সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে দানবাক্সে মাত্র ১৯ দিনে জমা পড়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে সোনা, রুপা এবং ১২টি ভিন্ন দেশের মুদ্রাও। শনিবার সন্ধ্যায় গণনা শেষে এ তথ্য জানান মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এর আগে ২২ জুন সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
প্রথম দফার গণনার ১৯ দিন পর শনিবার সকালে আবারও দানবাক্স খোলা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দ্বিতীয় দফার টাকা গণনা শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে এই গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে উপস্থিত হন উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, Sylhet Metropolitan Police-এর কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ সংশ্লিষ্টরা। পরে তারা মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা অবস্থা থেকে খুলে ফেলেন। সেখান থেকে সংগ্রহ করা অর্থ বস্তাবন্দি করে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় গণনার জন্য।
গণনার সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাদ্রাসার প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মাজার কমিটির তথ্যমতে, দানবাক্সে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সোনা, রুপা এবং ১২টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ওমানের এক দিনার ৪৫০ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার, কাতারের ২২ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত এবং পাকিস্তানের ৬০ রুপি। এছাড়া পাওয়া গেছে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গণনার পর থেকে মাজারে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গরু ও ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১২ জুন প্রথমবারের মতো দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং পুরোনো তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন।
সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ Sonali Bank-এ খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা সম্পন্ন করা হয়।