আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে স্পষ্ট বিধিনিষেধ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সমালোচনার পর ইসি পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে মাত্র পাঁচ শ্রেণির মানুষই মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবেন। তারা হলেন:
-
সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
-
কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা
-
‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন অনুমোদিত আনসার সদস্য
-
নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত দেশি ও বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক (নীতিমালা ২০২৫ অনুসারে)
-
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট এবং সাধারণ ভোটার
তবে ভোটকেন্দ্রে কাজ করা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের মোবাইল সঙ্গে রাখার অনুমতি নেই। একইভাবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও (নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও অনুমোদিত আনসার সদস্য ব্যতীত) এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য।
ইসি আরও জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কোনো ব্যক্তি—ভোটার, কর্মকর্তা বা প্রার্থী—গোপন কক্ষে মোবাইল ব্যবহার বা ছবি তুলতে পারবেন না।
এর আগে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল বহনের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করে ইসি জানিয়েছে, ভোটের দিন সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং ভোটাররা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন,
“আমরা বিষয়টি সংশোধন করেছি। ভোটার ও প্রার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও পারবেন। তবে যেখানে স্ট্যাম্পিং হয়, সেই গোপন কক্ষে ছবি তোলা যাবে না। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের কাছে মোবাইল রাখা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সদস্য ছাড়া সবার জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকবে।”