সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গভীর রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বলেন, “হ্যাঁ, আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।”
তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
📍 কোথা থেকে গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাসা থেকে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদকে আটক করা হয়।
🕰️ ‘এক-এগারো’ প্রেক্ষাপটে উত্থান
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মেজর জেনারেল মাসুদ ‘এক-এগারো’ ঘটনার পর পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
সে সময় তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। কমিটির প্রধান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।
ধারণা করা হয়, জরুরি অবস্থার সময়ে পর্দার আড়াল থেকে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তিনি।
⚖️ যৌথবাহিনীর কার্যক্রম
সেই সময়ে সেনা নেতৃত্বাধীন বাহিনী:
- শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে
- জিজ্ঞাসাবাদ চালায়
- পরে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করে
🗳️ রাজনৈতিক সংকট ও ‘ওয়ান ইলেভেন’
২০০৬ সালের শেষদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিদায়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে ওঠে।
রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হলে বিরোধীদের আন্দোলন তীব্র হয় এবং নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আসে।
এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল হয়।
এই ঘটনাই ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিতি পায়।
🧩 তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ভূমিকা
ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি প্রভাবশালী কমিটি পরিচালনা করতেন।
👥 শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার
সেই সময়:
- খালেদা জিয়া
- শেখ হাসিনা
- তারেক রহমান
সহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়।
তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
🔄 ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বিতর্ক
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তনের লক্ষ্যে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে।
এ সময় মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে ‘নাগরিক পার্টি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি পরে সরে দাঁড়ান।
🌍 কূটনৈতিক দায়িত্ব ও পরবর্তী জীবন
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করা হয়।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে সেই পদে বহাল রাখে।
তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
🪖 কর্মজীবনের শুরু
সত্তরের দশকে রক্ষী বাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
১৯৭৫ সালে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্ত হলে তাকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
💼 অবসরের পর ব্যবসা ও রাজনীতি
- ঢাকায় পাঁচ তারকা মানের হোটেল ব্যবসা শুরু
- জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় যুক্ত হন
- ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টি-তে যোগ দেন
- একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন
⚠️ সাম্প্রতিক মামলা ও অভিযোগ
২০২৫ সালের মার্চে দুদকের এক মামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল-এর স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে মাসুদকেও আসামি করা হয়।
অভিযোগ:
- মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
- ১,১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচার
এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে সিআইডি আরেকটি মামলা করে।
এজাহারে বলা হয়:
“এ সময় সরকার নির্ধারিত ফি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। এছাড়া পাসপোর্ট, কোভিড-১৯ টেস্ট, মেডিকেল ও পোশাক বাবদ অতিরিক্ত ৩৬৫০০ টাকা আদায় করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
-
সামনে কঠিন সময় আসছে, তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে: মির্জা ফখরুল
-
ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপজেলা-পৌরসভা নির্বাচন কবে?
-
সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে তারেক রহমানের ফোন, কী কথা হলো
-
এক বছর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার
-
দেড় বছর পর বাসায় ফিরতেই আওয়ামী লীগ নেতা হাসু গ্রেপ্তার