বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনে বেড়ে গেছে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা। অভিবাসন প্রত্যাশীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য নানা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিবিসি। তারা পেয়েছে অভিনব প্রতারণার চিত্র। প্রতিবেদন করেছেন বিলি কেনবার, রাজনীতি বিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদক; ফিল কেম্প, রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদক এবং সাজিদ ইকবাল, প্রতিবেদক। দুই পর্বের অনুসন্ধান এখানে তুলে ধরা হলো।
বিবিসির অনুসন্ধান: ২য় পর্ব
নাস্তিকতার ভান, অসুস্থতার অভিনয়, সাজানো প্রতিবাদ;
ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদনের প্রতারণা চক্রে আছে বাংলাদেশিও
ভুয়া নিউজ ওয়েবসাইট তৈরি, রাজপথে সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং শারীরিক অসুস্থতার ভান- যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনকারী এবং তাদের আইনি পরামর্শকরা এমন নানা প্রতারণার কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ 'প্রতারণা শিল্পে' পরিণত হয়েছে। যেখানে অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শেখানো হচ্ছে কীভাবে সমকামী সেজে আশ্রয়ের আবেদন করা যায়।
এই চক্রের জালিয়াতির তালিকায় আরও রয়েছে- টাকার বিনিময়ে নাস্তিকদের ম্যাগাজিনে নিবন্ধ লেখানো এবং অর্থের বিনিময়ে কাউকে সমকামী সঙ্গী হিসেবে অভিনয় করতে ভাড়া করা; যা অভিবাসন জালিয়াতি নিয়ে বিবিসি নিউজের গোপন অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে ফাঁস হয়েছিল।
সম্প্রতি লন্ডনের ব্যস্ততম মাইল অ্যান্ড রোডের একটি অফিসে ছদ্মবেশে বিবিসির একজন সাংবাদিকের চালানো অনুসন্ধানে এই চক্রের কার্যক্রম হাতেনাতে ধরা পড়ে।
এপ্রিলের শুরুর দিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই সাংবাদিক এ ধরনের একটি নির্দেশনামূলক কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি নিজেকে একজন বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, যিনি মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে এখন দেশটিতে থাকার বৈধ পথ হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন।
সেখানে জাহিদ হাসান আখন্দ নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দেন, ওই সাংবাদিককে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল বুঝিয়ে দেন।
তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কীভাবে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ব্রিটিশ সরকারকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ সুগম করা সম্ভব।
আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জালিয়াতির তিনটি প্রধান পথ বাতলে দিয়েছেন অভিযুক্ত আইনি পরামর্শক জাহিদ হাসান আখন্দ।
তার মতে, ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার জন্য একজন আবেদনকারী নিজেকে যৌন সমকামিতা, ধর্মীয় বিশ্বাস (নাস্তিকতা) অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।
মি. আখন্দ জানান যে, আইনি দিকগুলো তিনি নিজেই সামলাবেন। তবে আবেদনকারীকেই বেছে নিতে হবে যে তিনি সমকামী, নাস্তিক নাকি রাজনৈতিক- কোন ছদ্মবেশটি ধারণ করতে চান।
এই জালিয়াতির আইনি সহায়তার জন্য দেড় হাজার পাউন্ড ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফির বিনিময়ে আবেদনপত্র তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং বারবার মক ইন্টারভিউ নেওয়ার কাজ করবেন মি. আখন্দ।
কিন্তু যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে বিশ্বাস করানোর জন্য কেবল আবেদনই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন আরও শক্ত প্রমাণ।
ছদ্মবেশী এই সাংবাদিককে মি. আখন্দ জানান, যদি নিজে নিজে প্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি এমন কিছু ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন যারা টাকার বিনিময়ে এসব নথিপত্র তৈরি করে দেয়। যার জন্য আরও দুই হাজার থেকে তিন হাজার পাউন্ড খরচ হবে।
এছাড়া আবেদনকারী যদি নাস্তিক হিসেবে আশ্রয় চান, তবে কৌশল হিসেবে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের নবীকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মি. আখন্দের ভাষায়, "ধর্মীয় আলেমরা যখন আপনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে মন্তব্য করা শুরু করবে, তখনই আপনার (নির্যাতনের) প্রমাণ তৈরি হয়ে যাবে।"
প্রমাণ আরও জোরালো করতে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের কিছু নাস্তিক সংগঠনের ব্লগে অর্থের বিনিময়ে লেখালেখি করার পরামর্শ দেন মি. আখন্দ। এক্ষেত্রে নিবন্ধ লেখার জন্য 'চ্যাটজিপিটি'র মতো এআই টুল ব্যবহারের বুদ্ধিও দেন তিনি।
এছাড়া বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে, মুসলিম ধর্ম ইতোমধ্যে ত্যাগ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "এখন আর শুধু পোস্টের যুগ নেই, এখন লাইভ ভিডিওর যুগ।"
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে বলার জন্য একটি সাজানো গল্পও ছদ্মবেশী এই সাংবাদিককে শিখিয়ে দেন আইনি পরামর্শক।
আবেদনকারীকে বলতে বলা হয় যে, তিনি বাংলাদেশে নাস্তিক ছিলেন না, বরং ব্রিটেনে আসার পরই তার চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটেছে।
জাহিদ হাসান আখন্দ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "কে নাস্তিক আর কে নয়, তা জানার কোনো উপায় নেই। আপনি আমাকে বলেছেন আপনি নাস্তিক নন, তার মানে আপনি নাস্তিক নন। কিন্তু এটি যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই।"
ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের চেয়ে সমকামী সাজা অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর বলে দাবি করেন অভিযুক্ত আইনি পরামর্শক জাহিদ হাসান আখন্দ।
তার মতে, রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় চাইলে নিজ দেশে মামলার প্রমাণ দিতে হয় যা বেশ কঠিন, কিন্তু সমকামিতার বিষয়টি ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে সফল হওয়ার হার অনেক বেশি।
ভুয়া সমকামী দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীকে বিভিন্ন গে-ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেসব ক্লাবের সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়া হয়।
মি. আখন্দ জানান, জালিয়াতির অংশ হিসেবে আবেদনকারীকে একজন 'পার্টনার' বা সঙ্গীও জোগাড় করে দেওয়া হয়। ওই ভাড়াটে সঙ্গী হোম অফিসকে লিখিতভাবে জানাবে যে, তারা একে অপরের জীবনসঙ্গী।
তার দাবি, এসব ক্লাবে যারা যায় তাদের অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন, তাই ধরা পড়ার ভয় নেই।
আবেদনকারী আসলে সমকামী বা নাস্তিক ছিলেন না এমন কোনো কেসে সফল হয়েছেন কি না, ছদ্মবেশী সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে মি. আখন্দ বলেন, "ওপরওয়ালার ইচ্ছায় সবাই সফল হচ্ছে। আপনি যদি কথা শোনেন এবং ঠিকঠাক প্রমাণ সাজাতে পারেন, তবে আপনিও সফল হবেন।"
"আগে আপনি সিদ্ধান্ত নেন যে নাস্তিক, নাকি সমকামী কোন পথে আপনি এটি করতে চান, এরপর আমি আপনার পূর্ণ কর্মপরিকল্পনা সাজাবো," বলেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহিদ হাসান আখন্দ ২০২২ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করলেও তার প্র্যাকটিস করার বা আইন পেশা চর্চার কোনো লাইসেন্স নেই।
ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া আইনি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে 'ব্যারিস্টার' পরিচয় দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।
জাহিদ হাসান আখন্দ যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে নিজেকে 'লেক্সটেল সলিসিটরস' নামের একটি ল' ফার্মের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
এমনকি ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তার নাম দেখা গিয়েছিল, যা বর্তমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লেক্সটেল বলছে, মি. আখন্দ বর্তমানে তাদের কর্মচারী নন। প্রায় দুই বছর আগেই তিনি ওই ফার্মে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছেন।
চাকরি ছাড়ার সময় কোনো 'আনুষ্ঠানিক নোটিশ' না দেওয়ায় তাদের ওয়েবসাইটে এতদিন মি. আখন্দের নাম থেকে গিয়েছিল।
এছাড়া তাদের অফিসে এ ধরনের কোনো বৈঠক হওয়ার রেকর্ড নেই বলেও তারা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, আখন্দ ওই একই ভবনের অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অসততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান আখন্দ। তিনি দাবি করেন, জেনেশুনে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো বেআইনি কাজ তিনি করেননি।
মি. আখন্দের ভাষ্যমতে, সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল নিছক একটি 'পরিচয় পর্ব' মাত্র। ওই সাংবাদিক তার কোনো ক্লায়েন্ট বা মক্কেল ছিলেন না এবং তিনি কোনো নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন পরামর্শ দেননি বলেই বিশ্বাস করেন।
নিজের পেশাদার পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, নিজেকে কখনোই 'প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার' হিসেবে দাবি করেননি। লেক্সটেল সলিসিটরসের সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্ক অনেক আগেই চুকে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভুয়া ওয়েবসাইট
ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভুয়া আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাহিদ আখন্দই একমাত্র ব্যক্তি নন; বিবিসি নিউজের অনুসন্ধানে আরও এক বাংলাদেশি আইনজীবীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ওই আইনজীবীর সহায়তায় অসংখ্য ভুয়া আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো সফলও হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই আবেদনগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে একইসঙ্গে 'নাস্তিক' এবং 'সমকামী বা উভকামী' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এমন কিছু অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইটের নিবন্ধ জমা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো দেখতে হুবহু আসল সংবাদপত্রের মতো।
কিন্তু ইন্টারনেট রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটটি ওই চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিই তৈরি করেছিলেন।
কিছু নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে, আবেদনকারীরা তাদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের আদালতে মামলার শিকার হয়েছেন। বাস্তবে এসব মামলার কোনো অস্তিত্ব নেই।
ব্রিটিশ হোম অফিসের কর্মকর্তারা চাইলেও এগুলো সহজে যাচাই করতে পারেন না, কারণ বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা এখনো মূলত কাগজ-কলম নির্ভর। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
অনেক আবেদনে দেখা গেছে, আবেদনকারী কোনো সমকামী সঙ্গীকে বিয়ে করেছেন এবং এর ফলে তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন- এমন সংবাদও ওই ভুয়া সাইটগুলোতে ছাপানো হয়।
মূলত 'হুমকি' বা 'নিপীড়ন'-এর প্রমাণ তৈরি করতেই এই সাইটগুলো বানানো হয়েছিল। পূর্ব লন্ডনের একটি ল' ফার্মের একজন কেস-ওয়ার্কার এই ওয়েবসাইটগুলো তৈরির নেপথ্যে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওয়েবসাইটগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে রয়টার্স বা বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম থেকে চুরি করা সংবাদ দিয়ে পূর্ণ করে রাখা হতো।
এমনকি একটি ওয়েবসাইটের 'প্রধান সম্পাদক' হিসেবে এমন একজনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যার লিংকডইন বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অস্তিত্বই নেই।
মূলত আশ্রয়ের আবেদনকারীদের নাম ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই 'ছায়া ওয়েবসাইট'গুলো পরিচালিত হতো।
সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদ
ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য কেবল ভুয়া নথিপত্রই নয়, বরং রাজপথে সাজানো প্রতিবাদ সভা এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার নাটক সাজানোর মতো গুরুতর তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
অনেক আবেদনকারী প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি ওয়েবসাইটের পোস্ট ব্যবহার করেছেন।
যে ওয়েবসাইটটি কেবল আবেদনের সময়কালেই সচল ছিল এবং পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের স্বপক্ষে এমন সব মিছিল বা প্রতিবাদের ছবি জমা দেওয়া হয়েছে, যা মূলত ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আসলে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী নন।
অনুসন্ধানে বেশ কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদেরকে তাদের নিয়োগকৃত উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছিলেন একজন জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) বা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে 'ডিপ্রেশন' বা বিষণ্ণতার ভান করতে।
উদ্দেশ্য হলো, এই মেডিকেল রিপোর্টকে আশ্রয়ের পক্ষে মানসিক বিষন্নতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা।
এমনকি একজন আবেদনকারী নিজেকে এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে প্রমাণের নাটকও সাজিয়েছিলেন।
হোম অফিসের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় কীভাবে আচরণ করতে হবে, তার জন্যও দেওয়া হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ।
একজন আইন উপদেষ্টা বিবিসি নিউজের ছদ্মবেশী প্রতিবেদককে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অন্য আবেদনকারীদের কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তার একটি নমুনা প্রশ্নপত্র তাকে দেওয়া হবে যাতে তিনি প্রস্তুতি নিতে পারেন।
রচডেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একজন আশ্রয়প্রার্থী ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছে স্বীকার করেন যে, তার আইনজীবী তাকে হোম অফিসের কর্মকর্তাদের সামনে চেহারার অভিব্যক্তি কেমন হবে, সেটিও শিখিয়ে দিয়েছেন।
ওই ব্যক্তি বলেন, "আমার আইনজীবী আমাকে ইন্টারভিউয়ের সময় কাঁদতে বলেছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম- আমি কাঁদতে পারব না, আমার পক্ষে এত বেশি অভিনয় করা সম্ভব নয়।"
বিবিসির অনুসন্ধান: ১ম পর্ব
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসীদের
সমকামী সেজে থাকার পরামর্শ আইনজীবীদের
সমকামী সেজে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হিসেবে আশ্রয় পেতে সহায়তা করার বিনিময়ে হাজার হাজার পাউন্ড নেওয়া হচ্ছে- আইন সংস্থা ও উপদেষ্টাদের এমন একটি বিশাল চক্রের তথ্য বেরিয়ে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানে।
একটি বড় গোপন অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে আমরা দেখিয়েছি, যেসব অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের বানানো কাহিনি দেওয়া হচ্ছে বলার জন্য এবং সাজানো প্রমাণ জোগাড়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে- এর মধ্যে রয়েছে সমর্থনপত্র, ছবি ও চিকিৎসা প্রতিবেদন।
এরপর তারা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে ফিরলে প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে- এই যুক্তিতে সমকামী হিসাবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে আশ্রয়ের আবেদন করছেন।
আমাদের অনুসন্ধানের জবাবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, "যারা এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে- যার মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের মতো পদক্ষেপ রয়েছে।"
যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থায় তাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়, যারা নিজ দেশে ফিরে গেলে ঝুঁকিতে পড়বেন-যেমন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে সমকামিতা অবৈধ।
তবে বিবিসি নিউজের তদন্তে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে থাকতে চাওয়া অভিবাসীদের কাছ থেকে ফি আদায় করে আইন উপদেষ্টারা পদ্ধতিগতভাবে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন।
এদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, কর্মজীবী বা পর্যটক ভিসায় যুক্তরাজ্যে ছিলেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারা ছোট নৌকায় বা অন্য অবৈধ পথে সদ্য আসা লোকজন নন। এখন এই গোষ্ঠীই সব আশ্রয় আবেদনের ৩৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে যার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।
প্রাথমিক প্রমাণ ও তথ্যের সূত্র পাওয়ার পর আমরা গোপনে প্রতিবেদক পাঠাই এটা জানতে যে, অভিবাসন উপদেষ্টারা কতটা আগ্রহী হয়ে ভুয়া আশ্রয় দাবি বানাতে সাহায্য করেন।
প্রতিবেদকরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেজে যান—যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
তদন্তে যা জানা গেছে:
- একটি আইন সংস্থা ভুয়া আশ্রয় আবেদন বানাতে সর্বোচ্চ সাত হাজার পাউন্ড দাবি করেছে। তারা বলেছে, এর ফলে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা "খুবই কম"।
- ভুয়া আশ্রয়প্রার্থীরা বিষণ্নতায় অসুস্থ থাকার ভান করে চিকিৎসকদের কাছে গিয়েছেন, যাতে মামলা জোরদার করতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এমনকি একজন নিজেকে এইচআইভি পজিটিভ বলেও মিথ্যা বলেছেন।
- এক ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা গর্ব করে বলেছেন, তিনি ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে ভুয়া দাবি তৈরি করতে সাহায্য করছেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, গ্রাহকের সঙ্গে সমকামী যৌন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন—এমন সাজানো কাউকে তিনি জোগাড় করেও দিতে পারেন।
- আমাদের আন্ডারকভার প্রতিবেদককে এমনও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার পর তিনি পাকিস্তান থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসতে পারবেন এবং পরে স্ত্রীকে লেসবিয়ান সাজিয়ে ভুয়া দাবি করা যাবে।
- আরেক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবী বলেন, তিনি সমকামী বা নাস্তিক সেজে সফলভাবে আশ্রয় পেতে মানুষকে সহায়তা করেছেন। তিনি ১৫০০ পাউন্ড ফিতে ভুয়া দাবি করতে সাহায্যের প্রস্তাব দেন এবং প্রমাণ বানাতে আরও দুই থেকে তিন হাজার পাউন্ড লাগবে বলে জানান।
'এখানে কেউই সমকামী নয়'
পূর্ব লন্ডনের বেকটনের এক শান্ত এলাকায় অবস্থিত একটি কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ জড়ো হন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাউথ ওয়েলস, বার্মিংহাম ও অক্সফোর্ডের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকেও এসেছেন, উরচেস্টার এলজিবিটি আয়োজিত একটি সভায় অংশ নিতে। সংগঠনটি নিজেদের সমকামী ও লেসবিয়ান আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি সহায়তাগোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেয়।
এই গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়, শুধুমাত্র প্রকৃত সমকামী আশ্রয়প্রার্থীরাই স্বাগত। কিন্তু বাইরে রাস্তায় আমাদের আন্ডারকভার প্রতিবেদকের কাছে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা পুরুষরা সহজেই স্বীকার করেন—বাস্তবতা ভিন্ন।
"এখানে বেশিরভাগই সমকামী নয়," বলেন ফাহার নামে একজন।
আরেকজন, যিনি নিজেকে জিশান বলেন, আরও স্পষ্ট: "এখানে কেউই সমকামী নয়। এক শতাংশও না। ০.০১ শতাংশও না।"
আমাদের প্রতিবেদকের এই সভায় যাওয়ার শুরুটা হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে—বার্মিংহাম ও লন্ডনভিত্তিক ইমিগ্রেশন আইন সংস্থা ল অ্যান্ড জাস্টিস সলিসিটরস-এর প্যারালিগ্যাল মাজেদুল হাসান শাকিলের কাছে যাওয়ার মাধ্যমে।
আইনি কাজের পাশাপাশি শাকিল উরচেস্টার এলজিবিটি এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। কিছুদিন আগে পর্যন্ত তিনি কমিউনিটি গোষ্ঠীর ওয়েবসাইটে নিজের আইনি সেবার প্রচার করতেন।
একটি সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে শাকিল বলেন, আশ্রয় চাইতে হলে নির্যাতনের আশঙ্কা থাকতে হবে এবং আমাদের প্রতিবেদকের সে ধরনের ভিত্তি আছে বলে মনে হয়নি।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, অপ্রত্যাশিতভাবে, নিজেকে তানিসা বলে পরিচয় দেওয়া একজন ফোন করেন।
এরপর তার সাথে উর্দুতে কথাবার্তা হয়। তিনি অনেক বেশি আগ্রহ দেখান—সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে কীভাবে আশ্রয়ের আবেদন করা যায়, তা ব্যাখ্যা করেন।
প্রতিবেদক যখন বলেন, তিনি সমকামী নন, তানিসা বলেন, "আমার কথা শোনো। এখানে কেউই আসল নয়। এখন এখানে বাঁচার একটাই পথ এবং সেটাই সবাই নিচ্ছে।"
কে তার নম্বর দিয়েছে-এ প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবি ও প্রথম নাম মিলিয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তিনি উরচেস্টার এলজিবিটি'র উপদেষ্টা তানিসা খান।
'একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ'
সেই সন্ধ্যায় তানিসার সঙ্গে প্রাথমিক পরামর্শের জন্য প্রতিবেদক যান পূর্ব লন্ডনের ফরেস্ট গেটে। প্রথম বৈঠকটি কোনো আইনি পরামর্শক সংস্থার দপ্তরে নয়, বরং অনুষ্ঠিত হয় তার নিজের বাড়ির শোবার ঘরে।
"এই মুহূর্তে ভিসা পাওয়ার একটাই পথ খোলা—আশ্রয় ভিসা… মানবাধিকারভিত্তিক, যাকে বলা হয় গে কেস বা একই লিঙ্গ," তিনি বলেন, "অন্য কোনো ভিসার আশা নেই"।
তিনি জানান, হোম অফিসের সাক্ষাৎকারের জন্য বানানো গল্প মুখস্থ করতে হবে; "পরীক্ষা দিতে তোমাকেই যেতে হবে… আমি সব প্রস্তুত করে দেব"।
৪৫ মিনিটের এই আলোচনায় বোঝা যায় যে ভুয়া আশ্রয় দাবির প্রতারণা কতটা জটিল হতে পারে, আর তাই তা শনাক্ত করা কর্মকর্তাদের জন্য কতটা কঠিন।
হোম অফিস প্রথমে স্ক্রিনিং সাক্ষাৎকার নেয়, এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে "মূল সাক্ষাৎকার"—যেখানে দাবির খুঁটিনাটি প্রশ্ন করা হয়। প্রত্যাখ্যান হলে আদালতে আপিল করা যায়।
"কেউ সমকামী কি না, তা যাচাইয়ের কোনো পরীক্ষা নেই," বলেন তানিসা। "মূল বিষয় হলো—তুমি কী বলছো। বলতে হবে, 'আমি সমকামী, এটাই আমার বাস্তবতা'।"
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ছবি, ক্লাবের টিকিট, সমর্থনপত্র-সব মিলিয়ে একটি "পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ" তৈরি হবে।
তানিসা দাবি করেন যে তিনি ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া অভিযোগ আনতে সাহায্য করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এলজিবিটি অনুষ্ঠানে আমাদের প্রতিবেদকের তোলা ছবি এবং সেগুলোর জন্য তার কেনা টিকিটগুলো তার আবেদনের অংশ হিসেবে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, "আমি আপনাকে একজনের কাছ থেকে একটি চিঠি দেব, যার সাথে আমরা কয়েকটি ছবি তুলব এবং সেই ব্যক্তি লিখবে যে সে আপনার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে।"
তানিশার এই সেবার দাম আড়াই হাজার পাউন্ড। আর আবেদন নাকচ হলে আপিলে গেলে খরচ আরও বাড়বে। সফল হলে কাজ, বসবাস, ভাতা সবই মিলবে, তিনি বলেন।
প্রতিবেদক স্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন করলে তানিসা বলেন, "ওকে এখানে আনলে, ওরও আশ্রয় করব… ওকে লেসবিয়ান বানাব"।
প্রমাণ জোগাড়
তানিসা কোনো নিবন্ধিত ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা নন। ফলে তার এমন পরামর্শ দেওয়া বেআইনি।
সকালে যে আইনজীবীর কাছে আমরা টেলিফোন করেছিলেন, তার সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি যে গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন, তাতে বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি তার সাথে কাজ করেন।
''আইনজীবীরা আপনাকে পথ দেখিয়ে দেবে। কিন্তু আসল ফিল্ডওয়ার্ক তারা করেন না,'' বানোয়াট নথিপত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন।
''ফিল্ডওয়ার্ক আমাদেরই করতে হয়,'' তিনি বলেন।
পরে ল অ্যান্ড জাস্টিস এর ইলফোর্ড অফিসে হওয়া বৈঠকগুলোতে শাকিলের সঙ্গে তার যোগসূত্র স্পষ্ট হয়। ওই আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানেই শাকিল কাজ করেন।
''আমি একজন আইনজীবীর সাথে কাজ করি, তাই তার অফিস ব্যবহার করি,'' তিনি বলেন।
একটি বৈঠকের সময় আমাকের ছদ্মবেশে থাকা প্রতিবেদক শাকিলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তানিসাকে অনুরোধ জানান, যাতে তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন। তখন তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে শাকিল তার সাথে করমর্দন করেন।
উরচেস্টার এলজিবিটির সাথে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন তানিসা। ওই সংস্থাকে "আমাদের সংগঠন" বলে তিনি বর্ণনা করেন এবং বলেন, সেখান থেকে সদস্যপদের চিঠি-দৃঢ় প্রমাণ হিসেবে কাজে দেবে।
তিনি বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন সে যেন পরবর্তী বৈঠকে অবশ্যই অংশগ্রহণ করে। সেখানে তার মতো বেশ কয়েকজন রয়েছে যারা এরকম ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এবং ''সেখানে আসল আবেদনকারীও রয়েছে''।
তিনি বলেন, ''এটা করা জরুরি, কারণ স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আপনার প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি আসলেই একজন সমকামী আর আপনি একটি সমকামী গোষ্ঠীরও সদস্য''।
তানিসা দাবি করেন, উরচেস্টার এলজিবিটির পাঠানো চিঠি তিনি তার আবেদনের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
''আমাদের সংস্থা থেকে আপনাকে চিঠি দেওয়া হবে যে, আপনি আমাদের একজন আসল সদস্য, আমাদের সাথে যুক্ত আছেন এবং যাকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এ ধরনের প্রমাণ খুবই শক্তিশালী।''
আমরা ফুটেজ দেখাই ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইমিগ্রেশন আইনজীবী আনা গনজালেজকে। তিনি বলেন, তানিসা স্পষ্টতই আইন ভাঙছেন-"প্রতারণা করে ভুয়া দাবি তৈরি করছেন।"
''এ ধরনের লোকজন সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থী আর শরণার্থীদের জন্য কঠিন করে তুলছে,'' তিনি বলেন।
''বিশেষ করে কোনো ঘটনায় নির্যাতনের শিকার বা ভুক্তভোগী হওয়ার পরেও কোনো না কোনো ঘটনায় হয়তো সেটা প্রমাণ করা যায়। কিন্তু সমকামীদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। এটা নির্ভর করে শুধু কীভাবে আপনি উপস্থাপন করছেন এবং কীভাবে আপনি কতটা তুলে ধরতে পারছেন,'' তিনি বলেন।
গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিবিসি নিউজের পক্ষ থেকে পরে তানিসার কাছে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তানিসা "যোগাযোগগত ভুল বোঝাবুঝি"র কথা বলেন এবং ভুয়া দাবি বা প্রমাণ বানানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন যে, তিনি উর্দু ঠিক মতো বলতে পারেন না।
শাকিল বলেন, তিনি জানতেন না যে তানিসা এমন কিছু করবেন। উরচেস্টার এলজিবিটি জানায়, তারা তদন্ত করছে।
ল অ্যান্ড জাস্টিস সলিসিটরস বলে, তানিসার তাদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক নেই। তাদের লন্ডন অফিসে বিনা অনুমতিতে প্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটা তারা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
আমাদের আন্ডারকভার রিপোর্টার কখনো ওই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ছিলেন না বলে তারা দাবি করে।
একই সময়ে বিবিসির আন্ডারকভার প্রতিবেদক লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে থাকা কননাউট ল'এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আকিল আব্বাসির সঙ্গেও দেখা করেন।
আব্বাস পরামর্শ দেন যে, তিনি আমাদের প্রতিবেদককে এই দেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। এজন্য তিনি ভুয়া দাবির সপক্ষে কাগজপত্র তৈরির পরামর্শ দেন।
আব্বাসি সহায়তার জন্য সাত হাজার পাউন্ড ফি দাবি করেন এবং বলেন যে প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা "খুব কম"।
''অর্থ দেওয়ার পর কীভাবে এবং কী ধরনের প্রমাণপত্র যোগাড় করতে হবে, তার পরামর্শ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সেজন্য কোথায় যেতে হবে বা কী করতে হবে, তার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হবে। তাদের সোসাইটি ও ক্লাব থেকে অবশ্যই প্রমাণ জমা দিতে হবে''।
বিবিসির সংবাদদাতা জানতে চান যে, এরকম একটি সমকামী ক্লাবে তাকে যেতে হবে কি না।
''অবশ্যই, তোমাকে যেতে হবে''।
''কিন্তু আমি তো সমকামী নই''।
আব্বাসি এই কথায় কিছুটা মজা পেয়েছেন বলে মনে হয়। তিনি বলেন, ''আমি সেখান থেকে কিছু ছবি তুলে নেবো''।
এই আইন উপদেষ্টা পরামর্শ দেন, আমাদের প্রতিবেদকের উচিত এমন কাউকে খুঁজে বের করা, যিনি তার পুরুষ সঙ্গী হিসেবে পরিচয় দেবেন।
যখন রিপোর্টার বলেন যে, পাকিস্তানে তার স্ত্রী রয়েছে, আব্বাসি তখন দ্রুত একটি সমাধান বাতলে দেন। তিনি বলেন, এর ব্যাখ্যা হবে পাকিস্তানের তুলনায় যুক্তরাজ্যে অনেক বেশি উদার, ফলে তিনি একজন পুরুষ সঙ্গী নিতে পেরেছেন।
''আপনার জন্য আমরা একটি বিবৃতি তৈরি করে দেবো। যখন সেটা আপনি একবার পাঠ করবেন, তখন আপনি বুঝবেন সেটা কেমন''।
'এটা এক বিশাল সমস্যা'
উরচেস্টার এলজিবিটি প্রতি মাসে সভা আয়োজন করে, যেখানে সারা দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা আসেন, যাদের অনেকেরই আশ্রয় দাবিগুলো ভুয়া বলে মনে হয়।
তবে সমকামী সেজে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের দ্বারা ব্যবহৃত কমিউনিটি গোষ্ঠীর মধ্যে উরচেস্টার এলজিবিটিই একমাত্র নয়।
লুটনভিত্তিক মুসলিম এলজিবিটি নেটওয়ার্ক এর ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া প্রতিষ্ঠাতা এজেল খান বলেন, "এটা এক বিশাল সমস্যা।
"অনেকেই আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপারিশপত্র দেওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু আমি কখনোই তা নিই না। আমার সব কাজ স্বেচ্ছাসেবামূলক"।
তিনি বলেন, কেউ কেউ এমনও বলেছেন, "আমি সমকামী নই, কিন্তু আমি এই দেশে থাকতে চাই"।
কতটি আশ্রয় আবেদন ভুয়া হতে পারে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন।
তবে হোম অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আশ্রয় দাবির ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নাগরিকদের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
২০২৩ সালে যে বছরটির সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায়, এলজিবিটি ভিত্তিতে করা ৩,৪৩০টি আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে প্রায় ১,৪০০টি নতুন আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে।
এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ আবেদন করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা এবং আগের পাঁচ বছরেও প্রতি বছর তারাই এ ধরনের দাবির সংখ্যায় শীর্ষে ছিলেন।
একই বছরে, সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নাগরিকরা ছিলেন মাত্র চতুর্থ। সর্বাধিক সাধারণ নাগরিকত্বের গোষ্ঠী এবং মোট আশ্রয় আবেদনের মাত্র ৬ শতাংশ তাদের ছিল।
যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে এর চেয়ে সাম্প্রতিক কোনো তথ্য নেই।
তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যানবিদরা লক্ষ্য করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে দ্রুত বেড়েছে—এছাড়া শিক্ষার্থী বা কাজের ভিসায় থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
২০২৩ সালে, যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়ার দাবি করা আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশের আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই মঞ্জুর করা হয়েছিল।
আলি (ছদ্মনাম) ২০১১ সালে পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আসেন।
তিন বছর পর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি পরামর্শের জন্য এক আইনজীবীর কাছে যান। আলির ভাষ্য, যুক্তরাজ্যে থাকতে আশ্রয় চাইতে হলে তিনি যে সমকামী, এমন একটি কাহিনি বানাতে আইনজীবী তাকে পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ওই আইনজীবী তাকে "নিজের জিপির কাছে যেতে এবং দেখাতে বলেছেন যে আমি বিষণ্নতায় ভুগছি, বিশেষ করে এই ভিসা সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে"।
আলি আরও বলেন, "আমি আসলে ওষুধ খাইনি, কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ওষুধ সংগ্রহ করতে, যাতে আমরা হোম অফিসে প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারি যে আমি বিষণ্ন অবস্থায় চলে গিয়েছি"।
হোম অফিসের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারটি ভালো হয়নি এবং দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ায় তার খরচ বেড়ে গিয়ে ১০ হাজার পাউন্ডের বেশি হয়ে যায়।
আইনজীবীর নির্দেশে তিনি প্রাইড মিছিলে অংশ নেন এবং ১০ বারের বেশি সমকামী ক্লাবে যান। প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে ছবি তোলেন।
বিবিসি নিউজ এমন প্রমাণও দেখেছে যে, এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের একটি দাতব্য সংস্থা থেকে সমর্থনপত্র পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আলি। তিনি সেখানে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন এবং মিথ্যা বলেছিলেন যে তার এইচআইভি আছে, তবে সেই চেষ্টাও সফল হয়নি।
শেষ পর্যন্ত আইনি খরচ বাড়তে থাকায়, যুক্তরাজ্যে আসার আট বছর পর ২০১৯ সালে তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান।
২০২২ সালে তার স্ত্রী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে এলে, নিজের ব্যর্থ আশ্রয় প্রচেষ্টার কারণে আলি তার সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।
তবে আলি আমাদের জানান, তার তিন বন্ধু নিজেদের যৌন পরিচয় নিয়ে মিথ্যা বলেও আশ্রয় পেতে সফল হয়েছেন।
তিনি বলেন, "তারা এমনকি পাকিস্তানে বিয়ে করেও স্ত্রীদের এখানে এনেছে, এখন তাদের সন্তানও আছে"।
আরও কঠোর নিয়ম
হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির সদস্য লেবার এমপি জো হোয়াইট বলেন, বিবিসির অনুসন্ধানে যেসব আইন সংস্থা ও উপদেষ্টার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে অবশ্যই "কড়াকড়ি ব্যবস্থা" নিতে হবে।
ব্যাসেটল'এর এমপি জো হোয়াইট বিবিসি রেডিও ফোর এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেন, তিনি চান পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করুক।
তিনি বলেন, "সরকারের জন্য এটা একেবারেই অপরিহার্য যে তারা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের প্রমাণ আমি আশা করি সরাসরি পুলিশের কাছে যাবে এবং পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করে পুরো বিষয়টি ভেঙে দেবে"।
তিনি আরও আহ্বান জানান, পাকিস্তান থেকে আসা লোকজনকে শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া বন্ধ করতে হোম অফিস যেন পদক্ষেপ নেয়—যেমনটি গত মাসে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান থেকে আসা নাগরিকদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল, যেখানে সরকার ব্যাপক ভিসা অপব্যবহারের কথা বলেছিল।
কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেন, বিবিসির অনুসন্ধান "অনেক আশ্রয় দাবির কেন্দ্রে থাকা প্রতারণা উন্মোচন করেছে", এবং চিহ্নিত আইন উপদেষ্টাদের "অভিবাসন জালিয়াতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত"।
তিনি যোগ করেন, "পুরো ব্যবস্থাটাই পচে গেছে"।
"আশ্রয় ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন করে সাজাতে হবে, যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও ব্যক্তিগত নিপীড়নের শিকার খুব অল্পসংখ্যক মানুষ,যাদের দাবির পক্ষে বাস্তব প্রমাণ আছে, তারা যেন আশ্রয় পায়।আর অবৈধ অভিবাসীদের একেবারেই আশ্রয় চাইতে দেওয়া উচিত নয়।"
রিফিউজি কাউন্সিলের বহির্বিষয়ক পরিচালক ইমরান হুসাইন বলেন, "লাভের আশায় অসাধু উপদেষ্টারা যখন হতাশ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের শোষণ করেন, তা নিন্দনীয় এবং যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন আমাদের সামনের সারির সেবায় আমরা উগান্ডা ও পাকিস্তানের মতো দেশ থেকে আসা এলজিবিটিকিউ প্লাস শরণার্থীদের সঙ্গে কাজ করি, যারা কেবল তারা যেভাবে জন্মেছেন সেই কারণেই কারাবন্দি, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং নিরাপদ ও খোলামেলা জীবন যাপনের জন্য ব্রিটেনে এসেছেন।''
''এই ধরনের অপব্যবহার যেন প্রকৃত আশ্রয়ের প্রয়োজন থাকা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করতে ব্যবহার করা না হয়।"
বিবিসির অনুসন্ধান নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেন, "ব্রিটিশ জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি বিশাল অপরাধের সঙ্গে জড়িত বহু মানুষ আছে। রিফর্ম ক্ষমতায় এলে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।"
হোম অফিস জানায়, প্রতারণা যুক্ত কোনো আশ্রয় আবেদন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।এরপর তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।
এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, "যৌন পরিচয়ের কারণে প্রকৃত নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সুরক্ষার জন্য তৈরি ব্যবস্থার অপব্যবহারের যেকোনো চেষ্টা নিন্দনীয়।
আশ্রয় ব্যবস্থা শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যাতে প্রতিটি দাবি কঠোর ও ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করা হয়।''
''শুধু যেসব ব্যক্তি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেন, তারাই সুরক্ষা পান। অপব্যবহার সক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয় এবং তা বন্ধ করতে নিয়মিতভাবে পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়।"
মার্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এর ফলে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের এখন কেবল অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং তাদের মামলাগুলো প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে।
এক দিন পর, আমাদের আন্ডারকভার প্রতিবেদকের সঙ্গে এক বৈঠকে তানিসা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এসব পরিবর্তনের পরও সাজানো প্রমাণের ভিত্তিতে আশ্রয় পাওয়া কোনোভাবেই কঠিন হবে না।
তবে তিনি প্রতিবেদককে নিজের আবেদন দেরি না করতে চাপ দেওয়ার জন্য বিষয়টি ব্যবহার করেন।
তিনি সতর্ক করেন, "ওরা এটা এখন করেছে। কে জানে—আগামীকাল বা তার পরদিন আর কী করবে?"
বৈঠকের শেষ দিকে পরিবেশ কিছুটা হালকা হলে, নিজের 'ক্লায়েন্ট'-এর কাছে তানিসার একটি অনুরোধ ছিল।
"ভবিষ্যতে তোমার পরিচিত কারও সাহায্য লাগলে—তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, তাই না?"
-
স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান
-
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক
-
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন ৭ মে
-
বড়লেখা ফ্রেন্ডস ক্লাব ইউকে-র এজিএম ও দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
-
প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতির দাবি - জিএসসির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন