রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কসবা-খাসা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত  » «   যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীদের ভিসা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বৃত্তি বাড়ানোর আহ্বান  » «   আজিজুর রহমান চৌধুরি স্মারক সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশের স্থপতি ও লেখক, নাট্যকার শাকুর মজিদ  » «   কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


মননশীল চর্চার রুদ্ধদ্বার-ই অপরাধ প্রবণতার খোরাক



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আজকাল রাস্তায় বেরুতে গেলেই ভয় হয়। মনে হয় না আমরা খুব একটা নিরাপদ ভূখন্ডে বসবাস করছি। নাইফ ক্রাইম যে রকম বেড়েছে, চতুর্দিকে চোখ কান খাড়া রেখে চলতে হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই মনে হয় বাড়ী ফিরতে হবে। কোন কিশোরদের একটা দল দেখলেই যেমন এক সময় নিজের কৈশোরকে মনে হতো, ক্ষণিক দাঁড়িয়ে থেকে তাদের কিশোরচিত উৎফুল্লতা দেখতে ভাল লাগতো এখন আর তা দেখা যায় না। তাদের মধ্যে এখন কেমন যেন একটা লড়াকু ভাব সর্বক্ষণ বিরাজমান। ভয় পেতে হয়।

কিশোরদের কিশোরচিত চঞ্চলতা লালনের জন্য যে পরিবেশ দরকার, তা কেড়ে নিয়েছে আমাদের নকল দরীদ্রতা। বলা হয় অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নেই, খরছ কমাতে হবে। কোথায় কমাতে হবে? বেছে বেছে দরিদ্র এলাকাগুলোতে বরাদ্ধ এমন কমানো হয়েছে যে, ইংল্যান্ড এর স্থানীয় সরকারগুলো তাদের স্বল্প বাজেট দিয়ে কোনভাবেই অতি প্রয়োজনীয় সেবাগুলোকেই টিকিয়ে রাখতে পারছে না।

২০১২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৫০টি ইউথ সেন্টার যেখানে প্রায় ৪১,০০০ যুব- কিশোরেরা স্কুলের পর বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকতো, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের বাজেটে ইউথ সার্ভিসের খরছ থেকে ২৫৯ মিলিয়ন কেটে ফেলে একটা ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়েছে যা কোন ঔষধেই নিবারণের নয়। এসব কাটের কারণ, তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ নেই। দেশ এখন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক কালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চুরি সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে ৫০%। কেবল লন্ডনে মারাত্নক ছুরিকাঘাতে অতি সাম্প্রতিক হতাহতের সংখ্যা ৪৪। সাধারণ অপরাধ প্রবণতা বা অপরাধের সংখ্যা হ্রাস হলেও মারাত্নক অপরাধের বা হাই হারম ইন্সিডেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২২%। ২০১৮ সালের প্রথম ১০০ দিনে পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ি মারাতœক অপরাধের সংখ্যা ৫০ যা নিউইয়র্কের পরিসংখ্যানকেও হার মানায়।

কেন্দ্রীয় বাজেট কর্তনের কারণে স্থানীয় সরকারগুলো বর্তমানে বাজেট ঘাটতি পুষিয়ে অতীব প্রয়োজনীয় সার্ভিসগুলোকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তাদের জমানো অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১১% স্থানীয় সরকারের রিজার্ভ শেষ হয়ে যাবে। স্থানীয় সরকারগুলো ইতোমধ্যে তাদের অতি প্রয়োজনীয় সেবা যেমন, ১৫০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত বয়োজ্যাষ্টদের সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

সমাজ পন্ডিতদের মতে নেশা জাতিয় দ্রব্যাদির বা প্রচলিত ভাষায় ড্রাগ ব্যবসা এবং সোশ্যাল মিডিয়াই কিশোর অপরাধের  মূল কারণ। ড্রাগ ব্যবসায়ীরা নাকি তাদের ব্যবসার কর্মচারী হিসাবে ব্যবহার করছে কিশোরদেরকে কারণ মালামাল পাচারে এরা নাকি মোটামুটি নিরাপদ এবং কম খরচে এদেরকে দিয়ে বাহকের কাজ করানো যায়। অপেক্ষাকৃত গরীব এলাকাগুলোতে বা অর্থনৈতিক দিয়ে পিছিয়েপড়া কমিউনটিগুলো এসব কর্মকান্ডে বেশী সংশ্লীষ্ট। পরিসংখ্যানে (২০০১ সালের) দেখো যায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২% হলো ব্লাক মাইনোরিটি এথনিক (বিএমই)। এবং মোট ক্রাইমের ৫৪% এর ক্রাইম করে থাকে পুরুষেরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মোট অপরাধীদের ৪৬% হলো বিএমই কমিউনিটির মানুষেরা। বেকারত্ব এবং আবাসিক সমস্যাই এর মূল কারণ।

আবার কেউ কেউ মনে করেন সোস্যাল মিডিয়াতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরদের মধ্যে অনেক সময় গ্রুপিং সমস্যা দেখা দেয় তখন গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত রেপুটেশন রক্ষার জন্য না বুঝে এরা জীবনের ঝুকি নিতে দ্বিধাবোধ করে না। মূলত: এসব কারণ তো অবশ্যই আছে কিন্তু আসল কারণ হলো গঠনমূলক কর্মকান্ডে তাদের ইতিবাচক সক্রিয় অংশগ্রহণ। কোথায় ? জবাব একটাই তা হলো ইয়ূথ ক্লাব। স্থানীয় সরকারগুলোকে যথাযোগ্য ফান্ডিং-এর মাধ্যমে যদি পুনরায় চাঙ্গা করা হয় তাহলে নাইফ ক্রাইম সহ অন্যান্য অনেক অপরাধ কমে যাবে। ইতিবাচক সংশ্লিষ্টতা বা পজিটিভ এনগেজমেন্ট কিশোর যুবাদেরকে অনেক অসামাজিক বা মারাত্নক ক্ষতিকর অপরাধ থেকে সরিয়ে রাখে বা রাখতে পারে তা পরীক্ষিত সত্য। জনগণের ট্যাক্স জনহিতকর কাজে ব্যয় হওয়ারই তো কথা।

তহবিলে অর্থ যদি না-ই থাকে, তাহলে ট্রাম্পের ডাকে বা সৌজন্যবোধের খাতিরে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোর খরচের উৎস কি? সিরিয়াতে বোমা মারার অর্থ আসে কোথা থেকে ? এসব অর্থ বানানো হয় না। জনগণের ট্যাক্সের অর্থই ব্যয় করা হয় মানুষ নিধনের কাজে। গত কয়েকদিন আগে আমাদের রাজপুত্রের বিয়ের হলো, সারা বিশ্বের মানুষ তা উপভোগ করলেন। সেই বিয়েতে বাজেট ছিল মাত্র ৩২ মিলিয়ন। আন্তর্জাতিক মাঠে মর্যাদা রক্ষা করতে এবং দেশে রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অবশ্যই এসব অপরিহার্য। তেমনি দেশের অভ্যন্তরে শান্তি শৃংংখলা রক্ষা করা এবং আমাদের প্রজন্মকে নাইফ ক্রাইম এবং অন্যান্য অপরাধ থেকে সরিয়ে রাখাও অত্যাবশ্যক।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হচ্ছে গ্রীষ্মের ছুটি। স্কুল কলেজ কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তখন এই ছাত্র-ছাত্রীগুলো যাবে কোথায় ? ২০১১ সালের অগাষ্ট মাসে লন্ডনে ঘটে যাওয়া দাঙ্গার ভয়াবহ স্মৃতি আমরা এখনও ভুলতে পারিনি। ইতিবাচক যে কোন কর্মকান্ডে এদের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন। আমাদের বাংলাদেশীদের কথাই ধরুন। এরা অভিবাবকদের সাথে বাংলাদেশে আত্নীয় স্বজনদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ছোটবেলায় খুবই আগ্রহী থাকে কিন্তু একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের তেমন আগ্রহ থাকে না। তারা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও যেতে চায়। কিন্তু পারিবারিক টান আর মাঠির টান যা-ই বলুন না কেন, সুযোগ পেলেই আমরা দেশে যেতে আগ্রহী বেশী। অনেক সময় এদেরকে রেখেই আমরা চলে যাই। ফলে আমাদের অনুপস্থিতিতে একাকীত্ব তাদেরকে আরও ভঙ্গুর করে ফেলে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনার টুকরো কিশোর কিশোরীরা হয়ে যায় ভয়ানক। পাসপোর্ট চুরি করে দেশের বাইরে গিয়ে হয়ে যায় আইসিস নতুবা হয়ে যায় ড্রাগ এডিক্ট।

অনেকগুলো কারণের যোগফল এইসব সমস্যার জন্য দায়ী হলেও ইতিবাচক  কর্মকান্ডে এদের সংশ্লিষ্টতা না থাকাটাই উল্লেখযোগ্য কারণ। আমাদের ইউথ ক্লাবগুলোর প্রয়োজনীয়তা এখানে খুবই জরুরী। অপর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা যেগুলোতে স্থান সংকুলান হচ্ছে না, সেখানে বাচ্চাদেরকে জোর করে আটকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। স্কুলের পর এদের  হাতে প্রচুর সময় থেকে যায় এবং যা খুশী করার একটা প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। পরিবারে অভাব অনটনের অভিজ্ঞতা এবং আবাসিক সমস্যা তো আছেই। এমতাবস্থায় কেউ যদি কম মেহনতের একটা রোজগারের পথ দেখায় তাহলে এই ভঙ্গুর কিশোরেরা তাকে সুস্বাগতম জানাবেই না কেন? পথ হোক যত কন্টকাকীর্ণ, হোক যতো ভয়ানক, রিস্ক তারা নেবেই। অন্যদিকে আরেকদল এই ভঙ্গুর কিশোরদের ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে কম মেহনতে বেহেস্তে পাঠাবার হাতছানি দিতে থাকে পর্দার অন্তরাল থেকে।

দৈহিক উন্নতীর পাশাপাশি মানষিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মননশীলতার চর্চা যে খুবই প্রয়োজনীয় তা আজ আবার নতুন করে উপলব্দি করার বিষয়। কারণ এই জানা চিরন্তন সত্যটি আমরা ভুলতে বসেছি। আমাদের জীবন জীবিকার নৈমিত্তিক আচরণ ছকের মধ্যে এমনভাবে বাঁধা পড়ে আছে যে আমরা আমাদের চারপাশে কি ঘটে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কোন খেয়ালই করি না। আমাদের নীতি নির্ধারকেরাও এসব বিষয়ে একেবারেই নির্লিপ্ত। যে কারণেই অসামাজিক বিষয়াদি এবং সামাজিক ব্যধি আজ কিশোরদেরকে আকর্ষণ করছে বেশী। লন্ডন শহরে নিশ্চিন্তে শ্বাস ফেলার মতো নিরাপদ এক চিলতে জায়গা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। ছোট ছোট পার্কগুলোতে সময়ে অসময়ে কিশোর কিশোরীদের আড্ডা লেগেই আছে, যা জীবনের মান রক্ষার জন্য অস্বাস্থ্যকর। এগুলো থেকে বাঁচতে হলে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে মননশীল চর্চার দ্বার উন্মূক্ত করা খুবই প্রয়োজন।।

২৫শে মে ২০১৮ খৃষ্টাব্দ।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক

,প্রভাষক, আইকন কলেজ অব ট্যাকনোলজী এন্ড ম্যানেজমেন্ট

লেখকের অন্যান্য পোষ্ট