ঢাকা ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে? ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন? কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে প্রাণ গেল আরও এক বাংলাদেশির বুয়েটে আবার নির্যাতনের ঘটনা : সেহরি খেতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় হস্তান্তর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনিপুত্র মোজতোবা খামেনি, ট্রাম্প কী করবেন? লন্ডনে 'লতা দিয়া ফতা': সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ব্যতিক্রমী সেহরি আয়োজন ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলো ভারত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান আসামী মুশফিকুল ফজলসহ ইউনূস-সরকারের নিয়োগকৃত ৪ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ইমিসহ তিনজন কারাগারে মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন সৌদি আরবে দুই দফা ড্রোন হামলা, আকাশসীমায় সতর্কতা লন্ডনে হাই কমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’ এর খরব দিলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে আটক ঢাবির সাবেক ছাত্র, সাউন্ড বক্স জব্দ ৭ই মার্চে ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে আটক ৪ জন অবৈধ অভিবাসী দেশে ফিরলে মিলবে ১০ হাজার পাউন্ড এবার তেহরানে প্রাইমারি স্কুলে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শমসের নগর ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ইফতার ও দোয়া মাহফিল রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে'র ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে  যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেল এফবিআই ইরানকে সময়ের আগেই ‘ধ্বংস’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, পাল্টা হুংকার স্টেপনি শাহজালাল মসজিদ নির্মাণ কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন: জরুরি প্রয়োজন £৭০০,০০০ খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

নববর্ষের মতো বছরের প্রতিটা দিন হোক আনন্দের

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৩৩ পিএম

নববর্ষের মতো বছরের প্রতিটা দিন হোক আনন্দের

ছোট থাকতে একটা কথা শুনতাম সব সময়-- বছরের প্রথম দিন যা যা করবো তাই নাকি সারা বছর করে যেতে পারবো। তাই তখন চেষ্টা করতাম বছরের প্রথম দিন অনেক ভালো ভাবে চলতে। বিশেষ করে কারো সাথে মিথ্যা কথা না বলা, মারামারি না করা, কাউকে মনে কষ্ট না দেয়া। যতটুকু সম্ভব ভালো খাবার দাবার খাওয়া (বছরের প্রথম দিন ভালো খেলে সারা বছর ভালো খাবো এই চিন্তায়), বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। যতই বড় হতে লাগলাম ততই উপলব্দি করতে থাকলাম যে বছরের প্রথম দিন ভালো ভাবে চললেই সারা বছর ভালো ভাবে চলবো এই গ্যারান্টি নাই। বরং নিজেকে প্রতিটা দিন বছরের প্রথম দিন ভেবেই ভালভাবে চলার চেষ্টা করাটাই অনেক ভাল কাজ।

  • সরকারি হিসেবে বছরের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল হলেও আমরা হিন্দু ধর্মের লোকেরা ওই দিন চৈত্র সংক্রান্তি (পঞ্জিকার হিসেবে) পালন করে থাকি। সে হিসেবে ১৪ তারিখ নিরামিষ খেতে হয়। ছোট সময় আমরা ঘুরতে গিয়ে বাইরে কিছু খেতাম না । একটা কথা বড়রা বলতেন আমাদেরকে, চৈত্র সংক্রান্তির দিন মাছ মাংস খেলে নাকি সেগুলো কিড়ার সমান হয়!! বড় হয়ে অবশ্য বুঝতে পারলাম সেদিন মাছ মাংস না খাওয়ার জন্যই এইসব বলে ভয় দেখাতেন আমাদের কে ঠিক যেমন স্বরস্বতি পূজার আগে বরই খেলে পড়ালেখায় ভাল হবে না বলে ভয় দেখাতেন (বরই কাঁচা খেয়ে পেট খারাপ হতো, কাঁশি হতো তাই বাচ্চাদেরকে এই ভয় দেখানো হতো) এভাবেই।

যাই হোক আমরা প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তির মেলায় যেতাম কানিহাত নামের একটা গ্রামে যেটা আমাদের গ্রাম থেকে ২ কি.মি. এর মতো দূরে। সেখানে সাড়াদিন কত আনন্দ করতাম আর পাশেই ছিল আমাদের পিশির বাড়ি যখন পেটে খিদা লাগতো সাথে সাথে পিসির ঘরে গিয়েই খেয়ে নিতাম। চৈত্র সংক্রান্তির দিন পিসির বাড়িতে বলতে গেলে বরযাত্রীর মতো অবস্তা হতো সেই দিনে। আত্মীয় স্বজন সবাই মোটামুটি উনাদের ঘরে খেতাম তাই মেলার দিন পিশি রান্নাবান্না নিয়েই ব্যাস্ত থাকতেন। আমার মনে হয় না উনি কখনোই মেলা দেখেছেন!! রান্না নিয়েই উনার দিন শেষ হয়ে যায়। মেলায় কত ধরনের খেলনা কিনতাম, খাবার খেতাম।

বড় হয়ে যখন কলেজে গেলাম তখন ধরণটা পাল্টে গেল। ১৪ তারিখ ঘুরতে যেতাম তবে চৈত্র সংক্রান্তির মেলায় নয় নববর্ষের মেলায়। এমসি কলেজ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, এডভ্যাঞ্চার ওয়ার্ল্ড, ড্রীমল্যান্ড পার্ক সহ অনেকে যায়গাতেই ঘুরতে যেতাম। কত আনন্দ। তখন আর নিরামিষের ধার ধারতাম না। জাতীয়তা বোধ টাই আগে। তাই ধর্মীয় রীতিতে বাড়িতে নিরামিষ আর নিজের সংস্কৃতি মেনে বাইরে গেলেই ইলিশ, শুটকি, চটপটি আর ফুচকা খেয়ে পেটের বারটা বাজিয়ে দিতাম।

আমাদের জীবনের প্রতিটা দিন হোক আনন্দের ঠিক নববর্ষের মতো। সকল অশুভ শক্তির বিনাস হোক, মুছেযাক সকল কুসংস্কার, বাঙ্গালী জাতির ঐতিহ্য সংস্কৃতি চির অমর হয়ে থাকুক আমাদের সকল প্রজন্মের অন্তরে। আমরা যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারি সেই দিকেই বেশী নজর দেওয়া প্রয়োজন। পারিবারিক ভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস তুলে ধরলেই কোন অশুভ শক্তি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধংস করতে পারবেনা।