বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামীলীগবিহীন ও ভোটারবিহীন একটি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচায় টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘প্রহসনের সূচনা’ হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সারাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তার দাবি, ভোটগ্রহণের উৎকর্ষ সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামীলীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামীলীগের ভোটার, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর লাগাতার হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবুও সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ, সকল রাজবন্দির মুক্তি, আওয়ামীলীগের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।