যুক্তরাজ্যের একটি প্রত্যন্ত ও ছোট গ্রামীণ এলাকায় ১,২৫০ জন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে (Asylum Seekers) পুনর্বাসনের সরকারি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও গণ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজপথে নেমে এসেছেন এবং এটিকে গ্রামীণ জনপদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোম অফিস যুক্তরাজ্যের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি বা বড় সরকারি স্থাপনাকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই কেন্দ্রে মূলত সিঙ্গেল পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হবে, যারা ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে বা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই গ্রামের মোট স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা এই ১,২৫০ জনের চেয়েও কম। ফলে হঠাৎ করে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিগুণ সংখ্যক সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে নিয়ে আসায় তীব্র সামাজিক ও মানসিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত কারণ তুলে ধরেছেন। তাদের অন্যতম বড় আপত্তি হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার বিপর্যয়। গ্রামে মাত্র একটি ছোট জিপি সার্জারি বা মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতেই হিমশিম খায়। সেখানে একসঙ্গে ১,২৫০ জন নতুন মানুষ এলে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
এছাড়া প্রত্যন্ত এই গ্রামটিতে গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং ঘন্টায় মাত্র একটি বাস চলাচল করে। শত শত তরুণ পুরুষকে একটি শান্ত গ্রামীণ এলাকায় খোলামেলা ছেড়ে দিলে স্থানীয় নারী ও স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভকারীদের একজন বিবিসিকে বলেন, তারা বর্ণবাদী বা অমানবিক নন, কিন্তু এই ছোট গ্রামটি এত বড় ধকল সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই।
এদিকে কনজারভেটিভ সরকারের আমলে আশ্রয়প্রার্থীদের বিলাসবহুল হোটেলে রাখার কারণে প্রতিদিন ব্রিটিশ করদাতাদের লাখ লাখ পাউন্ড খরচ হতো। বর্তমান লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই হোটেল খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করদাতাদের টাকার সাশ্রয় করতে এবং আবাসন সংকট দূর করতেই এই বড় বড় অ-আবাসিক সরকারি স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকার স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে আলোচনা করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও স্থানীয়রা একটুও শান্ত হননি।
উল্টো স্থানীয় দলীয় কাউন্সিলর ও এমপিরাও এখন নিজেদের ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, শুধু রাজপথে বিক্ষোভই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারা এখন চাঁদা তুলে একটি শক্তিশালী ফান্ড গঠন করছেন। হোম অফিসের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে 'জুডিশিয়াল রিভিউ' বা আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিকল্পনা স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ফলে সরকারের এই নতুন প্রকল্পটিও বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজ সূত্র: বিবিসি নিউজ
-
১০ বছরের ILR-এর বিপক্ষে হাউস অব লর্ডস কমিটি, বর্তমান ভিসাধারীদের সুরক্ষার আহ্বান
-
ঘরে বসেই সহজে ই-ভিসা (eVisa) করার ধাপসমূহ
-
শুক্রবার পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহ, সপ্তাহান্তে শীতল আবহাওয়ার সম্ভাবনা
-
তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে
-
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও কর্মজীবন