স্পেনশাসিত উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় অভিবাসন সংকট সমাধানের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সময় রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের প্লাজা দে লা কনস্টিটিউশনে সমবেত হন হাজার হাজার মানুষ, পরে তাঁরা স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিনিধি দলের (Delegación del Gobierno) সদর দপ্তরের সামনে পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যান।
সংকটের সূত্রপাত
গত ৩০ জুলাই থেকে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে সিউটায় রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসী অনুপ্রবেশ শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাঁতরে অথবা সীমান্ত বেড়া টপকে শহরে প্রবেশ করেন, যা সিউটার প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে। স্থানীয়দের ভাষায়, পরিস্থিতি "একেবারে অসহনীয়" পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের যৌথ আয়োজন
এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সিউটার প্রধান চারটি ধর্মীয় সম্প্রদায়— খ্রিষ্টান, মুসলিম, ইহুদি ও হিন্দু— যৌথভাবে এই সমাবেশের ডাক দেয়, যাদের সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় প্রতিবেশী সংগঠনগুলোর যুক্তরাষ্ট্র ফেদেরাসিওন প্রভিনসিয়াল দে আসোসিয়াসিওনেস দে ভেসিনোসও। আয়োজকেরা একে "নাগরিক ও শান্তিপূর্ণ" সমাবেশ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সব পক্ষের প্রতি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
"সিউটা আত্মসমর্পণ করবে না"
"যথেষ্ট হয়েছে, সিউটা আত্মসমর্পণ করবে না" (¡Basta ya! Ceuta no se rinde)— এই মূল স্লোগানে বিক্ষোভকারীরা কনস্টিটিউশন স্কয়ারে জড়ো হন। সমাবেশে বারবার উচ্চারিত হয়— "সিউটা আত্মসমর্পণ করে না, সিউটা বিভক্ত হয় না, সিউটা আশা হারায় না" শীর্ষক বার্তাটি। এ ছাড়া "যথেষ্ট হয়েছে," "সানচেজের পদত্যাগ চাই," "সিউটা স্প্যানিশ," "অবৈধদের বহিষ্কার চাই"— এমন নানা স্লোগানও শোনা যায় সমাবেশজুড়ে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল স্পেন ও সিউটার পতাকা।
সরকারি প্রতিনিধি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ
মূল সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্লাজা দে লোস রেয়েসের দিকে মিছিল নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে অনেকে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিনিধি দলের সদর দপ্তরের কাছেও পৌঁছান। সমাবেশে সিউটায় নিযুক্ত সরকারি প্রতিনিধি মিগেল আনহেল পেরেস ত্রিয়ানোর অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ করা হয়— তিনি সমাবেশে উপস্থিত না হওয়ায় জনতা তাঁর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়। এই ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে জাতীয় পুলিশ দাঙ্গা-বিরোধী সদস্য ও যানবাহন মোতায়েন করে।
তবে সিউটার শহর প্রেসিডেন্ট হুয়ান ভিভাস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, যদিও আয়োজনটিতে মূল ভূমিকায় ছিল রাজনৈতিক দল নয়, বরং সাধারণ নাগরিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকরা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্ত সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সেনা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ মোতায়েন করতে ব্যর্থ হয়েছে মাদ্রিদ সরকার, যার ফলেই এই সংকট এত বড় আকার ধারণ করেছে।
শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি
প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভ কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়। আয়োজকদের আহ্বান অনুযায়ী সহাবস্থান বজায় রাখা ও সংঘাত এড়ানোর মধ্য দিয়েই সমাবেশ সমাপ্ত হয়। আয়োজকদের ইশতেহারের শেষ বাক্যে বলা হয়— "সহাবস্থান দীর্ঘজীবী হোক।"
সূত্র: ভজপপুলি, পুবলিকো, ইনফোবায়ে, কাদেনা ৩ আর্হেন্তিনা