ঢাকা ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য থাইল্যান্ডের নতুন দুয়ার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য থাইল্যান্ডের নতুন দুয়ার

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের নতুন পথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। আলোচনায় একটি স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় দেশ।

বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে থাই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় কর্মী নিয়োগের এই নতুন উদ্যোগ একটি বড় মাইলফলক।

নিয়োগ ব্যয় বহন করতে হবে নিয়োগকর্তাকে

নীতিগত ও দায়বদ্ধ নিয়োগ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়োগকর্তাদেরই প্রাথমিক নিয়োগ ব্যয় বহন করতে হবে। এ ছাড়া কর্মীদের নিজ ভাষায় সুস্পষ্ট চাকরির চুক্তি দিতে হবে এবং ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বীমা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমশক্তি বিদ্যমান। তিনি থাই প্রতিনিধি দলকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুক্তার আহমেদ যোগ করেন, পেশাজীবী এবং সাধারণ শ্রম—উভয় খাতেই থাইল্যান্ডের জন্য উপযুক্ত কর্মী সরবরাহ করতে সক্ষম বাংলাদেশ।

কম্বোডিয়া থেকে কর্মী নেওয়া স্থগিত

এদিকে থাই সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবারের চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনুন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কর্মী নিয়োগ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কম্বোডিয়া থেকে নির্মাণ, হালাল কারখানা ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া স্থগিত রয়েছে।

ফলে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম উৎস দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে থাইল্যান্ড আগ্রহী।

তবে থাই প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেআইনিভাবে অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী থাই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করে দুই দেশের মধ্যে শীঘ্রই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে থাই প্রতিনিধি দলে সিনেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচোট সেনসায়াক এবং লেবার ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ডা. পিরাসিথ কুনলারতারিপন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।