ঢাকা ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

প্যারিসে বাংলাদেশিদের বর্ণিল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

প্যারিসে বাংলাদেশিদের বর্ণিল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব

ফ্রান্সের প্যারিসের লা কর্নভেতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী কমিউনিটি সদস্যরা।

দিনব্যাপী এ উৎসবে খেলাধুলা, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে ছিল নানা উদ্যোগ।

জমজমাট প্রতিযোগিতা

আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষে সেন্ট-ডেনিস কালচারাল সোসাইটি চ্যাম্পিয়ন এবং জেনারেশন গ্রুপ রানার্সআপ হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শিশু-কিশোরদের উৎসব

ফুটবল মাঠের বাইরেও ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য নানা প্রতিযোগিতা। দৌড়, মোরগ লড়াই, বেলুন ফোটানো এবং রশি টানাটানির মতো উন্মুক্ত খেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রাণচাঞ্চল্য ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান এগিয়ে যায়।

কমিউনিটির সম্প্রীতি জোরদার

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রাঙ্কো-বাংলা সোশিও কালচারাল সোসাইটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্রীড়া উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, কমিউনিটি নেতা গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান, কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অতিথিরা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন জোরদার করা এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনব্যাপী ফুটবল, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিকভাবে সংযুক্ত রাখবে এবং কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।