বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবসা ও পর্যটক ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যতামূলক করার কর্মসূচি স্থায়ীভাবে চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই তালিকায় থাকা ৫০টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা মহাদেশের।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে চালানো পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (visa overstay) কমাতে এই উদ্যোগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে এটিকে স্থায়ী নীতিতে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে U.S. Department of State। নতুন নিয়ম সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কিছু দেশ এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
এই নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত দেশগুলোর যেসব নাগরিক B-1 (business) ও B-2 (tourist) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। সংশোধিত বিধিমালায় consular কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ হাজার, ১৫ হাজার অথবা ২০ হাজার মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা ন্যূনতম ৫ হাজার ডলারের বন্ডের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
কোনো আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে পুরো বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আর যাদের ভিসা অনুমোদিত হবে, তারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাবেন।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের আগস্টে প্রথম এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্ধারিত ৫০টি দেশের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ জন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন।
তবে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রথম ১০ মাসে ওই দেশগুলো থেকে ৫০ জনেরও কম ওভারস্টের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি নীতিটির কার্যকারিতার প্রমাণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ব্যয় সৃষ্টি করে।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মার্কিন সরকারের প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারীর ওপর এই বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ২ হাজারের তুলনায় অনেক বেশি।
বন্ডের আওতায় পড়া আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেকই অর্থ জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে নির্ধারিত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ইস্যু করা ব্যবসা ও পর্যটক ভিসার সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমে গেছে।
যদিও U.S. Department of State এই কর্মসূচিকে ভিসা ওভারস্টে কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে, সমালোচকদের মতে, এত উচ্চ অঙ্কের বন্ড নিম্ন আয়ের দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য একটি বড় আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
এর ফলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, ব্যবসায়িক সফর কিংবা পর্যটন ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।