তৃণমূলের হতাশা: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
"মনে করেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমরা হয়তো একটু এলাকায় ফেরার সুযোগ পাবো... কিন্তু এখন যেটা হলো, এটা আমরা আশা করি নাই। অবস্থা আগের মতোই।"
এই মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের এক তৃণমূল নেতা আরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। তিনি ঢাকার বাইরে একটি উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি।
তৃণমূলের অনেক নেতার মধ্যেই একই ধরনের হতাশা দেখা যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতা
নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হবে—এমন আশা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে উল্টো হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাস হওয়ায় আইনগতভাবে দলটির প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
কার্যালয় খোলার ব্যর্থ চেষ্টা
নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার চেষ্টা করে।
খুলনার হাদিস পার্কে অবস্থিত কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা গিয়ে প্রতিকৃতিতে ফুল দেন ও শ্লোগান দেন।
কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে হামলা হয় এবং এরপর আর কেউ সেখানে যেতে পারেননি।
দেশের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রচ্ছন্ন সমর্থন বিতর্ক
কার্যালয় খোলার পেছনে বিএনপি বা জামায়াতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকতে পারে—এমন আলোচনা ছিল।
তবে উভয় দলই এ দাবি অস্বীকার করেছে।
তৃণমূলের বর্তমান কৌশল
বর্তমানে অনেক নেতা আত্মগোপনে থেকে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এক নেতা বলেন, "আপাতত: আত্মগোপনে থেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করাটাই এখন তাদের দলীয় কাজ'।"
কারাগারে থাকা কর্মীদের বের করার চেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে।
কেন ভেঙে গেল আশাবাদ
নির্বাচনের আগে ধারণা ছিল—
- বিএনপি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নয়
- তৃণমূল আওয়ামী ভোটাররা বিএনপিকে সমর্থন করেছে
এই কারণেই অনেকেই ভেবেছিলেন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
আরিফুল ইসলাম বলেন,
"বিএনপি কোনো দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চায় না... সেই আশার কারণে কিন্তু ভোটেও প্রভাব পড়েছে।"
এলাকায় ফেরা বনাম রাজনীতি
তৃণমূলের কিছু নেতা এলাকায় ফিরতে পারলেও রাজনীতি করতে পারছেন না।
এক নেতা বলেন,
"আমি এলাকায় থাকি, ব্যবসা করি... কিন্তু রাজনীতি বা এরকম কিছু করার চেষ্টা করলেই সমস্যা হবে।"
উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
‘দল বাঁচাতে’ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান
তৃণমূল নেতাদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া সংগঠন চাঙা করা সম্ভব নয়।
আরিফুল ইসলাম বলেন,
"রাজধানী শহর ঢাকা দখল করতে না পারলে তৃণমূল দখল করে লাভ নাই..."
তিনি আরও বলেন,
"নেতৃবৃন্দের এখন দেশে ফিরে আসা উচিত এবং গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে হলেও আসা উচিত।"
শীর্ষ নেতৃত্ব কোথায়?
দলের অনেক শীর্ষ নেতা কারাগারে বা বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে অবস্থান করছেন।
দেড় বছর ধরে বিদেশ থেকে দল পরিচালনার চেষ্টা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।
কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্য
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন,
"আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশের ভেতরে থেকেই আন্দোলন করছে।"
তিনি আরও বলেন,
"নেতারা উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই আসার জন্য অপেক্ষা করছে।"
রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ
তিনি প্রশ্ন তোলেন,
"দেশে কি মব সন্ত্রাস বন্ধ হয়েছে?... আওয়ামী লীগের নাম পেলেই গ্রেপ্তার চলছে।"
দলটির দাবি, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় নেতারা দেশে ফিরছেন না।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে আওয়ামী লীগের সামনে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতারা ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরবেন কি না—সেটিও স্পষ্ট নয়।
ফলে দলটির সংকট এখনো কাটেনি।
-
২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ মাসেই ‘লক্ষাধিক’
-
বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় ১৩ দেশের কড়া বার্তা: দালাল এড়িয়ে চলুন
-
দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মারা গেছেন
-
ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা, নারী আটক : ‘নিকৃষ্ট আচরণ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বললো জামায়াত
-
১৭ মাস কোথায় ছিলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন? গ্রেপ্তারের খবর দিল ডিবি