ঢাকা ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের উপসাগরীয় বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ বলেছেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণালিটি খোলা রাখা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোন বক্তব্যগুলো মিথ্যা, তা উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সামাজিকমাধ্যমে নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। জাহাজ চলাচল হবে ইরানের নির্ধারিত রুট ও অনুমতির ভিত্তিতে।

শনিবার আবারও তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না,”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সাময়িক বিঘ্ন কাটিয়ে প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, জাহাজগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত পথেই চলতে হবে—যা প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।

ইসরায়েল, ইরান এবং লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর প্রণালিটি পুনরায় চালুর ঘোষণা আসে। যদিও সামুদ্রিক তথ্য বলছে, জাহাজ চলাচল এখনও ইরানের অনুমোদিত করিডোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

অন্যদিকে, ইরান প্রণালিটি খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকবে। এতে তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আভাস মিলেছে।

তেহরান ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ইরান “প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা” নিতে বাধ্য হবে। একইসঙ্গে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন।

ইরানের অবস্থান হলো—হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ইরানের নির্ধারিত পথ মেনে করতে হবে; বন্দর অবরোধ চললে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে; প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান দায়িত্বশীল থাকবে, তবে প্রয়োজন হলে নমনীয়তাও দেখাবে।