ঢাকা ২০ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ২০ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ঈদুল ফিতরের ছুটি সাত দিন হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ : রাজনৈতিক বন্দি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে সরব এমপি ও লর্ডরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দায়িত্বে মুসলিম নারী ‘ক্যাপ্টেন এল্লা’ ইরানে চারদিনে ৫ হাজারেরও বেশি বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, কত মানুষের প্রাণ গেল? বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী, ভূমি অফিস তখনো খোলেনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: কার বিরুদ্ধে লড়ছে কে? ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে এখনও স্পষ্ট নয় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন মার্কিনিদের মধ্যপ্রাচ্য এখনই ছাড়ার নির্দেশ সৌদির মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি হুঁশিয়ারি নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে গেছেন ইউনূস, এক বছর পাবেন এসএসএফ নিরাপত্তা ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প মার্কিনীদের সমর্থন হারাচ্ছেন? বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের খবর নিশ্চিত করল কুয়েত ইরানের হামলায় এবার বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের মাতম : উল্লাস করছে কারা? ইরানের হামলার পরিণতি: আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত খামেনির অবস্থান কীভাবে চিহ্নিত হয়, হত্যা করল কীভাবে? চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক, জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্টের ইরানের পাল্টা হামলার মুখে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ডান্ডাবেড়ি পায়ে বাবাকে শেষবারের মতো দেখলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ধানমন্ডিতে মহিলা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান সেবা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতায় ইস্ট লন্ডন মসজিদের পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা লন্ডনে সিভিক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত সাংবাদিক তাইসির মাহমুদ নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়া কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যা

মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৪ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই

মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকার বীরউত্তম আর নেই; তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর।

সাবেক এই এয়ার ভাইস মার্শাল বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা গেছেন বলে আইএসপিআরের এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে পরিকল্পনামন্ত্রী হন।

এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ২০১১ সালে এ কে খন্দকারকে স্বাধীনতা পদক দেয় সরকার।

২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এ কে খন্দকারের ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল তথ্য থাকায় তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। সে সময় সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়েন এ কে খন্দকার।

প্রকাশের চার বছর পর ২০১৯ সালে তিনি বইটির একটি অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নেন এবং ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য জাতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার কাছে ক্ষমা চান।

এ কে খন্দকারের পৈত্রিক বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে হলেও তার জন্মস্থান রংপুরে। বাবার এ কর্মস্থলে ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি তার জন্ম। বাবা খন্দকার আব্দুল লতিফের চাকরির সুবাদে তার পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় নওগাঁ মিউনিসিপ্যাল স্কুলে।

এরপর ১৯৪৭ সালে মালদহ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাস করেন। ঢাকা আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান বুয়েট) অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন, কমিশন পান ১৯৫২ সালে।

১৯৫১ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত বিমান বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদায় পশ্চিম পাকিস্তানে কাটে একে খন্দকারের। ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ঢাকা ঘাঁটিতে উইং কমান্ডার হিসেবে বদলি হয়ে আসেন। সেই সময়ের উত্তাল দিন খুব কাছ থেকে দেখেন।

এরপর একাত্তরের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হয়। ২৮ মার্চ এ কে খন্দকার ২ সপ্তাহের জন্য ছুটির আবেদন করেন এবং তা মঞ্জুর হয়।

তারপর তিনদফার চেষ্টায় ১৫ মে তিনি পরিবার ও বিমান বাহিনীর কয়েকজন বাঙালি কর্মকর্তাকে নিয়ে ভারতের আগরতলায় পৌঁছান। এরপর কলকতায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ এবং কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে।

এরপর ভারতের নাগাল্যান্ডে ২ মাস প্রশিক্ষণ শেষে ভারতের দেওয়া ৩টি বেসামরিক বিমান ও কয়েকজন বাঙালি বৈমানিক নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৈমানিকরা শত্রুর বিরুদ্ধে বেশ কিছু সফল আক্রমণ পরিচালনা করেন।

স্বাধীনতার পর এ কে খন্দকার প্রধান হিসেবে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পরে তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাব দেওয়া হয়।