কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, পুরো ঘটনাটি একটি ‘ষড়যন্ত্র’।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে, উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায়। দুপুরে তাঁকে আটক করে মুরাদনগর থানায় আনা হয়।
আটক হাবিবুর রহমান হেলালী ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তাঁর বাড়িও ওই ইউনিয়নে। পাশাপাশি তিনি ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে এক হাজার টাকার দুটি বান্ডিলে মোট দুই লাখ টাকাসহ তাঁকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়।
আটকের পর অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান হেলালী বলেন, তাঁর কাছে এত টাকা ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের খাবারের খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা সঙ্গে ছিল। বিএনপির লোকজন তাঁকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়িতে অতিরিক্ত টাকা রেখে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একই বক্তব্য দেন মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস। বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতের নিজস্ব দায়িত্বশীল না থাকায় ধামঘর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান হেলালীকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আজ সকালে তিনি নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে যাচ্ছিলেন। সে সময় স্থানীয় লোকজনের নামে মূলত বিএনপির কর্মীরাই তাঁকে আটক করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি বাজারের ব্যাগে দুই লাখ টাকা ভরে তা হাবিবুর রহমান হেলালীর গাড়ির পেছনের মালামাল রাখার জায়গায় রেখে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে বিএনপি নেতারা জামায়াতের এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত কুমিল্লা-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই টাকা বিতরণ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। তাঁর ভাষায়, আজ সকালে স্থানীয়রা টাকা বিতরণের সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত।
বুধবার বেলা তিনটার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি টাকা বিতরণের সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরতে পারেননি, তাই বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এসে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে এবারের নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, যিনি আসনটির পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য। অন্যদিকে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ সোহেল।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছিল।
🔍 গুগল সার্চের ইউজার-ফ্রেন্ডলি কী–ওয়ার্ড
মুরাদনগরে টাকা বিতরণ অভিযোগ, জামায়াত নেতা আটক কুমিল্লা, vote buying allegation Bangladesh, Muradnagar election incident, কুমিল্লা-৩ আসন নির্বাচন, জামায়াত বিএনপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণ করে ভোট কেনা?, election violence Bangladesh 2026, জামায়াত নেতা দুই লাখ টাকা, Nilphamari airport Jamaat leader cash seizure