ঢাকা ২৪ চৈত্র ১৪৩২, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ২৪ চৈত্র ১৪৩২, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতি নজরুল-সম্পাদক মজিবুর আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ধসে পড়ল ভবন মার্কিন ক্রু উদ্ধারের প্রশংসায় ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: না মানলে "জাহান্নাম" নেমে আসবে, ইরানের প্রত্যাখ্যান আকাশে আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন : ইরানে বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের রাস্তায় প্রকাশ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারীকে পিটিয়ে হত্যা যুদ্ধ থেকে বেরনোর পথ পাচ্ছেন না ট্রাম্প নারায়ণগঞ্জে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হামলার পরও অটুট ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, ড্রোন সক্ষমতাও অর্ধেক ফুরায়নি মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জ বরখাস্ত, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদেও পরিবর্তন প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতির দাবি - জিএসসির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত সূচি : কার খেলা কখন? ইরান যুদ্ধ শেষের পথে, তবে বিধ্বংসী হামলা চলবে: ট্রাম্প কী ঘটেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে : টাকার ব্যাগ নিয়ে আসার সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, বদলে গেছে কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ আফগানিস্তানে বোমা হামলার প্রতিবাদে রোমে বিক্ষোভ রোমে চালু হলো 'বন্ধু লাউঞ্জ', বাঙালি সাজসজ্জায় আগ্রহ বাড়ছে প্রবাসীদের শেখ হাসিনার বিচার 'বেআইনি': রায় বাতিল চেয়ে ICT-কে চিঠি ব্রিটিশ ল ফার্মের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিশ্বকাপে এবারও ইতালির স্বপ্নভঙ্গ কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ভয়াবহ আগুন, এবার ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে বললেন ট্রাম্প ইরানে সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান ও চীনের ৫ দফা শান্তি প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন আদেশকে ‘প্রতারণার দলিল’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে ৯০০ কেজির বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেললো যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রই শেষ রক্ষার হাতিয়ার? ‘সীমান্তে পিঠ দেখাবো না বুক দেখাবো’ ঘোষণা দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ৮ মাসে ২৪৭৯ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ মব সৃষ্টি করে ইউটিউবার আর এস ফাহিম আটক, দেওয়া হলো পুলিশে গ্রিসে যাবার পথে সাগরে মৃত্যু : ভাসমান ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার, মৃতদের ৮ জন সুনামগঞ্জের এক দিনে সর্বোচ্চ হামলা ইরানে, মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন কয়েক হাজার মার্কিন সেনা

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আইন হলে শুধু কার্যক্রমই নয়, দলটির নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে। এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন বিবিসি নিউজ বাংলা’র রাকিব হাসনাত


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কিছু সংশোধনীসহ অধ্যাদেশটি পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।


রাজনীতিতে প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা বা তাদের কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


বিশ্লেষকদের ভিন্নমত

বিশ্লেষকদের মতে, আইন করে দল নিষিদ্ধ করার বদলে অপরাধ প্রমাণ হলে আদালতের মাধ্যমে বিচার কিংবা নির্বাচনে জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যানের সুযোগ থাকলে প্রতিহিংসার অভিযোগ কম হতো।


প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবনার অভিযোগ

তাদের ধারণা, সরকার ও সমমনা দলগুলো এখনো আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সাধারণত গ্রহণযোগ্যতা পায় না।


আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে”।


দায় কার—প্রশ্নে ভিন্ন ব্যাখ্যা

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে কি না—এ প্রশ্নে বিএনপি ও সরকারের একটি সূত্র বলছে, “আইনটি পরে সংশোধনের সুযোগ থাকবে”।


বিএনপির আগের অবস্থান

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়; এ বিষয়ে জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। যদিও দলের কিছু নেতা সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথাও বলেছেন।


বিএনপির বিবৃতি ও অবস্থান পরিবর্তন

২০২৫ সালের ১১ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


প্রজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি

২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।


প্রজ্ঞাপনের মূল বক্তব্য

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম—প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ—নিষিদ্ধ থাকবে।


শাস্তির বিধান না থাকায় সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষকদের মতে, ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও তা লঙ্ঘনের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান ছিল না।


সংসদে অধ্যাদেশ উত্থাপন

নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়েছে।


সংবিধান অনুযায়ী সময়সীমা

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এ হিসেবে ১০ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এগুলো তামাদি হয়ে যাবে।


বিশেষ কমিটি ও সুপারিশ

অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫।


শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব

কমিটির একটি সূত্র জানায়, “কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধ অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তা উল্লেখ নেই। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শাস্তির বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।”


সম্ভাব্য আইনি প্রভাব

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য যেসব শাস্তির বিধান রয়েছে, সেটিই আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে দলটির ব্যানারে যেকোনো কার্যক্রমে অংশ নিলে শাস্তির আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকবে।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্দোলনের ভূমিকা

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অনেকে এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত।


ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিও জোরালো হয়।


পূর্বের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবর্তন

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করলেও মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়।


আইন না হলে কী হতো

বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাদেশ অনুমোদন না হলে তা বাতিল হয়ে যেত এবং আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরতে পারত। কিন্তু আইন আকারে পাস হলে সেই সুযোগ থাকবে না।


আদালত বনাম রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত

বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধের বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে—কিন্তু সরাসরি দল নিষিদ্ধ করা বিতর্ক তৈরি করে।


মহিউদ্দিন আহমদের মন্তব্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি। আদালতও নিষিদ্ধ করেনি। জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যান হলে প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠতো না।”


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিহিংসার আশঙ্কা

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ একাত্তরেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন সরকার ও সমমনা দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিষিদ্ধ রাখতে চাইছে বলেই এটি প্রতিহিংসা মনে হতে পারে।”


জোবাইদা নাসরীনের বিশ্লেষণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঐতিহাসিকভাবে কারও জন্য সুফল বয়ে আনেনি; বরং যারা করেছে তাদের দায় নিতে হয়েছে।”


গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য ভোটার ও সমর্থক রয়েছে। জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে দল নিষিদ্ধ করা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো নয়।”


আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক বিবৃতি

রোববার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “এর মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দায় নিতে হবে।”


সমর্থন ও জনমত নিয়ে দাবি

তার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে এবং জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে।


গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই লড়াই করবে।”