আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র পরিচালনার অভিযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে জোবাইদুল আমিন (২৮) নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল ৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এফবিআই ও তাদের মার্কিন অংশীদারদের যৌথ অভিযানে জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০২২ সাল থেকে পলাতক ছিলেন।
এফবিআই পরিচালক তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, জোবাইদুলকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে আদালতে মুখোমুখি হতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় মালয়েশিয়া সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান এফবিআইয়ের পরিচালক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র পরিচালনার অভিযোগে ৫ মার্চ ডিস্ট্রিক অব আলাস্কার আদালতে এক বাংলাদেশিকে হাজির করার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুলকে অভিযুক্ত করে। আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান এবং বিদেশে শত শত শিশুকে নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জোবাইদুল ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করতেন। পরে তাদের দিয়ে যৌনতামূলক ছবি ও ভিডিও তৈরি করাতে বাধ্য করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ দায়েরের আগে জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জোবাইদুলের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখা এবং তা তৈরির অভিযোগ আনে।
জোবাইদুলের বিষয়ে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছিল। পরে ৪ মার্চ তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জোবাইদুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ২০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।