ঢাকা ২২ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ২২ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
ধানের শীষের প্রচারণায় আ’লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী র‍্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক: : তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকরা : যুক্তরাজ্য-চীন ১০ চুক্তি ভোটের আগেই ৪ জনের প্রাণহানি, সারাদেশে ১৪৪ সহিংসতা গণভোট নিয়ে যত প্রশ্ন বিমানে ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা রাজধানীতে প্রবাসীর শিশু সন্তান নিয়ে উধাও রিকশাচালক 'মহিলা সমাবেশ' স্থগিত করল জামায়াত, কারণ কী? 'নবীগঞ্জের ইতিকথা'র মোড়ক উন্মোচন বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’ : আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির প্রবাসীদের দাবিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাঁচাতে বিএনপির উদ্যোগ ৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন  কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন

অধ্যাপক কলিমুল্লাহর পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী, নির্দোষ দাবি করে নিজেই দিলেন বক্তব্য

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১০:১৫ পিএম

অধ্যাপক কলিমুল্লাহর পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী, নির্দোষ দাবি করে নিজেই দিলেন বক্তব্য

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আজ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাঁকে রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। বেলা দুইটার দিকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে তাঁকে আদালতের এজলাস কক্ষে নেওয়া হয়।

তখন আদালতে অন্য মামলার শুনানি চলছিল। একটি বেঞ্চে চুপচাপ বসেছিলেন অধ্যাপক কলিমুল্লাহ। প্রায় ৫০ মিনিট সেখানেই তিনি অপেক্ষা করেন।

বেলা ২টা ৫২ মিনিটে তাঁর মামলার শুনানি শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির ঘটনায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কলিমুল্লাহ জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ–বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান করছে।”

দুদকের পিপি আদালতে আরও বলেন, “অধ্যাপক কলিমুল্লাহ নজিরবিহীন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। হলের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছিল। ঠিকাদারকে আইনবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঋণ দেওয়া হয়। তিনি ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করতেন, রংপুর ক্যাম্পাসে অফিস করতেন না। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সরকারি ক্রয়চুক্তি মানেননি।”

এ সময় মাথা নিচু করে শুনছিলেন অধ্যাপক কলিমুল্লাহ।

আত্মপক্ষ সমর্থন

আদালতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। দুদকের বক্তব্য শেষ হলে তিনি নিজেই বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। তিনি বলেন, “দুদকের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার সূত্রপাত করেছিলেন আগের উপাচার্য। আমি কেবল সেটি অব্যাহত রেখেছি, আমার করার কিছু ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল। আমি সেই সময়কার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। শিক্ষাব্যবস্থায় তখন অরাজকতা ছিল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার পর আমিও প্রতিবাদ করেছিলাম।”

অধ্যাপক কলিমুল্লাহ আদালতের উদ্দেশে অভিযোগ করেন, “আগের উপাচার্যের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক নিয়োগ–বাণিজ্য হয়েছিল। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য। আমি দায়িত্ব পালনের সময় আমার বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই, ছাত্রজীবনেও রাজনীতি করিনি।”

তাঁর বক্তব্যের সময় আদালত মন্তব্য করে বলেন, “আপনি দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। আপনার উচিত ছিল দায়িত্ব থেকে সরে আসা। আমি শিক্ষকদের সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি।”

আদালতের সিদ্ধান্ত

প্রায় ৩৫ মিনিট উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অধ্যাপক কলিমুল্লাহকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। সিদ্ধান্ত শুনে বিমর্ষ হয়ে পড়েন তিনি। তবুও নিজের পক্ষে কথা বলতে থাকেন। আদালত দুদককে সতর্কতার সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার পর তাঁকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১০ মিনিট পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এ সময় তিনি বলেন, “আমি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। দুদক যেন নখ-দন্তবিহীন ব্যাঘ্র হিসেবে কাজ না করে।”

বিকেল পৌনে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানটি তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁকে ভ্যানে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়।

গ্রেপ্তার ও মামলার প্রেক্ষাপট

৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গত জুন মাসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা করে অধ্যাপক কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। মামলায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।