ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি আশা করছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। তবে সাবেক নির্বাচন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধারণা, পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় এবার দুটি ব্যালট পেপার গণনা করতে হবে। পাশাপাশি রয়েছে পোস্টাল ব্যালট গণনার বিষয়টিও।
কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আসনভিত্তিক একীভূত ফল প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, “ফলাফল ঘোষণা ইনশাল্লাহ আমরা যথাশীঘ্র সম্ভব নির্বাচনের পরপরই হয়ে যাবে আশা রাখি। ১৩ তারিখ দিনের প্রথম ভাগেই হয়তো ফলাফল ঘোষণা করা যাবে আমরা আশা করছি।”
ইসি সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ আশা করছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যেই গণনা শেষ হবে।
তিনি বলেন, "রেজাল্ট ডিলে হওয়ার কোনো কারণ নাই। প্রতিটা ব্যালট গণনা হবে। ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১০টায় গণনা শেষ হবে।”
ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে—এ বিষয়টি গত ২৩ জানুয়ারিতেই স্পষ্ট করেছিলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেছিলেন, “এবার ভোটাররা দুটো ব্যালটে ভোট দেবেন। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের গণনা রয়েছে। এ কারণে গণনায় এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে।”
একাধিক আসনের ফল একসঙ্গে এলে তা প্রকাশে রিটার্নিং কর্মকর্তার কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে গণভোট, সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগবে গণনার ক্ষেত্রে; এই জিনিসটা আমাদের সবাইকে একটু বিবেচনায় রাখতে হবে। সেন্টারের গণনা আগে হয়ে যাবে, কিন্তু রিটার্নিং অফিসারের কাছে যে কেন্দ্রটা (পোস্টাল ব্যালট) ওটার গণনার সময় লাগবে। আর একজন রিটার্নিং অফিসারের কাছে যদি একাধিক আসন থাকে, তাহলে আরও কিছুটা বেশি সময় লাগবে।”
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মঙ্গলবার বলেন, সংসদ ও গণভোটের ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রেও ভোট গণনা একযোগে শুরু হবে এবং ফলও একসাথেই প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, “গণনা কার্যক্রম একই সঙ্গে শুরু হবে। তা না হলে দেখা যাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পাওয়ার পরে এজেন্টার দৌড় মেরে চলে গেছেন, আর কেউ থাকবে না। আবার যদি আপনি গণভোটের ফলাফল আগে ঘোষণা করেন, অস্থিরতা তৈরি হবে বাইরে। আমরা দুটোর কোনটাই করতে চাই না একসাথে।”
১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোটের ফল প্রকাশে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এবার সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটিতে। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন,
“আসলে ইলেকশন কমিশন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে ফল পরদিন বিকালের দিকেই আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আছে।
“কারণ এমনিতে নরমালি পরের দিন সকাল ১০টার দিকে অনেক আসনের সব রেজাল্ট চলে আসবে। হয়তো শুক্রবার বিকাল বেলা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ফলাফল ঘোষণা করতে।”
দেশে সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সে সময় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি একাধিক সংসদ নির্বাচনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, “১৯৯১ বর্তমানে জনসংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। আর যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলা এটাতে (গণভোটে) ইনভলভ, তারা কোমরে গামছা দিয়া কাজে নেমেছে। তাই এবারে হয়তো ভোট বেশি পড়বে। এগুলো একই বাক্সে পড়লে আপনাকে আগে আলাদা করা লাগবে। আলাদা করতেও তো সময় লাগবে। প্রত্যেকটা ব্যালট খুলে দেখে আলাদা করতে হবে।”
সাধারণত সংসদ নির্বাচনের ফল গণনায় মধ্যরাত পর্যন্ত সময় লেগে থাকে—এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, ধরেন প্রতিটা কেন্দ্রে আপনার হয়তো ২-৩ ঘণ্টা বা ৩-৪ ঘণ্টা বেশি সময় লাগতে পারে। একেবারে সব শেষ হইতে হয়তো শুক্রবারে বিকাল বা দুপুর পর্যন্ত লাগতে পারে। এরপর ফল জানা যাবে।”