ঢাকা ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
মেটারনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম ও ফান্ডরেইজিং নিয়ে রুকন ফাউন্ডেশনের সভা যুক্তরাজ্যের সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন সেপ্টেম্বরে আবারও গরমের দাপট, সোমবার লন্ডনে ২৫ ডিগ্রি যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েট চাকরির শূন্যপদ নেমেছে এক দশকের সর্বনিম্নে লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও ১০০ আবেদনে চাকরি নেই ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি কোলা বাড়বে ৩.৫% রিফর্ম ইউকেকে রেকর্ড ৩৬০ কোটি টাকার অনুদান ক্রিপ্টো ধনকুবেরের এবার সরাসরি আরব আমিরাতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বিবিসিসিআইয়ের যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য নতুন কর্মঅভিজ্ঞতা প্রকল্প 'ওপেনিং শিফট' চালু যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স আশ্রয় চুক্তি: শত শত আশ্রয়প্রার্থীর হদিস নেই, শঙ্কায় শিশুরাও পর্যটন কর নিয়ে যুক্তরাজ্যে ভীতি, প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ২৫ মিনিট করতালি: কী আছে এই এআই-হত্যা প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’য়! ইংল্যান্ডের হাসপাতালে অপেক্ষমাণ তালিকা ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ BFF সুপার কাপ ২০২৬: ১৩ সেপ্টেম্বর মাঠে নামছে ১৬ দল, গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, YES প্রোগ্রামের বিস্তারিত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা সহজ করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ ডিমেনশিয়া রোগীর কেক লাগবে না বলায় বরখাস্ত কেয়ার নার্স, প্রকাশ পেল এনএইচএসের অপেক্ষমাণ তালিকার নতুন চিত্র ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতালি বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ইতালিতে ডাকাত রুখতে গিয়ে আহত বাংলাদেশিসহ ৪ ৫ বছরের ILR নিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাজ্য শিশুদের ফোনে অশ্লীল ছবি ঠেকাতে অ্যাপল-গুগলকে আইনে বাধ্য করছে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ: ফের দলীয় মনোনয়ন পেলেন আবুল খান লন্ডনে বিবিসিসিআই’র ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ৩,২০০ ডলারের আইফোন ‘ডুয়ো’ কিনতে কোন দেশের মানুষের কত মাসের আয় প্রয়োজন? আইপ্যাডের মতো খোলে, আইফোনের মতো ভাঁজ হয়-অ্যাপলের নতুন চমক 'ডুয়ো' বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত বিবিসির পরিচিত মুখ মরিয়ম মোশিরি যুক্তরাজ্যে স্থায়ী চাকরিতে নিয়োগে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ইতালিতে দলবদ্ধ হেনস্তায় কঠোর সাজা ও পারমিট বাতিলের বিধান

করোনা এক প্রতিপক্ষ ; যার কোনও এলওসি নেই

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২০, ০৭:২৩ পিএম

করোনা এক প্রতিপক্ষ ; যার কোনও এলওসি নেই
বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই! নিত্যদিন বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাড়ছে ভারতেও। সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। উন্নত, অনুন্নত দেশ বলে কথা নেই। কোবিড-১৯ কাউকে রেয়াত করছে না! সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে স্বনামধন্য চিকিৎসক, করোনার রোষানল থেকে বাঁচতে পারছেন না কেউই। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত-- সকলেই করোনার নেটওয়ার্কের মধ্যেই পড়েন। মাটির কাঁচা ঘরে যেমন করোনার অবাধ প্রবেশাধিকার, তেমনই পঞ্চাশ তলাবিশিষ্ট সুরম্য প্রাসাদেও অবাধ প্রবেশাধিকার। আম জনগণের ক্ষেত্রে করোনার যেমন রক্তচক্ষু, তেমনই রক্তচক্ষু জাঁদরেল সরকারি আধিকারিক থেকে মন্ত্রীর প্রতিও। কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ কাজে লাগছে না। যাঁকে যখন ইচ্ছে টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতাল নামক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার পরোয়ানা জারি করে। কাউকে অব্যাহতি দিচ্ছে, আবার কাউকে মৃত্যুদণ্ড! বিশ্বে এখন করোনা-ই একমাত্র পরাশক্তি, যার বিরুদ্ধে অস্ত্র-হাতে লড়াই করার মতো ধৃষ্টতা কারও হয়নি। করোনার একাধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার সঠিক রণ-কৌশল এখনও আবিষ্কৃত হয়নি শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, করোনা ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-ভূগোল দেখে কাউকে আক্রমণ করেনি কোথাও। করোনা প্রয়োজনে ছদ্মবেশ ধরলেও মুখোশধারী মানুষের মতো ছদ্মবেশী নয়। জীব কুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত মানুষ একটি অদৃশ্য জীবাণুর কাছে কত অসহায়, বিপন্ন। আক্রান্তরা সব নিকটজন থাকা সত্ত্বেও কত একা, সকলেই যার যার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, কারও কাছে ঘেষার অবকাশ নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সেভাবে মানুষের কাজে লাগছে কোথায়! এক অর্থে বিজ্ঞানও অসহায়। বৈজ্ঞানিক বক্তব্য বলে যা যা জনমনে প্রচার করা হচ্ছে, তারও কোনও সঠিক ভিত্তি নেই। একবার বলা হচ্ছে, উপসর্গহীনদের মাধ্যমে সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই, পরদিন আবার বলা হচ্ছে, সংক্রমণের আশঙ্কা আছে। একবার বলা হচ্ছে, শীতপ্রধান অঞ্চলে করোনার প্রভাব বেশি, তো আরেক বার বলা হচ্ছে, গরমপ্রধান অঞ্চলেও তার প্রভাব সমান। একবার বলা হচ্ছে, কোয়ারিন্টাইনে থাকতে হবে চৌদ্দ দিন, আবার বলা হচ্ছে তার দ্বিগুণ। এভাবে, বিজ্ঞানও মানুষকে সঠিক দিশা দেখাতে ব্যর্থ, না-হলে কোটি কোটি টাকার মালিক যাঁরা, যাঁদের চিকিৎসার ব্যয় সংকুলান করার মতো কোনও আর্থিক সংকট নেই, তাঁরা সংক্রমণে মারা যাবেন কেন। খ্যাতনামা চিকিৎসকরা সংক্রমণে মারা যাবেন কেন! তাঁদের মৃত্যুর জন্য তো আর্থিক দৈন্যতা দায়ী নয়। সুচিকিৎসার অপ্রতুলতা দায়ী নয়। আসলে, করোনা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সচেতনতা-ই বাঁচার একমাত্র পথ। কিন্তু করোনাকে একদিকে 'আমন্ত্রণ' করা হবে, আর অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে 'জেহাদ' ঘোষণা করা হবে, এ হয় না। এ তো কোনও তথাকথিত 'শান্তি চুক্তি' নয়। একদিকে শান্তির পায়রা ওড়ানো হবে, আরেক দিকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে বেঘোরে হত্যা করা হবে। কোবিড-১৯ এমনই প্রতিপক্ষ, যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। এ কে ফোরটি সেভেন তাক করে অবলীলায় হত্যা করা যায় না। বোমা নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা যায় না। ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যায় না তাকে লক্ষ্য করে। এমন সম্ভব হলে আমেরিকাসহ ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলো এতো দিনে করোনার বিরুদ্ধে বিজয় হাসিল করে নিত। প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্য, কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী, কোথাও তাকে প্রতিহত করার সাধ্য কারও নেই, তার নেই কোনও এলওসি। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণরেখা--- করোনার কাছে ভারত-পাকিস্তান-চিন-নেপাল-বাংলাদেশ বলে আলাদা কোনও রাষ্ট্রীয় সীমা নেই। সমগ্র বিশ্বব্যাপী তার রাষ্ট্র একটিই। আর সেই রাষ্ট্রের অঘোষিত কর্ণধার করোনা নিজেই। তাকে প্রত্যাহ্বান করার শক্তি কারও নেই। আমেরিকার মতো তথাকথিত পরাশক্তিরও নেই। নেই বিজ্ঞানেরও। করোনা নিজেই একটি পরাশক্তি। তাই, তাকে 'পরাজিত' করার চেয়ে তাকে প্রতিরোধ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমেরিকা-ইউরোপের উন্নত রাষ্ট্রগুলো যখন করোনার চ্যালেঞ্জ নিতে অক্ষম। তখন আমাদেরও উচিত, আলগোছে থাকা, করোনাকে 'প্রতিদ্বন্দ্বী' না ভেবে, 'সমকক্ষ' না ভেবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়া।