ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ‘সুষ্ঠু হলেও’ গণনার পর্যায়ে ‘অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে’ ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন শফিকুর রহমান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী, সমর্থক, এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী তৎপরতার’ সঙ্গে তুলনা করেন।
জামায়াত আমির বলেন,
‘নির্বাচন মানে হার-জিত থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। সেই হার-জিত যদি স্বাভাবিকভাবে হয়, তাহলে সবাই সাধারণত মেনে নেয়। কিন্তু সেখানে যদি বড় ধরনের কোনো বৈষম্য অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।’
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন,
‘এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে, যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবেন। নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন, যেভাবেই পেয়ে থাকেন, এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ-আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে।’
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, নির্বাচনী ফল ঘোষণা চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ করে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন,
‘আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্ট শিটের ওপর ঘষামাজা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,
‘নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে যা হয়েছে, আপনারা দেখেছেন, সেন্টার দখল করে একজন নেতার আপনজনের নেতৃত্বে যা হয়েছে, তার সাক্ষী দেশবাসী।’
যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তারা প্রতিকার চাইবেন—এ কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন,
‘সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমরা প্রতিকার পাই, তাহলে এক কথা। যদি না পাই, তাহলে আমরা বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায় ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদের নিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো এলাকায় ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বলেন,
‘নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও তা লক্ষ্য করেছি। মনে রাখবেন, চব্বিশের আকাঙ্ক্ষার সাথে যে কেউ অপমানজনক আচরণ করবেন, জাতি তাদের ক্ষমা করবে না, যুব সমাজ তাদের ক্ষমা করবে না।’
গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন,
‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রায় দিয়েছে গণভোটের পক্ষে। অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে, এর কোনো পরিবর্তন আমরা দেখতে চাই না। গণভোটে “হ্যাঁ” বিজয়ী হয়েছে। যারা সরকার গঠন করবেন, সেটা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ফলাফল কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন,
‘এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল। আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল যখন ঘোষণা করার সময় হয়েছে, ওই সময়টাতে স্পেসিফিক অনেকগুলো আসনকে টার্গেট করে সেটার ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় তিনি ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১৩ আসনের কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন,
‘কেন্দ্রগুলোকে দখল করে সেই কেন্দ্রে জোর করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির এবং ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক বলেন,
‘ভোটগ্রহণটা যেভাবে হয়েছে, ভোট গণনাটা তার সম্পূর্ণ উল্টোভাবে হয়েছে, এবং সেখানেই আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য ও মানুষের জনরায়ের প্রতি চরমভাবে অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে, অসম্মান করা হয়েছে। এটা যারা করেছেন, বাংলাদেশের কাছে তাদেরকে দায়ী থাকতে হবে।’