নিজেকে ‘হাফ সিলেটি’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এ কথা জানান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে এই আলোচনা সভা করা হয়।
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার আগে এটিই ছিল লন্ডনে তারেক রহমানের শেষ বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলে অনুষ্ঠানটি কার্যত তার বিদায় সভায় পরিণত হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “এখানে আপনারা অনেকেই আছেন—শুধু সিলেট নয়, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। যদিও অধিকাংশই সিলেটের। তবে সিলেটের বাইরেও মানুষ আছেন। সিলেট হোক আর সিলেটের বাইরে হোক—ভাই, আমিও হাফ সিলেটি। কাজেই বলে লাভ নাই।”
তার এ বক্তব্যে পুরো হলজুড়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। এ সময় তারেক রহমানকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখা যায়।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সিলেটের সন্তান। তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ছোট মেয়ে। মাহবুব আলী খানের বাড়ি সিলেটের বিরাহীমপুরে।
বিদায়ী বক্তব্যে তারেক রহমান প্রবাসী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কী ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন?” জবাবে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
তারেক রহমান বলেন, “ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলেই আমরা আমাদের দেশ গড়ার পরিকল্পনা সফল করতে পারব। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।”
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার প্রাক্কালে লন্ডনের এই বিজয় দিবসের সভা প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে আবেগঘন ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে আজকে এই অনুষ্ঠানটি, প্রথমত দুটো বিষয়। এক. ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয় দিবস। এবং একই সাথে আপনাদের সাথে বহুদিন ছিলাম। ১৭, প্রায় ১৮ বছর আপনাদের সাথে ছিলাম। বাট, আগামী ২৫ তারিখে ইনশা আল্লাহ আমি দেশে চলে যাচ্ছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মিলনায়তনে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা হর্ষধ্বনি দেন। এ সময় তারেক রহমান যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর বিদায়ের দিন যেন কেউ বিমানবন্দরে উপস্থিত না হন। নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরে ভিড় করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের সব মানুষের সম্মিলিত অর্জন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো একটি দলের নয়। এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল। মানুষ ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই ফ্যাসিবাদের পতন সম্ভব হয়েছে। আন্দোলনের সফলতা একটি অধ্যায়, কিন্তু সেই বিজয় ধরে রাখা আরও কঠিন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। এক বছর আগে তিনি যা বলেছিলেন, আজ বাস্তবতা সেটিরই প্রতিফলন। ১৯৭১ সালে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর, ১৯৮১ সাল, ১৯৯৬ সাল এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তারাই আজও সক্রিয়। সুতরাং, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব হলো, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দলটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে চায়। শিক্ষা খাতে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্যভিত্তিক মডেল ও জনগণের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় মাসের মধ্যেই জনগণ এর সুফল দেখতে পাবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভবিষ্যতেও তাঁদের এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি সিলেটের প্রবাসী বিএনপি নেতা কমর উদ্দিন ও তার পরিবারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যের আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর ছিলেন সঞ্চালনায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
-
র্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো
-
বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী
-
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত
-
বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে
-
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী