নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রবিবার সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেন। চিঠিটিতে এমপির সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’’ তবে কী ধরনের দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়েছে, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় অনুমোদিত তালিকার দুই স্থানে তার মেয়ের নাম থাকার বিষয়টি শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরই তার পিএসকে বরখাস্তের চিঠি প্রকাশ করা হয়।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিটি ছিল এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদান সংক্রান্ত। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের মধ্যে বিতরণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় প্রত্যেকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়।
তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নাম রয়েছে। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অন্যটিতে মো. আতাউর উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেশার মানুষ মন্তব্য করেন, ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম।
এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই এমপির নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, এই তালিকা প্রস্তুত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী। তিনি দাবি করেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএসের কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।’
তিনি আরও বলেন, অনুদানের অর্থ এসেছে—এ বিষয়টিও তিনি আগে জানতেন না। ‘অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে জিজ্ঞেস করি, টাকা এসেছে কি না। ইউএনও জানান, স্যার টাকা তো এসেছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানানো হয়নি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে, আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকাভুক্ত নামগুলো সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই অনুদান দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ ফেরত যাবে। নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই; সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।