নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও সিনিয়র ক্যারিয়ার কূটনীতিক মুহাম্মদ আবদুল মুহিত-কে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কূটনীতিক সংশ্লিষ্ট সূত্র এটি প্রায় নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুহিত বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের ১১তম বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
ব্যক্তিগত জীবন:
মুহাম্মদ আবদুল মুহিত মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল ( সিলেট বিভাগ) এর সুসন্তান।
তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম রুবি পারভীন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। এছাড়া তিনি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় একটি ডিপ্লোমাও অর্জন করেছেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি:
২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইউরোপে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব:
জাতিসংঘে যোগদানের আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডে বাংলাদেশের সমবর্তী (Concurrent) রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা:
তার কূটনৈতিক কর্মজীবনে ওয়াশিংটন ডিসি, রোম, দোহা, কুয়েত এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় ধরনের কূটনীতিতেই তার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জাতিসংঘে নেতৃত্বের ভূমিকা:
২০২৪ সালে তিনি UNDP, UNFPA ও UNOPS-এর যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া United Nations Peacebuilding Commission-এর চেয়ার হিসেবেও নেতৃত্ব দেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিক্ষাজীবন:
মুহাম্মদ আবদুল মুহিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিন দশকের বেশি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা:
১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
-
যুক্তরাজ্যে শরণার্থী স্পনসরশিপ ভিসা চালুর ঘোষণা, আবেদন শুরু এ বছরেই
-
যুক্তরাজ্যের ছোট গ্রামে ১,২৫০ আশ্রয়প্রার্থী রাখার সিদ্ধান্ত: সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বাসিন্দারা
-
ব্রিটিশ ইতিহাসে প্রথম: রাজা চার্লস প্রকাশ করলেন কত কোটি পাউন্ড কর দিলেন
-
১০ বছরের ILR-এর বিপক্ষে হাউস অব লর্ডস কমিটি, বর্তমান ভিসাধারীদের সুরক্ষার আহ্বান
-
ঘরে বসেই সহজে ই-ভিসা (eVisa) করার ধাপসমূহ