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এবং একই সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো চাকরি করতে পারবেন না।
আবেদন গৃহীত হলে ঠিক কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, তার সম্পূর্ণ তালিকা আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র: GOV.UK
-
যুক্তরাজ্যে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর, লঙ্ঘনে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
-
রাজকীয় সম্মাননা এমবিই অর্জনে সংবর্ধিত কবি-নাট্যকার আবু তাহের
-
টাওয়ার অব লন্ডন ইস্যুতে টাওয়ার হ্যামলেটসের লোকাল প্ল্যানের শুনানি স্থগিত
-
যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়ছে টিভি লাইসেন্স ফি, বাড়বে নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক চাপ
-
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট লোনের ফাঁদে ৫৮ লাখ শিক্ষার্থী, চাপে সরকার