ঢাকা ২৯ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ২৯ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
ঢাকায় টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক, শরীয়তপুরে জামায়াত কর্মীর ২ বছরের জেল ভোটের ফল জানা যাবে কখন? এবার মুরাদনগরে টাকা বিতরণকালে জামায়াত নেতা আটক এক নজরে : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা নিবন্ধন করেও ভোট দেন ৩২.৮%  প্রবাসী বিশ্বকাপের বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত আসলে কার? শিক্ষানুরাগী, সংগঠক ও শালিস ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান (সেক্রেটারি)-র ইন্তেকাল ড. ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে, দেড় বছর পর সম্পদের হিসাব দিলেন উপদেষ্টারা ভোটের ফল যাই হোক, জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহবান প্রধান উপদেষ্টার যে কোনো সময় ‘সরে দাঁড়াতে’ চান ঢাবির উপাচার্য ভোটকেন্দ্রে কারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না, জানালো ইসি সিলেট-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থীর গুরুতর অভিযোগ কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন রটারডাম উৎসবে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি সিনেমা ‌‘মাস্টার’ বিএনপির সময়ে দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’: নির্বাচনি ইশতেহারে ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক হোয়াইটচ্যাপেল স্পোর্টস সেন্টারে উদ্বোধন হলো নতুন সৌনা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ ধানের শীষের প্রচারণায় আ’লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী র‍্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক: : তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন 

১৯ দিনে ৬৪ জনসভা: কী বার্তা দিলে তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম

১৯ দিনে ৬৪ জনসভা: কী বার্তা দিলে তারেক রহমান
তারেক রহমান

নেতা বক্তৃতা দেবেন, সমর্থকেরা হাততালি ও স্লোগান দেবেন—নির্বাচনী জনসভার এই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের ভিন্নধর্মী কৌশল নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রচারণায় পাশে রেখেছেন স্ত্রী ও মেয়েকেও। নিজেকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে তুলে ধরে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

‘আমি তোমাদেরই লোক’—বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে এই বার্তাই ছিল তাঁর প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে এ কৌশলের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধেও বয়ান দাঁড় করিয়েছেন।

জনসভায় সংলাপের নতুন ধারা

তারেক রহমান কখনো দর্শকসারি থেকে কাউকে মঞ্চে ডেকে এনেছেন, কখনো মঞ্চ থেকেই সরাসরি প্রশ্নোত্তর করেছেন। এলাকার সমস্যা শুনেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পাল্টা প্রশ্ন করেছেন—আলোচনায় যুক্ত করেছেন পুরো জনসভাকে।

১০ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রচারণা শেষ হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি দেশজুড়ে অন্তত ৬৪টি জনসভা করেছেন। সপরিবার প্রচার চালিয়েছেন। প্রচারের জন্য বিশেষভাবে সাজানো বাসে বিভিন্ন এলাকায় গেছেন, কয়েকটি স্থানে গিয়েছেন হেলিকপ্টারেও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয় ২২ জানুয়ারি। ওই দিন সিলেটের জনসভায় প্রচারণার উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানেই প্রথম দর্শকসারি থেকে একজনকে মঞ্চে ডেকে কথা বলান—যা উপস্থিত জনতার মধ্যে সাড়া তোলে।

সিলেটের জনসভায় আলোচিত সংলাপ

সিলেটের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, তিনি উপস্থিত মানুষকে একটি প্রশ্ন করতে চান। এরপর এমন একজনকে খুঁজে বের করেন, যিনি পবিত্র হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন। অনেকেই হাত তুললে তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। জানতে চান, তাঁর বাড়ি কোথায়। উত্তরে আসে—সুনামগঞ্জ। তখন তিনি জনতার উদ্দেশে জানতে চান, সুনামগঞ্জের কেউ উপস্থিত আছেন কি না। শত শত মানুষ হাত তোলেন।

এরপর শান্তিগঞ্জের যুবক এ টি এম হেলালের সঙ্গে মাইকে কথোপকথন শুরু হয়। তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, বেহেশত-দোজখের মালিক কে? হেলাল উত্তর দেন, “আল্লাহ।” তখন তারেক রহমান জনতার কাছে প্রশ্ন করেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? সমস্বরে উত্তর আসে, “না।”

যোগাযোগবিদদের মতে, একজন ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিকে সংলাপে যুক্ত করে তিনি ধর্মভিত্তিক প্রচারের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিয়েছেন।

তরুণ ভোটার ও ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের বড় লক্ষ্য তরুণ ও নতুন ভোটাররা—যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং একমুখী বক্তৃতার চেয়ে সংলাপভিত্তিক যোগাযোগে অভ্যস্ত। একতরফা বক্তব্যের বদলে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া তাঁদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, জনতার মধ্য থেকে মানুষকে মঞ্চে ডেকে নেওয়া নতুন রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “যে নেতা সরাসরি সমস্যার কথা শোনেন বা শোনার আগ্রহ দেখান, তাঁর দ্বারাই এর সমাধানের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মানুষ মনে করে।”

বৈশ্বিক নজির ও রাজনৈতিক কৌশল

এ ধরনের কৌশল বৈশ্বিক রাজনীতিতেও দেখা যায়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির প্রচার ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ। বারাক ওবামা ‘টাউন হল মিটিং’-এ সরাসরি প্রশ্নোত্তর করতেন। এমানুয়েল মাখোঁও খোলা সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলেন, পুরোনো দিনেও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ও তরুণ ভোটারের উপস্থিতি এই কৌশলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “আমার ধারণা, এ দুটি বিষয় উনি সমানভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।”

রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রার্থিতা

৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০২ সালে হন যুগ্ম মহাসচিব। গত মাসে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি চেয়ারম্যান হন। যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন পাঁচ দিন আগে।

এই প্রথম তিনি কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

শান্তি, সহনশীলতা ও আত্মসমালোচনা

দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানোর কথা বলছেন। ২৫ ডিসেম্বর সংবর্ধনায় বলেন, “যেকোনো মূল্যে উসকানির মুখে শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যেকোনো ধর্ম, শ্রেণি, দলের মানুষ হই—আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা শান্তিশৃঙ্খলা ধরে রাখব।”

চট্টগ্রামে ২৫ জানুয়ারির জনসভায় বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীর সমালোচনা করে জনগণের উপকার হবে না।

প্রচারের শেষ দিকে বিটিভিতে ভাষণে তিনি বলেন, “অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে... সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ

প্রচারণায় স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে পাশে রেখেছেন তিনি। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। যোগাযোগবিদদের মতে, নিজেকে দায়িত্বশীল স্বামী ও পিতা হিসেবে তুলে ধরা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল।

শেষ কথা

১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের কাছে তাঁর প্রচারকৌশল ও বার্তা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে—তা নির্ধারণ করবে ১২ ফেব্রুয়ারির গণরায়।